মহিলা বন্দী এবং সন্তান

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মহিলা বন্দী এবং সন্তান

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৪৫ ।

মহিলা বন্দীদেরকে পুরুষ বন্দী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে, এবং যদি সম্ভব হয় বিচারাধীন মহিলা বন্দীদেরকে সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। মহিলাদেরকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরুষ ওয়ার্ড থেকে দেখা না যায়; মহিলাদের জন্যে মহিলা বেষ্টনী এলাকায় বা তৎসংলগ্ন এলাকায় আলাদা হাসপাতাল থাকবে। মহিলাদেরকে কারাগারের অফিসে ডাকা যাবে না। তাদের সকল তদন্ত ও ভেরিফিকেশন জেলার কর্তৃক মহিলা বেষ্টনীতে করতে হবে।

বিধি-৯৪৬।

সেলে শাস্তি হিসাবে ব্যবহারের জন্য এবং বিচারাধীন মহিলা-বন্দীদেরকে আলাদা রাখার জন্য প্রত্যেক কারাগারের মহিলা বিভাগে যথেষ্ট সংখ্যক সেল স্থাপন করতে হবে। যদি সেল খালি থাকে, একজন বিচারাধীন মহিলা-বন্দীকে তার আগ্রহ অনুসারে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের পরিবর্তে সেলে রাখা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, ৯৫৪ বিধি মোতাবেক প্রহরা মেনে চলতে হবে।

বিধি-৯৪৭।

স্থান সংকুলান সম্ভব হলে দীর্ঘ মেয়াদী অভ্যাসগত ব্যতীত, যে মেয়াদেরই হোক সকল মহিলা সাজা প্রাপ্ত বন্দীকে নিজ জেলা কারাগারে রাখতে হবে। তবে যে সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীর সাথে ছোট সন্তান আছে তাদের সন্তানকে কোন আত্মীয় স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর না করে ঐ সব সাজাপ্রাপ্ত মহিলা-বন্দীকে সাধারণত কেন্দ্রীয়-কারাগারে-স্থানান্তর করা যাবে না ।

বিধি-৯৪৮।

যখন কোন কারাগারে মাত্র একজন মহিলা-বন্দী থাকে এবং সেখানে যদি কোন মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে জেল সুপার সে মহিলা-বন্দীর একজন পরিচিত মহিলাকে তার সাথে কারাগারে থাকার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। যদি ঐ মহিলার সাথে থাকার জন্যে এরূপ নিজস্ব কোন মহিলা না থাকে, তবে জেল সুপার নিজেই একজন মহিলাকে সাময়িক ভাবে কারারক্ষীর দায়িত্বে নিয়োজিত করে কারা মহাপরিদর্শকের ঘটনাত্তোর অনুমোদন গ্রহণ করবেন।

বিধি-৯৪৯।

কোন মহিলা-বন্দীকে কোন কারণেই কারাগারের মহিলা বেষ্টনী এলাকা ত্যাগ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-৯৫০।

কারাগারের কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন কারণেই মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় একাকী প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কোন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোন কাজে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে হয়, তা হলে একজন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাতে কোন কাজে প্রবেশ করার প্রয়োজন হলে কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী এবং জেলার দুজন এক সঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৯৫১।

কোন পুলিশ অফিসার কোন মহিলা-বন্দীর হাত বা পায়ের ছাপ বা দৈহিক পরিমাপ নেয়ার প্রয়োজনে একজন ডেপুটি জেলার এবং মেট্রনের উপস্থিতিতে মহিলা-বন্দীদের বেষ্টনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।

 

বিধি-৯৫২।

কারাগারের মহিলা বিভাগের চাবি দিনের বেলায় মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষীর নিকট থাকবে, লক আপের পর জেলারের নিকট দিয়ে দিতে হবে। রাত্রে সেল খোলার জন্য বিধি ২৯৩ এবং ৯৫৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯৫৩।

মহিলা বিভাগের সেল ও ওয়ার্ডের তালা কারাগারের অন্য অংশ অপেক্ষা ভিন্ন রকমের হবে এবং একই রকমের চাবি মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের তালা খোলার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। যদি কারাগারে কোন মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী না থাকে, তবে দিনের বেলায় কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষীর নিকট মহিলা ওয়ার্ডের চাবি থাকবে; তিনি জেল সুপার এবং ভিজিটরের সঙ্গে ব্যতীত মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ করবেন না। বয়স্ক রক্ষীকে এ কাজের জন্য দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

বিধি-৯৫৪।

যদি মহিলা বেষ্টনীতে সেলে কাউকে আটক রাখা হয়, তা হলে রাতের বেলায় একজন মহিলা কর্মচারী এবং দিনের বেলায় মহিলা কয়েদী কর্মচারীকে বন্দীর শ্রবণ সীমার মধ্যে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হবে। মহিলা কর্মচারী না থাকলে মহিলা-বন্দীকে সেলে রাখা যাবে না, সে ক্ষেত্রে তাকে অন্য কোন কারাগারে প্রেরণের জন্য কারা মহা পরিদর্শককে অনুরোধ জানাতে হবে।

বিধি-৯৫৫ ।

রান্নার কাজে নিয়োজিত মহিলা কয়েদী কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোন মহিলা-বন্দীকে নিজের জন্য রান্না করার অনুমতি দেয়া হবে না। রান্নাকৃত খাবার তাদের ওয়ার্ডে একজন কয়েদী বাবুর্চী এবং দায়িত্বরত কারারক্ষীসহ সরবরাহ করবে। মহিলা ওয়ার্ডের মেনিয়াল কাজ সম্ভব হলে মহিলা-বন্দীদের দ্বারা করতে হবে।

বিধি-৯৫৬।

{বিধি ৬৪৫ অনুযায়ী জেল সুপার কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠানে মহিলা-বন্দীগণ তাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখবেন, তবে তাদেরকে শাড়ী দিয়ে মাথা ঢেকে রাখার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।} নং-৬৪৭৪ এইচ জে তারিখ ২৬-১০-১৯৪২ মূলে প্রতিস্থাপিত ।

বিধি-৯৫৭।

মহিলা-বন্দীরা অনুর্ধ ৪ বৎসর বা জেল সুপার অনুমতি প্রদান করলে ৬ বৎসর পর্যন্ত বয়সের সন্তান নিজের কাছে রাখতে পারবে। তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের অনুমোদন মোতাবেক খাবার দেয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পোশাক দেয়া হবে ।

বিধি-৯৫৮ ।

প্রয়োগ বিরল।

বিধি-৯৫৯।

যদি কোন মহিলা-বন্দীর সন্তানের বয়স ৪ বৎসর বা ৯৫৭ বিধি মতে জেল সুপারের অনুমতি প্রাপ্ত কোন সন্তানের বয়স ৬ বৎসরে উপনীত হয়,বা কোন মহিলা-বন্দী তার সঙ্গীয় সন্তান রেখে কারাগারে মৃত্যুবরণ করে, এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আত্মীয় স্বজনকে খবর দিয়ে শিশুটিকে তাদের কাছে অর্পণের ব্যবস্থা করবেন,যদি কেউ নিতে না চায় তবে তিনি কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির জিম্মায় দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

মহিলা বন্দী এবং সন্তান

 

বিধি-৯৬০।

মেডিকেল অফিসার কর্তৃক বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে চুল কাটার প্রয়োজন উল্লেখ না করা হলে কোন মহিলা-বন্দীকে চুল ছাঁটাই করতে হবে না। একজন মহিলা-বন্দীকে একটি চিরুণী,৪ টি তোয়ালে বা ন্যাপকিন এবং চুলের যত্নের জন্য যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে। প্রত্যেক মহিলা সেলে একটি এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি বা দুইটি আয়না দেয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *