জেল কোড অনুযায়ী এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

জেল কোড অনুযায়ী এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন । জেল কোড

বিধি-৪৬৩। কারাগারে গোলযোগ বা বন্দী বিদ্রোহ, পলায়নের চেষ্টা কিংবা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে আক্রান্ত হবার ক্ষেত্রে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে বা তার শরীরের উপর বা অন্য লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের জন্যে নিম্নলিখিত নিয়ম সমূহ মেনে চলতে হবে-

(১) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী পলায়নরত বা পলায়নের চেষ্টারত কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন: তবে শর্ত থাকে যে, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের শেষ উপায়। গ্রহন ছাড়া পলায়ন প্রতিরোধ করার জন্যে অন্য কোন উপায় নেই মর্মে তাকে বিশ্বাস করতে হবে।

(২) যৌথ বিদ্রোহ বা কারাগারের ভিতর বা বাহির থেকে জোর পূর্বক প্রধান ফটক খোলা বা প্রধান ফটক অথবা কারাগারের দেয়াল ভেংগে ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত কোন বন্দী বা অন্য কোন ব্যক্তির উপর কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারবেন যতক্ষণ অনুরূপ যৌথ বিদ্রোহ বা চেষ্টা চলতে থাকে।

(৩) কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন বন্দীর বিরুদ্ধে তরবারী, বেয়নেট, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য যে কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন যদি বন্দী কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে: তবে শর্ত থাকে যে, তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে আক্রান্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তির জীবন হানি বা অঙ্গহানি বা মারাত্মক জখম হওয়ার কারণ বিদ্যমান।

(৪) ১ নং উপ-বিধির ক্ষমতাবলে কোন বন্দীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পূর্বে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দীকে সতর্ক করবেন যে তিনি ঐ বন্দীকে গুলি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

(৫) কোন কারা কর্মকর্তা- কর্মচারী তার সিনিয়র কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঐ কর্মকর্তার আদেশ ব্যতীত বিদ্রোহ বা পলায়ন চেষ্টা কালে কোন বন্দীর বিরুদ্ধে কোনরূপ অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।

নোট- বহিরাক্রমণের ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিধি ৪৬৩, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৪৭০ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত অনুসৃত হবে।

টীকা কোন কারাগারের প্রকৃত জরুরী অবস্থা ব্যতীত এবং কারা মহাপরিদর্শকের অজ্ঞাতসারে এবং রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন গার্ড সরবরাহ করা যাবে না। যে কোন জরুরী অবস্থায় যদি পুলিশ সুপার মনে করেন যে, একটি গার্ড সরবরাহ করা তার দায়িত্ব তা হলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যাপারটি উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শককে জানাবেন (প্রবিধান ৬৯৭, পিজারবি)।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৬৪। প্রতিটি কারাগারে ‘এলার্ম’ নামে পরিচিত পূর্ব পরিকল্পিত সংকেত ব্যবস্থা থাকবে যা দ্বারা কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশকে কারাগারের বিদ্রোহ, গোলযোগ, পলায়ন বা যে কোন অনভিপ্রেত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা যেতে পারে। এলার্মের ধরন হবে কারাগারের মূল গেইটের ভবন বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক বা একাধিক ঘন্টা বা ধাতব বেল (গং) অবিরাম বাজানো অথবা গেইট সেন্ট্রির নিকটস্থ স্থানে ড্রাম পিটানো অথবা বাষ্পচালিত হুইসেল বাজানো।

যদি ঘন্টা বা বেল বাজানো হয় তবে তার আওয়াজ হবে নিয়মিত প্যারেডে ব্যবহৃত আওয়াজ হতে ভিন্ন, যাতে পৃথক ইঙ্গিত বুঝতে কোন সংশয় সৃষ্টি না হয়। যদি একাধিক বেল বা গং থাকে তবে প্রথমটির শব্দ শুনার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত সেন্ট্রি দ্বিতীয়টি বাজানো শুরু করবেন এবং উভয় সংকেত ধ্বনি সম্ভব হলে উপস্থিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বন্ধের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অবিরাম চলবে ।

বিধি-৪৬৫। গুরুতর কোন সংকট কালে কারারক্ষীর হুইসেলের একটি দীর্ঘ যাত্রার ধ্বনির অর্থ হ’ল সাহায্য প্রয়োজন। পর পর তিনটি হ্রস্ব ধ্বনির অর্থ হ’ল ‘এলার্ম বাজানো হোক’।

বিধি-৪৬৬। এলার্ম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে গেইট সেন্ট্রি তার বন্দুকে গুলি ভর্তি করবেন। তিনি প্রধান গেইটের বাহিরে দাঁড়ানো থাকলে গেইটের মধ্যে প্রবেশ করবেন না। তিনি সকল ঝুঁকি সত্ত্বেও বাহির ফটকটি বল প্রয়োগ থেকে রক্ষা করবেন এবং গেইট রক্ষী ও অন্যদেরকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন।

বিধি-৪৬৭। রিজার্ভ গার্ড সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেবে এবং বাহির গেইট রক্ষায় সেন্ট্রিকে সাহায্য করবে। দুই জন রক্ষী গুলি ভর্তি রাইফেল নিয়ে প্রধান গেইটের ছাদে অবস্থান গ্রহণ করবেন। তারা বন্দীদের গতি বিধি লক্ষ্য করবেন এবং ভিতর গেইটের দিকে অগ্রসরমান কোন বন্দী থাকলে সেখান থেকে সরে যাবার হুঁশিয়ারী প্রদান করবেন। কোন ব্যক্তির জীবন রক্ষার প্রয়োজনে তারা ৪৬০ বিধি | মোতাবেক গুলি বর্ষণ করতে পারবেন।

বিধি-৪৬৮। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী (বন্দীদের বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত গণ ব্যতীত), ইউনিফর্ম পরিহিত অথবা ইউনিফর্ম ছাড়াই তৎক্ষণাৎ অস্ত্রাগারে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সজ্জিত হবেন, বেয়নেট সংযুক্ত করবেন এবং উপস্থিত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে প্রধান গেইটে সমবেত হবেন। সরাসরি নির্দেশ ব্যতীত তিনি রাইফেলে গুলি ভরবেন না।

জেল সুপারকে সংবাদ দিতে হবে, দুটি দল কারা এলাকার বিপরীত প্রান্তে প্রাচীরের বাহিরে প্রেরিত হবে, তারা কারাভ্যন্তর হতে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়নের কোন চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করবেন। একটি ফাঁকা গুলি বর্ষণ হলে বুঝতে হবে যে সাহায্যের প্রয়োজন বা যে দিকে শব্দ হয়েছে সেদিকে দেয়াল টপকিয়ে বন্দীরা পলায়ন করছে। এ সংকেত শুনার সঙ্গে সঙ্গে সিনিয়র প্রধান কারারক্ষী অবশিষ্ট রক্ষীদল সহ দৌড়ে ঘটনা স্থলে যাবেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪৬৩ বিধি মোতাবেক কাজ করবেন।

নোট- একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রক্ষী বন্দুকের পরিবর্তে লাঠি হাতে থাকবে, এ সংখ্যানুপাত জেল সুপার নির্ধারণ করবেন।

বিধি-৪৬৯ ৷ এলার্ম অবস্থায় বাহির প্রাচীরের গ্যাংয়ে নিয়োজিত বন্দীদের দায়িত্ব পালনকারী রক্ষীগণ সে সকল বন্দীদেরকে সংগ্রহ করে এবং এক জায়গায় সমবেত করে বসিয়ে রাখবেন, তবে ঐ স্থান গেইটের কাছে হবে না। গোলযোগ না থামা পর্যন্ত সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশ ব্যতীত তাদেরকে কারাগারে প্রবেশ করানো যাবে না। কারাগারের সকল বন্দীকেও নিকটবর্তী এবং অত্যন্ত সুবিধাজনক ওয়ার্ড, ওয়ার্কশপ বা অন্যান্য ভবনে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।

বিধি-৪৭০। সেন্ট্রিরা নিয়োজিত হওয়ার পর এবং কারা কর্মচারী এবং রক্ষীরা সমবেত হবার পর, জেল সুপার বা তার অনুপস্থিতিতে জেলার কিংবা উপস্থিত সর্বজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কারাগারের উভয় গেইটের ভিতরে প্রবেশ করবেন। অতঃপর বাহিরের গেইট তালাবদ্ধ করা হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে ভিতরের গেইট খোলা হবে এবং রক্ষীরা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন পূর্বক ৪৬৩ বিধি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী গোলযোগের অকুস্থলে উপস্থিত হয়ে উচ্চস্বরে বন্দীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করবেন যে তারা অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের উপর গুলি বর্ষিত হবে। যদি বিলম্ব করার মত পরিস্থিতি থাকে তা হলে এই হুঁশিয়ারী তিন বার উচ্চারণ করতে হবে। তারপরও যদি দেখা যায় যে, গোলযোগ দমনের জন্যে আর কোন উপায় নেই, তবে তিনি অবাধ্য বন্দীদের উপর গুলি চালাতে পারেন।

যদি দেখা যায় যে বন্দীরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বা আত্মসমর্পণ করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে গুলি বন্ধ করতে হবে। জেল সুপার বা কারাগারের অন্য কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আগমনের পর তার আদেশ মোতাবেক রক্ষীরা কাজ করবেন। গোপনে পলায়ন রত কোন বন্দীর উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। বন্দীরা ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক কোন কিছু না করলে বা কোন প্রকার অপরাধমূলক বল প্রয়োগ না করলে তাদের উপর রক্ষীরা গুলি বর্ষণ করবেন না। কিংবা বিদ্রোহের কারণে রক্ষীদেরকে গুলি করার জন্যে আহবান না করা হলে তারা গুলি করবেন না।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৭১। পরিস্থিতির ব্যাপকতার উপর ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি নির্ভর করবে। নীরবতা বজায় রাখতে হবে এবং সকল কিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অগ্রিম নির্দেশ প্রদান করতে হবে যাতে তারা উপলব্দি করতে পারেন তাদেরকে কি করতে হবে এবং কোথায় যেতে হবে। যখন এলার্ম বাজবে তখন অবাধ্য বন্দীদেরকে আটকানোর জন্যে রক্ষীরা কিছু হ্যান্ডকাপ সঙ্গে রাখবেন।

বিধি-৪৭২। গোলযোগ, বিদ্রোহ প্রভৃতি বিপদের প্রাদুর্ভাব মুহুর্তে নিজ নিজ কর্তব্য সম্পর্কে কারা কর্মচারীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে মাসে একবার এলার্ম মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপরে বর্ণিত সকল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, তবে রক্ষীরা প্রকৃত গুলি বর্ষণের পরিবর্তে ফাঁকা আওয়াজ করবেন। জেলার মহড়ার একটি লিখিত সময় নির্ধারণ করবেন যে সময় এলার্ম বাজলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্তব্যে হাজির হবেন।

মহড়ার তারিখ এবং সময় জেলার তার রিপোর্ট বইতে রেকর্ড করবেন। অনুরূপভাবে রিজার্ভ গার্ড মূল গেইটে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, অধস্তন ও অনান্য রক্ষীরা সমাবেশে হাজির হবার জন্যে এবং তাদের পোস্টে পৌঁছতে কি পরিমাণ সময় লেগেছে, যারা দেরীতে উপস্থিত হয়েছে তাদের নাম এবং সম্পূর্ণ মহড়া শেষ করতে কত সময় লেগেছে প্রভৃতি রেকর্ড করবেন। যদি মহড়া সফল ভাবে অনুষ্ঠিত না হয়, তবে কোন অসুবিধার কারণে এবং কার ত্রুটির জন্যে তা ঠিক ভাবে হয়নি তিনি বর্ণনা করবেন।

বিধি-৪৭৩। এলার্ম প্রকৃত বা কৃত্রিম যাই হোক না কেন, প্রাথমিক সিগন্যাল থেকে শেষে হারিয়ে যাওয়া বন্দী খুঁজে বের করা পর্যন্ত উপদ্রব দমনের জন্যে যা যা করতে হয় সকল কার্যক্রম একই ভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৭৪ ৷ যেখানে পুলিশ লাইন কারাগারের খুব কাছে থাকে, কারাগার হতে এলার্ম শুনবার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লাইনে অবস্থিত কনষ্টেবলগণ এলার্ম প্যারেডে অংশ গ্রহন করবেন এবং যদি সেখানে বিদ্রোহ ঘটে থাকে তারা তা দমনে সহায়তার জন্যে মার্চ করে কারাগারে যাবেন। গোলযোগের বিষয়ে জেল সুপার পুলিশ সুপারের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমন্বিত ও যুক্তি যুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিধি-৪৭৫। প্রত্যেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব হবে কোন বন্দী পলায়ন কালে বা পলায়নের চেষ্টা কালে তাকে গ্রেফতার করা। যদি ঐ কর্মচারী কোন গ্যাংয়ের দায়িত্বরত কারারক্ষী হন, তা হলে তিনি তার গ্যাংকে অন্য কোন রক্ষীর নিকট বা কোন জ্যেষ্ঠ কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত করে পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টারত বন্দীকে অনুসরণ করবেন।

বিধি-৪৭৬। কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়েছে জানার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জেলারকে এবং তার মাধ্যমে জেল সুপারকে জানাতে হবে। যদি কারাগারের চৌহদ্দীর বাহিরে কর্মরত কোন গ্যাং থেকে ঐ বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়ে থাকে তবে সেখানে কর্মরত সকল গ্যাংকে একত্রিত করে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারাগারের চৌহদ্দীর মধ্যে বাহির কাজের গ্যাং থেকে কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হলেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

যদি বন্দী দেয়াল টপকিয়ে পালিয়ে থাকে এবং মনে হয় যে, সে আশে পাশে কোথাও ওতপেতে রয়েছে, ঐ বন্দীকে খোঁজার জন্যে জেলার যত জন সম্ভব রক্ষীকে নিয়োগ করবেন এবং একই সময়ে তিনি নিকটবর্তী থানা, জেলা ম্যাজিষ্টেট ও পুলিশ সুপারের নিকট সংবাদ প্রেরণ করবেন এবং বন্দীর ডিসক্রিপটিভ রোল ও সে সাধারণত যে ঠিকানায় বসবাস করে সে ঠিকানা প্রেরণ করবেন যাতে তাকে চিনতে বা তার সম্পর্কে জানতে সুবিধা হয়।

যদি ওয়ার্ড থেকে রাতের বেলায় বা সকল গ্যাং কারাগারে ফেরত আসার পর কোন বন্দী নিরুদ্দিষ্ট হয়, তা হলে এলার্ম বাজাতে হবে। প্রাচীর সমূহ এলার্ম প্যারেডের সময়ের মতো গ্রহরা দিতে হবে। জেলার রিজার্ভ গার্ডকে সঙ্গে নিবেন এবং বন্দীকে খুঁজে বের করার জন্যে নিরস্ত্র রক্ষীদেরকে নিয়োজিত করবেন। যদি মনে হয় যে, বন্দী এখনও কারা দেয়ালের ভিতরে ওতপেতে বা লুকিয়ে রয়েছে, বিশ্রামরত কয়েদী রক্ষী এবং নাইট ওয়াচম্যানদেরকে কাজে নিয়োজিত করতে হবে এবং কারাগারের বাহির প্রাচীর ঘিরে রাখতে হবে।

তাদেরকে টর্চ লাইট প্রদান করতে হবে এবং কোন বন্দী দেয়ালের দিকে অগ্রসর হলে সে খবর জানানোর জন্যে তাদেরকে নির্দেশ দিতে হবে ( এ উদ্দেশ্যে কারাগারে টর্চ লাইট মজুত রাখতে হবে) যদি মনে হয় যে বন্দী দেয়াল টপকে চলে গিয়েছে তবে তা অবিলম্বে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।

বন্দী যে জেলার কারাগার হতে পলায়ন করেছে যদি সে অন্য জেলার বাসিন্দা হয় তবে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিষ্ট্রেটকে সংবাদ জানাতে হবে এবং তার নিজ জেলায় পৌঁছতে যে সকল জেলা অতিক্রম করতে হবে সে সকল জেলার ম্যাজিস্ট্রেটকেও জানাতে হবে। একটি নোটিশ রেলওয়ে পুলিশ সুপারকেও প্রদান করতে হবে, যদি প্রতীয়মান হয় যে বন্দী রেল পথে যেতে পারে। যদি সমীচীন মনে হয়, টেলিগ্রামে অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদেরকেও সংবাদ জানানো যেতে পারে।

বিধি-৪৭৭। পূর্ববর্তী বিধিতে বর্ণিত যে সকল কর্মকর্তাদেরকে পলায়নের ঘটনা জানানো হয়েছে বন্দী পুন:ধৃত হলে সে সংবাদ তাদেরকে জানাতে হবে। প্রত্যেক পুনঃধৃত বন্দীকে তার মূল ওয়ারেন্ট অনুসারে কারাগারে ফেরত গ্রহণ করা হবে। যতটুকু সময় সে মুক্ত ছিল ততটুকু সময় তার সাজাভোগ বলে গণনা করা হবে না। তার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ বিধি ৫২০, ৫২৪ এবং ৫২৫ অনুযায়ী হিসাব করা হবে।

বিধি-৪৭৮। পলায়ন এবং পুনঃধৃত হবার পৃথক পৃথক রিপোর্ট ২৫ এবং ২৬ নম্বর ফরমে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। যদি পলায়নের ঘটনা কেবলমাত্র অবহেলার কারণে ঘটে না থাকে এবং কারা ভবনের বা কারা বিধির কোন ত্রুটির কারণে ঘটে থাকে তবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করতে হবে।

বিধি-৪৭৯। জেল সুপার কোন পলাতক বন্দীকে ধৃত করার জন্যে পুরস্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে পারবেন। প্রতি ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ অনধিক একশত টাকা হবে। পুলিশের প্রহরা থেকে কোন আসামী পলায়ন করলে তাকে ধৃত করণের জন্যে কারা বাজেট থেকে পুরষ্কার প্রদান করা যাবে না।

যখন কোন ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার কারণে বড় অংকের পুরস্কার প্রদানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তখন কারা মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করতে হবে, যিনি ২৫০ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করতে পারেন । তিনি যদি তার চেয়ে বেশী টাকার পুরস্কার প্রদান করা উচিৎ মনে করেন, তবে এ বিষয়ে আদেশের জন্যে সরকারের নিকট লিখতে পারেন।

 

এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন
এলার্ম, বিদ্রোহ এবং পলায়ন

 

বিধি-৪৮০। পুনঃত হয়নি এমন প্রত্যেক পলাতক বন্দীর নাম, রেজিষ্টার নম্বর পারেন। এবং পলায়নের তারিখ প্রত্যেক বৎসরের চলতি রিলিজ ডাইরীর ভিতরের কভারে লিখে রাখতে হবে। যখন কোন বন্দী পুনঃধৃত হবে তার নাম কেটে দিতে হে এবং পুনঃধৃত হবার তারিখ লিখে রাখতে হবে। এর ফলে প্রত্যেক নুতন জেল সুপার এবং জেলার বুঝতে পারবেন কতজন বন্দী পলাতক অবস্থায় রয়েছে। বদলি পথ হতে পলাতক বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ৮৮৪ এবং ৮৮৫ এবং পলাতক বন্দীর ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তির জন্যে বিধি ৫৮৩ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৪৮১। পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টাকারী প্রত্যেক বন্দীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। কোন অবস্থাতেই বিষয়টি কারাগারের বিধি ভঙ্গের পর্যায়ে গণ্য করা যাবে না।

বিধি-৪৮২। কোন বন্দীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে পলায়নের সহায়তা করণ সম্পর্কে ২০০ এবং ৩৮৭ বিধিতে বর্ণিত শাস্তির বিধান সম্পর্কে প্রত্যেক কারা কর্মচারী এবং কয়েদী কর্মচারীকে জেল সুপার এবং জেলার প্রতিনিয়ত সতর্ক করবেন। এ ধরনের অপরাধের জন্যে কোন কারারক্ষী একবার বরখাস্ত হলে আর কোন দিন কারা বিভাগে চাকরি পাবে না। পলায়ন রোধ করা প্রত্যেক বন্দীর কর্তব্য এবং যদি কোন বন্দী পলায়নে সাহায্যকারী কোন বন্ধ সংগ্রহে রাখে বা পলায়নের উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

বিধি-৪৮৩। যদি কোন বন্দী অপর কোন বন্দীর পলায়নে বাধা দেয় বা পলায়নের প্রস্তুতি বা আশংকা সম্পর্কে কোন তথ্য প্রদান করে এবং এর ফলে পলায়ন রোধ করা সম্ভব হয়, তার সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট করতে হবে এবং যদি সে রেয়াত ব্যবস্থার অধীনে থাকে, তবে তাকে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা যেতে পারে বা প্রদানের জন্যে সুপারিশ করা যেতে পারে।

বিধি-৪৮৪। যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে বা পলায়নের ষড়যন্ত্র করে, তাদেরকে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন ক্রমে ১৮৯৪ সালের কারা আইনের ৫৬ ধারা মোতাবেক বেড়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। কারাগার হতে পলায়ন করা বা পলায়নের চেষ্টা করার কারণে কোন বন্দীকে অভ্যাসগত বলে গণ্য করা যাবে না, তবে অন্য বন্দী থেকে পার্থক্য করার জন্যে তাকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমোদনক্রমে জেল সুপার এ ধরনের কোন বন্দীকে সাধারণ টুপি পরিধানের অনুমতি প্রদান করতে পারেন, যদি সে আচরণের মাধ্যমে নিজেকে তজ্জন্য উপযুক্ত প্রমাণ করতে পারে।

নোট- যে সকল বন্দী কারাগার হতে বা এক কারাগার হতে অন্য কারাগারে বদলির পথে পলায়ন করে, দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় সাজা প্রদানের তারিখ পর্যন্ত কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে তাদের অর্জিত রেয়াত বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। পুলিশ প্রহরা বা কারাগার হতে হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে লাল রঙের টুপি পরিধান করতে হবে। কিন্তু সাজা প্রদানের আগে পুলিশ প্রহরা হতে পলায়নকারী বন্দীদেরকে কারাগারে কৃত প্রকৃত আচরণের দ্বারা অর্জিত এই বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধার বহির্ভূত করা উচিত হবে না।

বিধি-৪৮৫। ক্যাম্প জেল বা অস্থায়ী কারাগার ব্যতীত কারাগারের ভিতরে কোন বন্দীকে বেড়ী পরানো যাবে না, যদি না ঐ সে উগ্র, বা ভয়ংকর বা পলাতক বা পলায়নের চেষ্টাকারী বা পলায়নের প্রস্তুতি গ্রহণকারী না হয় ।

বিধি-৪৮৬। যদি জেল সুপার মনে করেন যে, কোন বন্দীকে ৪৮৫ বিধি মোতাবেক বেড়ী আরোপ করা প্রয়োজন তবে তিনি বন্দীর নম্বর, নাম, বেড়ী আরোপের এবং অপসারণের তারিখ এবং বেড়ী আরোপের প্রয়োজনীয়তার কারণ রেকর্ড করবেন। জেল সুপার নিরাপদ মনে করলে যে কোন সময় বেড়ী অপসারণের আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

বিধি-৪৮৭। নিরাপদ আটকের জন্যে ৪৮৫ এবং ৮২১ বিধি মোতাবেক আরোপিত বেড়ী জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষী প্রত্যেক দিন এবং জেলার সপ্তাহে একবার পরীক্ষা করে দেখবেন এবং রিপোর্ট বইতে তা রেকর্ড করবেন। খেয়াল রাখতে হবে যে বেড়ীর রিং গুলি গোড়ালীর গিটের সাথে এমনভাবে লেগে থাকবে যার ফলে পা তোলা না যায়, বল্টু গুলো ছিদ্রের সাথে খাপ খায় এবং উভয় পাশে তাদের উপযুক্ত পরিমাণ মাথা বের হয়ে থাকে। আরও লক্ষ্য করতে হবে যে, বল্টুর মাথা ঘষানো বা ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়ে যায়। বেড়ী পরানোর জন্যে বন্দীকে চামড়ার পট্টি লাগাতে হবে।

 

বিধি-৪৮৮। কারাগারের বাহিরের দেয়ালের উপরে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো লাগানো যাবে না। কারণ এতে কম্বল বা কাপড় আটকিয়ে বন্দী পলায়নে সুবিধা হতে পারে। দেয়ালের উপরে কোন কার্নিশ বা অন্য কোন প্রসারিত অংশ থাকবে না। বাহিরের দেয়ালের প্রত্যেকটি সংযোগস্থল অতিরিক্ত অর্থ-গোলাকার করতে হবে যাতে কোন বন্দী তা দিয়ে আরোহণ করতে না পারে।

বিধি ৪৮৯-৪৯০। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৯১। ওয়ার্ড,সেল এবং মেইন গেইটের ব্যবহৃত সকল তালা সর্বপ্রধান কারারক্ষী বা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীগণ তাদের দায়িত্বাধীন অংশ প্রত্যেক দিন পরীক্ষা করে দেখবেন। অকেজো তালা সঙ্গে সঙ্গে জেলারের নিকট পেশ করতে হবে। তালায় ভোজ্য তেল ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে লিভার চটচটে হয়ে গেলে সহজে খুলে যাবার আশংকা থাকে।

ওয়ার্ড, সেল, গুদাম বা অন্যান্য অংশের কোন তালার চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট ন্যস্ত যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি সাময়িকভাবে ব্যবহৃত সাধারণ তালার কোন চাবি কোন কয়েদী কর্মচারীর নিকট দিনের বেলায় থাকে তবে লক আপের আগে তা নিয়ে নিতে হবে।

বিধি-৪৯২। কোন বন্দী কর্তৃক কোন কারারক্ষী বা কয়েদী কর্মচারীর উপর কোন মারাত্মক আক্রমণ বা বন্দীদের যৌথ বিদ্রোহ সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে। বদরাগী, খিটখিটে মেজাজ বা এ স্বভাবের কোন বন্দীর নিকট কোন কারণেই চাকু বা অন্য কোন জিনিস রাখা যাবে না, যা অপরাধ সংঘটনে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হতে পারে।

টীকা-। বর্তমানে কারাগারে গোলযোগ দমনের জন্যে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেটসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি কারারক্ষীদের নিকট মজুত থাকে, সে গুলোর প্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। কোন বিদ্রোহের ঘটনা ঘটলে নিকটবর্তী থানায় এবং জেলা ম্যাজিট্রেট, পুলিশ সুপার, দমকল বিভাগ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণকে টেলিফোনে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রেরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *