বিচারাধীন বন্দী

বিচারাধীন বন্দী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বিচারাধীন বন্দী

বিচারাধীন বন্দী

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯০৯।

কোন আদালত কোন অভিযুক্তকে হাজতে আটক রাখার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, দায়রা আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিক্রমে ১৫ দিনের বেশী হাজতে রাখার আদেশ দেয়া যাবে না, এবং আরও শর্ত থাকে যে, হাইকোর্ট বিভাগ। যাতীত অন্য কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত এবং বিচারকারী জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

(নোট- অনুরূপভাবে হাজতে আটক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই কোডে ‘ বিচারাধীন বন্দী ‘ বলা হবে।

টীকা-১।

আসামীকে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার অধিক্ষেত্র থাকুক বা না থাকুক তিনি তাঁর বিবেচনামত আসামীকে উক্তরূপ হেফাজতে আটক রাখার জন্য কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, তবে এরূপ আটকের মেয়াদ সর্বমোট পনর দিনের অধিক হবে না [ ধারা -১৬৭(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

টীকা-২।

সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যুক্তিসংগত কারণে যদি কোন ইনকোয়ারি বা বিচারের আরম্ভ কাজ স্থগিত রাখা অথবা ইনকোয়ারি বা বিচার মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, তা হলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে কারণ উল্লেখ পূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে উপযুক্ত মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যুক্তিসংগত মনে করেন সে সময়ের জন্যে তা বিভিন্ন সময়ে স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে ওয়ারেন্ট দ্বারা তাকে পুনরায় হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, এ ধারা অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন আসামীকে এক সময়ে পনর দিনের অধিক মেয়াদের জন্যে হাজতে পাঠাতে পারবেন না [ধারা -৩৪৪(১), ফৌজদারি কার্যবিধি ] ।

বিধি-৯১০।

(১) বিচারাধীন বন্দীকে ২ ভাগে বিভক্ত করা হবে-

ডিভিশন-I ঃ- শিক্ষিত,সামাজিক মর্যাদা ও উচ্চতর জীবন যাপনেঅভ্যস্ত ব্যক্তি;

ডিভিশন- II:- সাধারণ মানের ব্যক্তি

বিচারাধীন বন্দীদের শ্রেণী বিভাজন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে বিচারিক আদালত নির্ধারণ করবেন। 

(২) ডিভিশন-I প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীদেরকে ডিভিশন- II বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে 

(৩) বিচারাধীন বন্দী পুরুষ বা মহিলা, উভয়কে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের। আলাদা রাখতে হবে। 

বিধি ৯১১।

দায়রা আদালতে সোপর্দকৃত বন্দী ব্যতীত, প্রত্যেক ওয়ারেন্টে বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেট বা অন্য কোন ওয়ারেন্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট তারিখে হাজির করতে হবে তার উল্লেখ থাকতে হবে। দায়রা আদালতে বন্দীকে হাজির করার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে ওয়ারেন্টে এবং হিস্ট্রি টিকেটে জেলার তা লিখে রাখবেন। বন্দীকে আদালতে হাজির হবার তারিখ জানাতে হবে যাতে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।

প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম ও নম্বর প্রাথমিকভাবে রিলিজ ডাইরীতে লেখা যেতে পারে, যে তারিখে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে, তা পৃষ্ঠার উপরের দিকে দিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় কারাগারে, বন্দীর সংখ্যা বেশী থাকায় সেখানে ওয়ারেন্টগুলি প্রত্যেক দিন এবং মাসের হিসাবে পৃথক খোপ বিশিষ্ট বিশেষ আলমারিতে রাখা যেতে পারে।

টীকা-১।

বিচারাধীন বন্দীদের কারাগার হতে পাহারায় কোর্টে নেয়ার, কোর্ট হতে কারাগারে ফেরত আনার এবং কোর্টে তাদেরকে নজর রাখার দায়িত্ব কোর্ট পুলিশের (প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

টীকা-২।

বন্দীদের কারাগার হতে কোর্টে নেয়ার এবং কোর্ট হতে করাগারে ফেরত আনার সময় যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাস্তা অনুসরণ করতে হবে, তবে বাজার, অধিক জন সমাগমপূর্ণ রাস্তা পরিহার করা উচিত। সম্ভব হলে তাদেরকে গাড়ীতে করে আনা-নেয়া করতে হবে। প্রথম শ্রেণীর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রিজন ভ্যান বা ভাড়া করা গাড়ীতে আনা-নেয়া করতে হবে এবং তাদের যাতায়াতে যুক্তিসঙ্গত আরাম ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

 

টীকা-৩।

যাদের মামলা নিষ্পত্তি হয় নি তাদের জন্যে অপেক্ষা না করে সকল বন্দীকে সূর্যাস্তের এক ঘন্টা পূর্বে কারাগারে ফেরত নিয়ে আসতে হবে। যাদেরকে কোর্টে আটক রাখা হয়েছে তাদের জন্যে অতিরিক্ত পাহারা দেয়ার জন্যে কোর্ট অফিসার আর্মড ইন্সপেক্টরের নিকট আবদেন করবেন (প্রবিধান ৪৮০, পিআরবি)।

টীকা-৪।

প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে কোর্ট পুলিশ লক্ষ্য রাখবে যে, কারাগারে রাতের খাবার দেয়ার সময়ের, যা সন্ধ্যার এক ঘন্টা পূর্বে দেয়া হয়, পরে বন্দীদের কারাগারের পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলে তাদেরকে কারাগারে নেয়ার পূর্বেই খাবার দিতে হবে(প্রবিধান ৪৭৯, পিআরবি)।

বিধি-৯১২।

দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে একই মামলার অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। যখন বিচারাধীন ওয়ার্ডে পৃথক সেল বা কম্প থাকে তখন সেগুলো এ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যদি পৃথক কম্পার্টমেন্ট না থাকে তবে দোষ স্বীকারকারী বিচারাধীন বন্দীকে দিনের বেলায় পৃথক সেলে এবং রাতের বেলায় ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তা যেন নির্জন কারাবাস না হয়।

বিধি-৯১৩।

পারাস্থাত অনুমোদন করলে বন্দী সনাক্তকরণ কারাগারের ভিতরে হবে। উপরের বিধিসমূহ কারাগারে বিচারাধীন বন্দী এবং সন্দিগ্ধ বন্দীর জন্য প্রযোজ্য। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত, জামিনে থাকা ব্যক্তিকে বিচারাধীন বন্দীদের সাথে মেশানো যাবে না।

দোষ স্বীকারকারী অভিযুক্তের ক্ষেত্রে পৃথক সনাক্তকরণ মহড়ার আয়োজন করতে হবে, যদি না ম্যাজিষ্ট্রেট নির্দেশ প্রদান করেন যে, দোষ স্বীকারকারীর সাথে দোষ অস্বীকারকারীদের মেশানোর প্রয়োজন রয়েছে এবং সনাক্তকরণ মহড়া একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিধি-৯১৪।

কোন বিচারাধীন বন্দী পূর্বে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হবে। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য অবশ্যই পুলিশ সুপারকে ২৩ নম্বর জেল ফরমে জানাতে হবে। এ ফরম ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকটও দাখিল করতে হবে। সম্ভব হলে অভ্যাসগত বিচারাধীন বন্দীদেরকে অনভ্যাসগতদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিশোর বিচারাধীন বন্দীদেরকে প্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকে পৃথক রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে লঘু অপরাধে অভিযুক্তদেরকে দায়রায় সোপর্দকৃত বিচারাধীন বন্দীদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।

বিধি-৯১৫।

জেল সুপার জামিনযোগ্য ধারায় আটক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন। জেল সুপার প্রতি পাক্ষিকে ২৭ নম্বর ফরমে ১৪ দিনের বেশী আটক বিচারাধীন বন্দীদের ব্যপারে একটি তাগিদ প্রদান করবেন। তবে দায়রা আদালতে বিচারাধীন বন্দীদের বিষয়ে তাগিদ প্রদান করা যাবে না।{তা ছাড়া জেল সুপার তিন মাসের অধিক বিচারাধীন বন্দীদের একটি তালিকা ২৭ নম্বর ফরমে প্রত্যেক মাসের প্রথম সপ্তাহে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন। }

নং-৬২১ এইচ জে তারিখ ১৩-৫-১৯৪৭ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-৯১৬।

ওয়ারেন্টে-ধার্য তারিখে বা পরবর্তী আদেশে উল্লেখিত তারিখে বিচারাধীন বন্দীদেরকে আদালতে হাজির করার জন্যে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে। যদি কোন বিচারাধীন বন্দী ইচ্ছা প্রকাশ করে যে তাকে আদালতে প্রেরণকালে জেলারের নিকট রক্ষিত তার নগদ টাকা প্রদানের জন্যে তাকে ফেরত দেয়া প্রয়োজন, তবে জেলার প্রাপ্তি স্বীকার রেখে তাকে তা ফেরত প্রদান করবেন। অন্যান্য ক্ষে ে টাকা জেলারের নিকট গচ্ছিত থাকবে।

যদি বন্দী আদালত হতে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে তার আবেদন মোতাবেক জেল গেইটে তাকে তার টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি ে প্রদান করতে হবে।

নোট- অদাবীকৃত সম্পত্তির বিষয়ে বিধি ৫৪৭ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৯১৭।

দৈনিক যে সকল বন্দীকে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তাদের নাম কোর্ট অফিসার হাজত রেজিষ্টারে (ফরম নম্বর ৩৮৩১) লিখবেন। বন্দীদেরকে ধার্য তারিখ মোতাবেক আদালতে হাজির করার জন্যে তিনি পাঠ্য থাকবেন। উক্ত তালিকা জেলার দেখবেন এবং বন্দী হাজির করণের বিষয় অবহিত হবেন।

বিধি-৯১৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী একাধিক মামলার আসামী হলে তার ওয়ারেন্টে সকল মামলার রেফারেন্স লিপিবদ্ধ করা হবে।

বিধি-৯১৯।

মুক্তির আদেশ দানের পর (লক আপের পরে ছাড়া) সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি

দিতে হবে। বন্দীকে মুক্তি প্রদানের আদেশ কার্যকর হয়েছে মর্মে উল্লেখ পূর্বক

ওয়ারেন্ট আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে। বন্দীর কোন সম্পত্তি থেকে থাকলে

তা তাকে ফেরত দিতে হবে।

বিধি-৯২০।

আদালতে হাজিরকৃত বিচারাধীন বন্দীকে আদালত হতে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ কর্তৃক সরাসরি খালাস কিংবা জামিনে মুক্তি প্রদান করা হলে, খালাস বা মুক্তিদানকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ একই দিনে জেলারের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৯২১।

মুক্তি প্রদানের প্রাক্কালে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর ওজন বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড করতে হবে। আদালত হতে মুক্তি প্রাপ্ত বিচারাধীন বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ডকৃত সর্বশেষ ওজন মুক্তিকালীন ওজন বলে গণ্য হবে।

বিধি-১২২।

(১) কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দী কারাগারের বিধি এবং শৃঙ্খলা সাপেক্ষে কারাগারে আটক থাকবে। তাকে নিজের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে, তবে তার নিজের চেহারার কোন পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। তাকে জুতা পরিধান করতে দেয়া হবে।

(২) জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে তার প্রমত কোন পেশা বা বৃত্তিতে কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে এবং তা থেকে প্রাপ্ত কোন আয় গ্রহণ করতে দেয়া হবে। যদি কারাগারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তবে তার ভাড়া কেটে রাখা হবে এবং সরকারের খরচে সে গুলি মেরামত করা হলে সে খরচও কেটে রাখা হবে। তাকে তার ওয়ার্ড, সেল ও মাতিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।

(৫) যদি জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার পরামর্শ প্রদান করেন তবে তাকে সকালে এবং বিকালে অনধিক একঘন্টা হাঁটার ব্যয়াম করতে হবে। (8) কোন অসম্মান জনক কাজ কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দেয়া যাবে না এবং স্কিনার বাহিরে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না।

বিধি-১২৩।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীকে নিজের ভরণ পোষণের জন্য অনুমতি দেয়া হবে এবং ব্যক্তিগত উৎস হতে খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় বা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে, কিন্তু পরীক্ষা করার শর্ত সাপেক্ষে এবং মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত বিধি-বিধানের আওতায়। শর্ত থাকে যে, কোন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে বাহির হতে খাদ্য সরবরাহের জন্যে অনুমতি প্রদান করা হলে কারাগার হতে তাকে কোন খাদ্য সরবরাহ করা হবে না ।

একজন অসাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে কারাগারের লাইব্রেরী হতে বই সরবরাহ করা যেতে পারে। জেল সুপারের অনুমোদনক্রমে তাকে বাহির হতে যুক্তিসংগত পরিমাণ বই, সংবাদপত্র, ষ্টেশনারী এবং লেখার দ্রব্যাদি সংগ্রহের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। {বন্দীর নিজ ব্যয়ে ক্ষতিকর নয় এমন ঘরোয়া খেলারও অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। }

নং ১০৯২ এইচ জে ১০৯২ তারিখ ৩-৪-১৯৪১ মূলে সংযোজিত।

বিধি-৯২৪।

কোন অসাজাপ্রাপ্ত ফৌজদারি বন্দীর খাদ্য, পোশাক, বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোন অংশ, অন্য কোন বন্দীর নিকট দেয়া বা ভাড়া প্রদান বা বিক্রয় করা যাবে না এবং কোন বন্দী এ বিধির লঙ্ঘন করলে, জেল সুপার যে রকম উচিত মনে করবেন সে রকম সময় পর্যন্ত খাদ্য ক্রয় বা ব্যক্তিগত উৎস হতে গ্রহণ করার সুযোগ হারাবেন।

বিধি-৯২৫।

প্রত্যেক অসাজাপ্রাপ্ত বন্দী নিজের পর্যাপ্ত পোশাক ও বেডিংয়ের সংস্থান না করতে পারলে, জেল সুপার প্রয়োজন মোতাবেক পোশাক ও বেডিং সরবরাহ করবেন, তবে খাদ্য,পোশাক,বেডিং বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জেল সুপারের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলারের মাধ্যমে ক্রয় করা হবে এবং বিচারাধীন বন্দীর নিকট প্রেরণের পূর্বে জেলার তা পরীক্ষা করে দেখবেন। স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর এবং নেশা বা সুরা জাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করা যাবে না।

বাহির থেকে সরবরাহ করা খাদ্য জেলার এবং মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য পাওয়া গেলে জেল সুপারকে জানাবেন। কোন বন্দীর নিকট পূর্ববর্তী দুই বিধি মোতাবেক প্রেরিত খাদ্য বা কোন দ্রব্যের সঙ্গে গোপনে কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য সরবরাহ করা হলে ৯২৩ বিধিতে প্রদত্ত সুবিধা রহিত করে দেয়া হবে। ৬৬০ বিধিতে বর্ণিত নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির তালিকা বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে তাদেরকে নিজেদের খরচে যুক্তি সংগত পরিমাণ পান, সুপারি এবং তামাক রাখার অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে। জেল সুপার অপ্রয়োজনীয় এবং অনুপযুক্ত মনে করলে কোন বিচারাধীন বন্দীর নিকট কোন দ্রব্য সরবরাহের অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

বিধি-৯২৬।

বিচারাধীন বন্দীদেরকে ছত্রিশ অধ্যায় অনুসারে খাবার দেয়া হবে। ডিভিশন-I বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন -I এবং ডিভিশন -II সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে, এবং ডিভিশন-II বিচারাধীন বন্দীকে ডিভিশন-III সাজা প্রাপ্তদের স্কেলে খাবার প্রদান করা হবে।

বিধি-৯২৭।

ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, কারা অপরাধ এবং শাস্তি বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, কিন্তু বেত্রাঘাত প্রয়োগের পূর্বে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং বেড়ী প্রয়োগ করা হলে, তার পরিপ্রেক্ষিত কারা মহাপরিদর্শককে জানাতে হবে।

বিধি- ৯২৮।

কোন বিচারাধীন বন্দী পলায়নের চেষ্টা করলে দণ্ড বিধির ২২৪ ধারায় বিচারের জন্যে তাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে। টীকা- হাজতে আটক কোন ব্যক্তি যদি হাজত হতে পলায়ন করে বা পলায়নের উদ্যেগ গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি যার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হতে পারে কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উক্ত দণ্ড তার কারাবাসের মূল দন্ডের অতিরিক্ত হবে (ধারা-২২৪, দণ্ডবিধি)। বিধি-৯২৯। বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ড একজন কয়েদী-কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা নিয়মিত দেখাশুনা করবেন।

বিধি-৯৩০।

বিচারাধীন বন্দীদের সকল তথ্যাদি, সঙ্গে আনা জিনিসপত্রসহ বিচারাধীন বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্ট্রারে (রেজিষ্ট্রার-৮) লিপিভুক্ত করতে হবে। একটি হিস্ট্রি টিকেটে প্রত্যেক বিচারাধীন বন্দীর নাম, আদালতে হাজির করার প্রথম তারিখ, কারাগারে ভর্তির তারিখ, যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, পূর্ববর্তী সাজা (যদি থাকে), মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, দোষ স্বীকারকারী বন্দী কিনা, বিচারের তারিখ সমূহ, ভর্তির সময়ে ওজন, প্রতি ১৫ দিন পরে ওজন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে।

কোন জখমী চিহ্ন আছে কিনা, থাকলে সেগুলো সম্পর্কে বন্দীর বক্তব্যসহ, সতর্কতার সঙ্গে হিস্ট্রি টিকেটে রেকর্ড করতে হবে। এই টিকেট সব সময় পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদর্শন করতে হবে।

বিধি-৯৩১।

(১) কোন বিচারাধীন বন্দীর অবস্থা মরণাপন্ন হলে, জেল সুপার বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাবেন বা দায়রা আদালতে বিচারাধীন হলে দায়রা আদালতকে জানাবেন, আদালত আইনানুগ মনে করলে বন্দী জামিনে মুক্তি পেতে পারে। যদি জামিন অগ্রাহ্য হয়,তবে জেল সুপার প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বন্দীকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করবেন এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে ৫৯৭ বিধির {(i) এবং (ii) উপ-বিধি এবং নোট (১)} অনুসরণ করতে হবে। বিধি ৫৯১ এবং ৫৯২ বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। না ।

(২) কোন বিচারাধীন বন্দী অসুস্থতার কারণে আদালতে ধার্য তারিখে হাজির হতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হলে জেল সুপার আদালতকে এ ব্যপারে অবহিত করবেন। এর পর বন্দী আরোগ্য লাভ করলে বা অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হলে তিনি পুনরায় তা আদালতকে জানাবেন ।

 

বিচারাধীন বন্দী

 

বিধি-৯৩২।

বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু বা উম্মাদ গ্রস্ততার সংবাদ জেল সুপার কর্তৃক সে আদালতকে জানাতে হবে যে আদালতের নির্দেশে বন্দীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল।

বিধি-৯৩৩।

বিচারাধীন বন্দীদের জন্য “বিচারাধীন বন্দীদের রেজিষ্টার’ (রেজিষ্ট্রার-৮) ব্যবহার করতে হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *