বন্দী সনাক্তকরণ আইন

বন্দী সনাক্তকরণ আইন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বন্দী সনাক্তকরণ আইন

বন্দী সনাক্তকরণ আইন

 

বন্দী সনাক্তকরণ আইন

 

৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২০ সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং অন্যদের মাপ ও ফটোগ্রাফ গ্রহণের কর্তৃত্ব প্রদানকল্পে প্রনীত আইন। যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ও অন্যদের মাপ ও ফটোগ্রাফ গ্রহণের কর্তৃত্ব প্রদান করা সমীচীন, সেইহেতু নিম্নলিখিত আইন প্রণয়ন করা হইল ঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ।-

(১) এই আইন বন্দী সনাক্তকরণ আইন, ১৯২০ নামে অভিহিত হইবে ; এবং

(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ।

২। সংজ্ঞাসমূহ।

বিষয় বস্তু বা প্রসঙ্গের বিপরীত কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

              (ক) “মাপ” বলিতে আঙ্গুলের ছাপ এবং পায়ের ছাপও বুঝাইবে ; 

              (খ) “পুলিশ অফিসার” বলিতে একটি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার, ১৮৯৮ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪শ অধ্যায় অনুসারে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার, অথবা সাব ইন্সপেক্টরের নিম্নপদস্থ নহে এইরূপ অন্য কোন পুলিশ অফিসার ; এবং

               (গ) “নির্ধারিত” বলিতে এই আইন অনুসারে প্রণীত বিধানাবলী দ্বারা নির্ধারিত বুঝাইবে ।

৩। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মাপ,প্রভৃতি গ্রহণ।-

প্রত্যেক ব্যক্তি যে –

              (ক) এক বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে, অথবা এমন কোন অপরাধে দণ্ডিত হইয়াছে যাহার দরুন পররবর্তীকালে দোষী সাব্যস্ত হইলে সে বর্ধিত দণ্ড প্রাপ্তির যোগ্য হইবে; অথবা

              (খ) ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৮ ধারা অনুসারে সদাচরণের জন্য মুচলেকা প্রদানের জন্য আদেশ প্রাপ্ত হইয়াছে ; সে প্রয়োজন হইলে, একজন পুলিশ অফিসারকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহার মাপ ও ফটোগ্রাফ গ্রহণ করিতে দিবে। 

৪। সাজাপ্রাপ্ত নয় এমন অন্যান্য ব্যক্তির মাপ,প্রভৃতি গ্রহণ।

কোন ব্যক্তি এক বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে গ্রেফতার হইয়া থাকিলে, কোন পুলিশ অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহার মাপ ও ফটোগ্রাফ গ্রহণ করিতে দিবে।

 

৫। মাপ বা ফটোগ্রাফ গ্রহণের আদেশ প্রদানের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা।

যদি কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এই মর্মে সন্তুষ্টি লাভ করেন যে, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন তদন্ত বা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে তাহার মাপ ও ফটোগ্রাফ নিতে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা প্রয়োজন, তবে তিনি সেই মর্মে একটি আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন। এইরূপ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উক্ত আদেশ প্রদত্ত হইবে, সেই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে হাজির করা হইবে বা সে নিজে হাজির হইবে এবং পুলিশ অফিসার কর্তৃক তাহার মাপ ও ফটোগ্রাফ লইতে দিবে ঃ

তবে শর্ত যে, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট ভিন্ন অন্য কাহারও দ্বারা কোন ব্যক্তির ফটোগ্রাফ গ্রহণের নির্দেশ সম্বলিত আদেশ প্রদত্ত হইবে না ;

আরও শর্ত এই যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্তরূপ কোন তদন্ত বা কার্যক্রম প্রসঙ্গে কোন সময় গ্রেফতার না হইয়া থাকিলে এই ধারা অনুসারে কোন আদেশ প্রদত্ত হইবে না ।

৬। মাপ,প্রভৃতি গ্রহণে বাধা দেওয়া।-

(১) এই আইন অনুসারে যাহার মাপ ও ফটোগ্রাফ নিতে দেওয়া প্রয়োজন এরূপ কোন ব্যক্তি যদি উহা নিতে বা দিতে অস্বীকার করে তবে তাহা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ আইনসম্মত হইবে ।

(২) এই আইন অনুসারে মাপ বা ফটোগ্রাফ নিতে বাধা দেওয়া বা দিতে অস্বীকার করা দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা অনুসারে অপরাধ বলিয়া বিবেচিত হইবে ।

৭। খালাসের কারণে ফটোগ্রাফ এবং রেকর্ড, প্রভৃতি নষ্ট করা।-

যে ব্যক্তি পূর্বে কখনও এক বছর বা তদুর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হয় নাই, এরূপ কোন ব্যক্তি এই আইনের বিধান অনুসারে তাহার মাপ বা ফটোগ্রাফ লইতে দিয়া থাকিলে, সেই ব্যক্তি যখন বিনা-বিচারে মুক্তি পায় বা কোন আদালত কর্তৃক অব্যাহতি বা খালাসপ্রাপ্ত হয়, তখন তাহার সমস্ত মাপ ও সমস্ত ফটোগ্রাফ (নিগেটিভ ও কপি উভয়) যাহা গৃহীত হইয়াছে আদালত অথবা (সেই ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে বিনা বিচারে মুক্তি পাইয়াছে) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা মহকুমা অফিসার লিপিবদ্ধকৃত কারণে অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে তাহা নষ্ট করিয়া ফেলা হইবে অথবা সেই ব্যক্তির নিকট অর্পণ করা হইবে । 

৮। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।-

(১)এই আইনের বিধানসমূহ কার্যকরী করিবার উদ্দেশ্যে সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেন। 

(২) বিশেষভাবে এবং উপরোক্ত বিধানসমূহের সাধারণ প্রকৃতি ক্ষুণ্ণ না করিয়া অনুরূপভাবে প্রণীত বিধিমালায় নিম্নলিখিত বিষয়ে বিধান সন্নিবেশিত করা যাইবে –

                (ক) ৫ ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তির ফটোগ্রাফ গ্রহণের উপর নিয়ন্ত্রণ

                (খ) যেই সকল স্থানে মাপ ও ফটোগ্রাফ নেওয়া যাইবে তাহা নির্ণয় ;

                (গ) যে মাপ গ্রহণ করা হইবে তাহার প্রকৃতি নির্ণয় ; (ঘ) যে পদ্ধতিতে কোন শ্রেণীর বা শ্রেণীসমূহের মাপ গ্রহণ করা হইবে তাহা নির্ণয় ; 

                (ঙ) কোন ব্যক্তির ৩ ধারা অনুসারে ফটোগ্রাফ গ্রহণের সময় সেই ব্যক্তি যে পোশাক পরিধান করিবে, তাহা নির্ণয় ; এবং

                (চ) মাপ ও ফটোগ্রাফ সম্পর্কিত কাগজপত্র সংরক্ষণ, হেফাজত ধ্বংস করা ও বিলি ব্যবস্থা করা । 

 

বন্দী সনাক্তকরণ আইন

 

৯ । মামলা দায়ের নিষেধ।-

এই আইন বা ইহার অধীনে প্রণীত কোন বিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন কিছু করিলে, বা করিবার ইচ্ছা করিলে, তজ্জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের বা অন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *