আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বন্দীদের সম্পত্তি

বন্দীদের সম্পত্তি । জেল কোড
বিধি-৫৪৩। সকল টাকা বা অন্যান্য দ্রব্যাদি আদালতের কোন আদেশ না থাকলে বা যথাযথ অনুমোদনক্রমে কোন বন্দী কর্তৃক কারাগারে আনীত হলে কিংবা বন্দীর নিকট ব্যবহারের জন্যে প্রেরিত হলে জেলারের হেফাজতে জমা দিতে হবে। বন্দীর নিকট হতে বিধি মোতাবেক গৃহীত কিংবা পরে তার কাছে প্রেরিত সকল জিনিস পত্রের তালিকা সিভিল বন্দীর ক্ষেত্রে তার ওয়ারেন্টে এবং সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দীদের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণীতে ৫১৫৮ নম্বর ফরমে লিখে জেল সুপার এবং জেলার তাতে স্বাক্ষর করবেন।
বন্দীদের সম্পত্তি বা টাকা তার কারাবাসের যে কোন সময়ে জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বন্দীর লিখিত সম্মতিতে তার কোন নিকটজনের নিকট হস্তান্তর করা যাবে। তবে নিজের জামাকাপড়ের অভাব সৃষ্টি করে জামাকাপড় হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না। এবং কারাবাস অবস্থায় বা মুক্তির প্রাক্কালে অন্য কোন বন্দীর নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করতে দেয়া হবে না।}
টীকা- নং ১৩৪৪ এইচ জে তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে প্রতিস্থাপিত

বিধি-৫৪৪। পূর্ববর্তী বিধি সাপেক্ষে বন্দীদের সম্পত্তির বিষয়ে জেলার নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন-
(ক) বন্দীদের সম্পত্তির মধ্যে নিষিদ্ধ কোন বস্তু থাকলে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
(খ) বিক্রয় যোগ্য কোন পচনশীল দ্রব্য থাকলে বিক্রি করে দিতে হবে।
(গ) মেডিকেল অফিসারের মতামত অনুসারে পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রামক রোগাক্রান্ত হলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
(ঘ)ব্যবহার অনুপযুক্ত জামাকাপড় জেল সুপারের নির্দেশ মতে ধ্বংস করে দিতে হবে।
(ঙ) দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জামাকাপড় বিক্রয় করে দিতে হবে। অন্যান্য বন্দীদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে গুদামে বান্ডেল করে তার উপর বন্দীর নাম লিখে রেখে দিতে হবে।
(চ) মূল্যবান স্বর্ণালংকার থাকলে তা আলাদা প্যাকেটে জেলারের অফিসে নিরাপদ বাক্সে রেখে দিতে হবে।
(ছ) নগদ টাকা জেলারের কাছে রাখতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার নগদ টাকা সিকিউরিটিসে বিনিয়োগ বা ব্যাংকে জমা রাখতে চাইলে সে জন্যে তাকে অনুমতি দেয়া যাবে।

বিধি-৫৪৫ । কেবলমাত্র বন্দীর যে সকল দ্রব্য কারাগারের গুদামে রাখা যায় সে সকল সম্পত্তি রাখা হবে। জামেলা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বা গবাদি পশু বিক্রয় করে দিতে হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীর নগদ টাকার সঙ্গে জেলারের নিকট রেখে দিতে হবে। সিভিল বন্দী ব্যতীত অন্য কোন বন্দীকে ভর্তির পর তল্লাশী করে কোন দ্রব্য বা টাকা পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এর মূল্যের একটি অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়া হবে, এবং অনধিক এক তৃতীয়াংশ মূল্য জেল সুপার কর্তৃক সন্ধানকারীকে প্রদান করা যাবে ।
বিধি-৫৪৬। কোন বন্দী অন্য কারাগারে বদলি হয়ে যাবার সময় তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি সঙ্গেই দিয়ে দিতে হবে, কোন বন্দী বদলি হয়ে যাবার পর কোন সম্পত্তি প্রেরণ করা যাবে না।
বিধি-৫৪৭। কোন বন্দী মুক্তি পেলে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ৫৭৭ এবং ৫৭৮ বিধি মোতাবেক তাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। কোন মুক্তি প্রাপ্ত বন্দীর অদাবীকৃত সম্পত্তি তার মুক্তির এক বছর পর্যন্ত কারাগারে রাখা হবে। এর মধ্যে দাবী না করা হলে তা বিক্রয় করে দেয়া হবে এবং প্রাপ্ত আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে ।
বিধি-৫৪৮। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। বন্দী মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি বিলি বন্টনের ব্যাপারে কোন ইচ্ছা জানিয়ে গেলে তা পত্রের মাধ্যমে থানায় জানাতে হবে। কোন বন্দী পালিয়ে গেলে এবং এক বছরের মধ্যে পুনঃধৃত না হলে তার সম্পত্তি বিক্রয় করে দিতে হবে এবং আয় বন্দীদের অদাবীকৃত সম্পত্তি হিসাবে ট্রেজারীতে জমা দেয়া হবে।