জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের ধর্মীয় আচার

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের ধর্মীয় আচার

আজকে আমরা আলোচনা করবো বন্দীদের ধর্মীয় আচার সম্পর্কে।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার । জেল কোড

বিধি-৬৮৯। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিম্নোক্ত গেজেটেড ছুটি প্রদান করা হবে-

  • দুর্গা পূজা- ১ দিন
  • ঈদুল আজহা – ২ দিন
  • শহীদ দিবস – ১ দিন
  • স্বাধীনতা দিবস – ১ দিন
  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী – ১ দিন
  • ঈদুল ফিতর – ২ দিন
  • বিজয় দিবস- ১ দিন
  • বড় দিন – ১ দিন
  • বুদ্ধ পূর্ণিমা – ১ দিন
  • মে দিবস – ১ দিন

টীকা- নং ২৩৫-স্ব ম:-জে (১) তারিখ ৩০-১০-১৯৭২ মূলে প্রতিস্থাপিত।

বিধি-৬৯০ । উৎসবের দিবসে বন্দীদেরকে তাদের নিজের খরচে কিংবা আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক প্রেরিত ফল এবং দুধসহ অরান্নাকৃত খাবার গ্রহণের জন্যে জেল সুপার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। ঈদুল ফিতর এবং দুর্গা পূজার দ্বিতীয় দিনে দৈনিক খোরাকী ভাতা বৃদ্ধি করে জেল সুপার কর্তৃক উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

টীকা- বর্তমানে সরকার কর্তৃক বিশেষ অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে দুই ঈদে, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত।

 

বিধি-৬৯১। একজন হিন্দু ধর্মীয় বন্দী ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ধর্মীয় তিথিতে উপবাস করতে পারে। তবে এ কারণে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর শ্রম লাঘব করা হবে না, তবে উপবাস শেষে তার জন্যে বিশেষ উন্নত মানের খাবার দেয়া যেতে পারে। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্তি খাবারের ব্যয়ের পরিমাণ উপবাসকালীন সময়ে তার প্রাপ্য খোরাকী মূল্য অপেক্ষা বেশী হবে না।

বিধি-৬৯২। যে সকল মুসলমান বন্দী রমজানে রোজা রাখতে ইচ্ছুক তারা তা রাখতে পারবে। এ সকল বন্দীদেরকে দেয়া হবে-

(১) সকালের নাস্তার পরিবর্তে ইফতারের সময় শরবত এবং কিছু হাল্কা খাবার (ছোলা ভুনা বা এক টুকরো পাউরুটি),

(২) রাতের বেলায় দুই বার খাবার, একটি (সেহরী) রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে খেতে হবে এবং সাধারণ খাবারের চেয়ে হাল্কা হবে।
খাবারের মোট ব্যয় অন্যান্য বন্দীদের খাবারের বায়ের চেয়ে বেশী হবে না। কোন শ্রম লাঘব অনুমোদিত হবে না, তবে সকালে আধ ঘন্টা কাজ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং বিকালে আধ ঘন্টা কাজ কমিয়ে দেয়া হবে।

কাজের এই পরিবর্তীত সময়সূচী সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জন্যে প্রযোজ্য হবে। যে সব ওয়ার্ডে মুসলমান বন্দীরা আছে সেখানে এ সময় পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলা কোন ওয়ার্ড বা সেল খোলা হবে না। তবে বন্দীরা ওয়ার্ডের ভিতর তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবে।

টীকা- বর্তমানে বন্দী প্রতি ৭ টাকা হারে ইফতারী বরাদ্দ করা হয়।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

বিধি-৬৯৩। মেডিকেল অফিসার যদি মনে করেন যে কোন বন্দীর রোজা অব্যাহত রাখা তার শরীরের জন্যে ক্ষতিকর বা বিপদজ্জনক, তা হলে তিনি ঐ বন্দীকে রোজা অব্যাহত না করার জন্যে পরামর্শ দিতে পারেন।

বিধি-৬৯৪। সকল শ্রেণীর বন্দীকে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা পালনের জন্যে যুক্তি সঙ্গত সুযোগ দেয়া হবে, তবে প্রার্থনা পালনের বিষয়টি ঐচ্ছিক হবে। মুসলমানদের একত্রে (নামাজ) আদায় করতে দেয়া হবে তবে জেল সুপার ঠিক করে নিবেন কত জন বন্দীকে এক সঙ্গে নামাজ আদায়ের অনুমতি প্রদান করবেন। প্রার্থনার স্থান জেল সুপার নির্ধারণ করে দিবেন। কোন ধর্মীয় মাতম অনুমোদন করা হবে না ।

নোট– নামাজের) আগে আযান দেয়া ধর্মীয় মাতম হিসেবে গণ্য হবে না এবং গুরুত্ব পূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে তার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

নং- ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে সংশোধিত।

বিধি-৬৯৫। ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে বন্দীদের মধ্যে ভেদাভেদ বা কলহ পরিহার করতে হবে। ধর্মীয় বিষয়ে কলহ সৃষ্টি করে বন্দী পলায়নের সুযোগ তৈরী করা হয় কিনা, তা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বিধি ৬৯৬-৬৯৭। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৬৯৮ । প্রত্যেক কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে লভ্যতা সাপেক্ষে একজন মুসলিম এবং একজন হিন্দু, দুইজন অবৈতনিক শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারগণ কর্তৃক তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন এবং নিয়োগ আদেশ গেজেটে প্রকাশিত হবে । এ সকল শিক্ষক বন্দীদেরকে নৈতিক উপদেশ দেয়ার জন্যে নিয়োজিত হবেন। যখন কোন কারাগারে (শিক্ষকের) পদ শূন্য হয় তখন জেল সুপার জেলা ম্যাজিট্রেটকে জানাবেন। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একজন উপযুক্ত অবৈতনিক শিক্ষককে উক্ত শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন।

অনুরূপ শিক্ষকগণ দুই বৎসরের জন্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং ৬৯৯ বিধি মোতাবেক তাদের নিয়োগ বাতিল না হলে, অনুরূপ মেয়াদ শেষে তারা নিয়োগ লাভে সামর্থ্য থাকলে এবং আগ্রহী হলে পুন:নিয়োগের যোগা হবেন। জেল সুপার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করবেন সেরূপ ভাবে (শুক্রবার। বা অন্যান্য গেজেটেড ছুটির দিনে তারা উপদেশ প্রদানের অনুমতি পাবেন। অনুমোদিত ধর্মীয় গ্রন্থ কারাগারের লাইব্রেরীতে সরবরাহ করতে হবে।

{ অন্য কোন ধর্মের বন্দীদের জন্যেও অনুরূপ অবৈতনিক শিক্ষক ও অবৈতনিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে, যদি ঐ ধর্মের ৪ জন বা ততোধিক সংখ্যক যথাক্রমে পুরুষ বা মহিলা বন্দী থাকে । নং ১৭২০ এইচ জে তারিখ ১৩-১০-১৯৫৯ মূলে বিলুপ্ত ।
নং ১৫৬ এইচ জে তারিখ ৩০-১-১৯৩৯ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের ধর্মীয় আচার
বন্দীদের ধর্মীয় আচার

 

টীকা- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জি.ও নম্বর ১ম-৩-৯২-জেল-১/৩২৭ তারিখ ৬-৬-৯৩ মোতাবেক একজন অবৈতনিক শিক্ষক প্রতিবার পরিদর্শনের জন্যে ২০ (বিশ) টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিধি-৬৯৯। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূর্ববর্তী বিধি মোতাবেক নিয়োজিত অবৈতনিক শিক্ষকের নিয়োগ সাধারণত: বাতিল করা হবে যদি তার মেয়াদ কালে তিনি অবিরাম তিন মাস যাবত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকেন ।

বিধি-৭০০। কোন যাজক বা পাদ্রী বা ধর্মীয় উপদেষ্টা নিজ ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের বন্দীদের নিকট গমন করবেন না। কোন বন্দী অন্য ধর্মীয় উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতে আগ্রহী হলে এ বিষয়ে কারা মহা পরিদর্শকের নিকট আদেশের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৭০১। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৭০২। অকার্যকর।

বিধি-৭০৩। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে মৃতের ধর্মীয় রীতিতে মৃতদেহের সৎকার করার জন্যে জেল সুপার নির্দেশ প্রদান করবেন। মৃতের আত্মীয় স্বজ মৃতদেহ গ্রহণ না করলে আগ্রহী স্থানীয় ধর্মীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৎকারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিটি মৃতদেহ সৎকারের জন্যে সর্বোচ্চ ১০ টাকা প্রদান করা যেতে পারে। উক্ত টাকা ” বিবিধ সেবা এং সরবরাহ খাত হতে ব্যয় করা হবে। কোন বন্দী কারাগারে মারা গেলে এ বিষয়ে বিধি ৯৮ অনুসরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *