জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

জেল কোড অনুযায়ী বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

আজকে আমরা  বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড । জেল কোড

{বিধি ৫৯৮-ক । (১)দণ্ডের যথেষ্ট পরিমাণ মেয়াদ অতিবাহিত করার পর সমাজে নিরাপদে মুক্তি প্রদান করা যায়, অন্যদিকে একই সঙ্গে কারা প্রশাসনের অর্থ সাশ্রয় করা যায়, এমন কতিপয় শ্রেণীর কিছু সংখ্যক সাজাপ্রাপ্ত সংশোধিত বন্দীকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি উপদেষ্টা বোর্ড নিয়োগ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের ধার্য তারিখ মোতাবেক বোর্ড প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বছরে কমপক্ষে দুইবার বসবে।

(২) { বোর্ডের গঠন নিম্নরূপ হবে-

  • চেয়ারম্যান -. কারা মহাপরিদর্শক ।
  • ভাইস চেয়ারম্যান – সংশ্লিষ্ট জেলা জজ / অতিরিক্ত জেলা জজ (জেলা জজ সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)
  • সদস্য – সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক / অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেলা প্রশাসক সদর দপ্তরে উপস্থিত না থাকলে)।
  • সদস্য – কারা পরিদর্শকগণ হতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত দু’জন বেসরকারী সদস্য।
  • সদস্য-সচিব – কেন্দ্রীয় কারাগার সংশ্লিষ্ট কারা উপ-মহা পরিদর্শক।}

নং ৪৪-এইচ.জে (১) তারিখ ২৪-১-১৯৭০ মূলে প্রতিস্থাপিত।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-খ ৷ (১) তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্যে সাজাপ্রাপ্ত অনভ্যাস গত কোন বন্দী রেয়াতসহ দুই বৎসর বা দণ্ডের অর্ধেক, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর এবং কোন অভ্যাসগত সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রেয়াতসহ আড়াই বৎসর কিংবা দণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ, যা বেশী হয়, ভোগ করার পর তার অকালীন মুক্তির বিষয় বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।

(২) মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্যে বিশেষ রেয়াতসহ অর্জিত মোট রেয়াত গণনা করতে হবে, তবে তা দণ্ডের এক তৃতীয়াংশের বেশী কিংবা অতিবাহিত সময়ের বেশী হবে না।

(৩) ধর্ষণ, জালিয়াতি, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসমূলক অপরাধে দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয় বোর্ডের নিকট উপস্থাপিত হবে না। দণ্ড বিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, 472,473, ৪৭৪, ৩৯৬, ৩৯৭,৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০, ৪০১ এবং ৪০২ এবং ৪৮৯-এ, ৪৮৯-বি, ৪৮৯-সি এবং ৪৮৯-ডি ধারায় দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা বোর্ডের বিবেচনার যোগ্য হবে না।

(৪) সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ভবঘুরে বা গুণ্ডা শ্রেণীর সদস্য এমন অভ্যাসগত অপরাধী, তিনটির বেশী সাজা পেয়েছে এমন অভ্যাসগত অপরাধী এবং ৬১৮ বিধির আওতায় অভ্যাসগত অপরাধীদেরকে বোর্ডের বিবেচনার আওতা বহির্ভূর্ত রাখা হবে।

বিধি ৫৯৮-গ ৷ বোর্ড দণ্ডবিধির ১৪৭ ৩৬৩ ৩৬৪ ৩৬৫ ৩৬৬ ৩৬৭ ৩৬৮, 1 ৩৬৯ (অপহরণ এবং হরণ), ৩৭৭ (অস্বাভাবিক অপরাধ) এবং ৪১২ ধারা এবং মুদ্রা জাল করার দায়ে দণ্ডিত অভ্যাসগত এবং অনাভ্যাসগত উভয় প্রকার সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয়ও বিবেচনা করবে। তা ছাড়া বোর্ড নারী সংক্রান্ত অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত অভ্যাসগত বন্দীদের বিষয়ও বিবেচনা করবে, তবে শর্ত থাকে যে, সে সকল অপরাধ এমন যেখানে পাশবিকতা ছিল না, দণ্ডিত ও (ভিকটিম) মহিলা পরস্পর সম্মতিতে ছিল।

বিধি ৫৯৮ ঘ ৷ অকার্যকর।

 

বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড
বন্দীদের অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে উপদেষ্টা বোর্ড

 

বিধি ৫৯৮-ঙ। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত দীর্ঘ মেয়াদী বন্দীদের বিষয়েও বোর্ড পর্যালোচনা করবে, এ ক্ষেত্রেও বোর্ড সাধারণ আদালতে দণ্ডিতদের প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

বিধি ৫৯৮-চ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বহির্ভূত রাজনৈতিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বিষয়ও বোর্ড বিবেচনা করবে, তবে এরূপ বিবেচনার পূর্বে বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্যে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি ৫৯৮-ছ। বোর্ড বৈঠক চলাকালে দণ্ডের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হয়নি কিন্তু পরবর্তী বোর্ড বৈঠকের আগে পূর্ণ হবে, এমন যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মুক্তির জন্যে বোর্ড সুপারিশ করতে পারবে।

বিধি ৫৯৮-জ। (১) যে সকল বন্দী কুষ্ঠ, যক্ষা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তাদের বিষয়েও বোর্ড বিবেচনা করবে।

নোট-(ক) যদি কুষ্ঠ রোগ অন্যদের জন্য বিপদজনক হতে পারে মর্মে মেডিকেল অফিসার প্রতিবেদন প্রদান করেন এবং যদি বন্দী এই শর্তে রাজী থাকে যে, তাকে মুক্তি প্রদান করা হলে তার আত্মীয় স্বজনরা যদি তাকে গ্রহণ না করে তা হলে সে কুষ্ঠ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হবে তবে তাকে মুক্তি প্রদানের বিষয় বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় তাকে এরূপ শর্তে মুক্তি দেয়া হবে, মেডিকেল অফিসার তার প্রতিবেদনে যেরূপ উল্লেখ করেন।

নোট-(খ) অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি আক্রান্ত বন্দীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

বিধি ৫৯৮-ঝ। (১) বোর্ড কেবলমাত্র অপরাধের ধরন বিবেচনা করবে না, সে সঙ্গে বন্দীর চরিত্র এবং পূর্ব ইতিহাস, কারাগারে তার আচরণ এবং ইতিমেধ্যে অতিবাহিত কারা ভোগের ফলাফল এবং তাকে মুক্তি প্রদান সমাজের জন্যে নিরাপদ হবে কিনা প্রভৃতি বিবেচনা করবে। কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীর পূর্ব পরিচিতি যাচাই সাধারণত আবশ্যক হবে না: কারাগারে তার আচরণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট হবে।

(২) সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকে নিম্নোক্ত তথ্যাদি পেশ করবেন-

(ক) দণ্ড প্রদানকারী আদালতের রায়;

(খ) বন্দী যে জেলার বাসিন্দা সে জেলার অফিসার হতে প্রাপ্ত বন্দীর পূর্ব ইতিহাস এবং চরিত্র; এবং

(গ) বন্দীর কারাগারের রেকর্ড।

সদস্য-সচিব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশ সুপারের মতামতও গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা ঐচ্ছিক হবে। জেল সুপার এবং মেডিকেল অফিসার বোর্ডের নিকট বন্দীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং মুক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি উপস্থাপন করবেন।

নোট, কোর্ট মার্শালে দণ্ডিত বন্দীদের বিষয়ে বোর্ডের সদস্য-সচিব বন্দীর প্রাক-পরিচিতি, চরিত্র, অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণী এডজুট্যান্ট জেনারেল থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিধি ৫৯৮-ঞ। আওতা ভূক্ত জেলা কারাগারের জেল সুপারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের { সিনিয়র) জেল সুপারের নিকট এ বিধি সমূহে বর্ণিত উপায়ে তাদের কারাগারে আটক মুক্তির যোগ্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর বিষয় প্রেরণ করবেন।

বিধি ৫৯৮-ট। বোর্ডের সদস্য-সচিব বোর্ডের বৈঠকের কার্যবিবরণী রেকর্ড করবেন এবং ১২৩ নম্বর জেল ফরমে অকালীন মুক্তি প্রদানের জন্যে সুপারিশকৃত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের বর্ণনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজ পত্রসহ সরকারের আদেশের জন্যে পেশ করার উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *