আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট
Table of Contents
পরিচ্ছেদ ১ ডায়েট

কারাগার একটি বিশেষ আবাসস্থল, যেখানে আসামীরা অবস্থান করেন। গাউল, জেল , দ্য বিগ হাউজ, দ্য স্ল্যামার অথবা দ্য স্টোনি লোনসাম নামেও কারাগারের পরিচিতি রয়েছে। এরফলে অপরাধী ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় বাঁধাগ্রস্ত হন ও মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন না। কারাগার সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। কারাগারের ইংরেজি শব্দ হচ্ছে প্রিজন যা প্রাচীন ফরাসী শব্দ প্রিসাউন থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
বিধি-১০৯২।
ডায়েট প্রদানের উদ্দেশ্যে বন্দীদেরকে নিম্নোক্ত ভাবে শ্রেণী বিভক্ত
করা হবে :-
শ্রেণী-I : ডিভিশন III ভুক্ত সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দী শ্রেণী-II :
(১) ডিভিশন III ভুক্ত ১৬ বৎসরের নিম্ন বয়সের সকল সাজা প্রাপ্ত বন্দী।
(2) ডিভিশন III ভুক্ত সকল সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দী
(৩) ডিভিশন III ভুক্ত সকল বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী
(8) ডিভিশন II ভুক্ত সকল পুরুষ ও মহিলা বিচারাধীন বন্দী।
বিধি-১০৯৩।
সকল বন্দীকে দিনে তিনবার খেতে দেয়া হবে- সকালে দিনের কাজ শুরুর আগে, দুপুর বেলায় এবং বিকালে লক আপে নেয়ার আগে (বিধি ৬৩৬, ৬৪২,এবং ৬৪৩ অনুসরণ করতে হবে)।
বিধি-১০৯৪ ।
অকার্যকর।
বিধি-১০৯৫/১১০০।
(ক) বন্দীদের দৈনিক খাদ্য তালিকা :-
ক্রমিক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিচারাধীন বন্দী / ডিটেন্যু
নং
ডিভিশন I ও II ডিভিশন III ডিভিশন I ডিভিশন II
১। সকালের খাবার
(ক) রুটি/ পাউরুটি রুটি রুটি /পাউরুটি রুটি
(খ) চিনি গুড় / ডাল চিনি গুড় / ডাল
(গ) দুধ দুধ
(ঘ) জেলী জেলী
(ঙ) ডিম ডিম
(চ) ঘি/মাখন ঘি/মাখন
(ছ) কলা কলা
(জ) চা চা
২। দুপুরের খাবার
(ক) ভাত/রুটি রুটি/ ভাত ভাত/রুটি রুটি/ আটা
(খ) মাছ/মাংশ শাক-সব্জি মাছ/মাংশ শাক-সব্জি / ডাল
শাক-সব্জি / ডাল
(ঘ) ডাল ডাল
৩। রাতের খাবার
(ক) ভাত/রুটি ভাত ভাত/রুটি ভাত
(খ) মাছ/মাংশ মাছ/মাংশ মাছ/মাংশ মাছ/মাংশ
(গ) শাক-সব্জি শাক-সব্জি শাক-সব্জি শাক-সব্জি
(ঘ) ডাল ডাল ডাল ডাল
(খ) বন্দী প্রতি দৈনিক বরাদ্দকৃত ডায়েট স্কেল :-
খাদ্যের পরিমাণ (গ্রাম)
খাদ্য দ্রব্যের নাম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বিচারাধীন বন্দী/ ডিটেনা
ডিভিশন I ও II ডিভিশন III ডিভিশন I ডিভিশন II
(বিধি ১১০০) (বিধি ১০৯৫) (বিধি ১০৯৫)
১। পাউরুটি( সকাল) ১১৬.৬৪ – ৮৭.৪৮ –
২। পাউরুটি (অন্যান্যবেলা) ৩৪৯.৯২ – ২৯১.৬ –
৩। আটা ৫৮.৩২ ১১৬.৬৪ ৫৮.৩২ ৮৭.৪৮
৪। চাউল ১৭৪.৯৬ ৫৮৩.২ ১৪৫.৮ ৪৯৫.৭
৫। মাছ/মাংশ ৩৬৪.৫ ৩৬.৪৫ ২১৮.৭ ৩৬.৪৫
৬। ডাল ৮৭.৪৮ ১৪৫.৮ ৮৭.৪৮ ১৪৫.৮
৭। সব্জি ১৪৫.৮ ২৯১.৬ ১৪৫.৮ ২৯১.৬
৮। তৈল ( ভোজ্য) ৪৩.৭৪ ২০.৫ ৪৩.৭৪ ২০.৫
৯। গোল আলু ১১৬.৬৪ – ১১৬.৬৪ –
১০। পিঁয়াজ ৪৩.৭৪ ৪.৬১ ৪৩.৭৪ ৪.৬১
১১। শুকনা মরিচ – ২.০৫ – ২.০৫
১২। শুকনা হলুদ – ১.০২ – ১.০২
১৩। ধনিয়া – ০.৫১ – ০.৫১
১৪। লবন ২৯.১৬ ৩২.৮ ২৯.১৬ ৩২.৮
১৫। মসল্লা ৭.২৯ – ৭.২৯ ৩২.৮
১৬। চা ১৪.৫৮ – ১৪.৫৮ –
১৭। চিনি ৫৮.৩২ – ৫৮.৩২ –
১৮ । দুধ (পাউডার) ১৪.৫৮ – ১৪.৫৮ –
১৯। মাখন ২১.৮৭ – ২১.৮৭ –
২০। জেলী ১৪.৫৮ – ১৪.৫৮ –
২১। গুড় – ১৪.৫৮ – ১৪.৫৮
টীকা-১।
জেল কোডের ১০৯৫ বিধিতে বাঙালী এবং অবাঙালী বন্দীদের জন্যে দু রকমের ডায়েটের বিধান রয়েছে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। উপরের তথ্যাদি জেল কোড ১০৯৫ ও ১১০০ মোতাবেক বর্তমান প্রচলিত হার অনুসারে প্রদত্ত।
টীকা-২।
কারাগার সমূহে মাছ, খাসী ও ছাগীর মাংসের সাথে এর বিকল্প হিসেবে গো-মাংস সরবরাহ করার অনুমতি দেয়া যাবে। – নং-পি-২৬/৮৯-জেল-১/২৪৪ তারিখ ৩-৬-১৯৯০। টীকা-৩। কারা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক সরকার জেল কোডে অনুমোদিত হার। অপেক্ষা মসল্লার পরিমান ২৫% বৃদ্ধি করেছেন। আদেশ নং-৯৬/৮২(১) স্ব:ম:(জেল-১)/৬৪০
তারিখ ২৫-১১-৮২।
বিধি-১০৯৬।
I শ্রেণীর বন্দীদেরকে সকালের খাবার হিসাবে মেডিকেল অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, চালের সাথে ডাল, তেল এবং লবন মিশিয়ে খিচুড়ি আকারে দেয়া যাবে,তবে সে ক্ষেত্রে দুপুর এবং রাতের খাবার হতে ডাল বাদ যাবে। ডাল এবং চাল মেশানোর আগে পৃথক রান্না করতে হবে। যখন বন্দীদের ওজন হ্রাস পায় বা স্কাভীর প্রবণতা দেখা যায়, তখন চিটা গুড় বা বিশুদ্ধ গুড় দেয়া যেতে পারে।
ওজন হ্রাসের বিশেষ প্রবণতা দেখা দিলে সকালের খাবারে গোল আলু বা কারাগারের বাগানে উৎপাদিত অন্যান্য সব্জি দেয়া যেতে পারে। জেলার সকালের খাবারে বৈচিত্র পূর্ণ করার চেষ্টা করবেন।
বিধি-১০৯৭।
দুপুরের এবং রাতের খাবার একই প্রকার হবে। তবে যদি ভাত ও রুটি দুটি দেয়ার ব্যবস্থা থাকে তবে একবেলা সম্পূর্ণ ভাত এবং অপর বেলা সম্পূর্ণ রুটি দিতে হবে।
বিধি-১০৯৮।
প্রত্যেক কারাগারে বন্দী প্রতি দৈনিক আধা ছটাক মাছ বা মাংশ পালাক্রমে বরাদ্দ করা যেতে পারে। যদি মেডিকেল অফিসার মনে করেন, মাছ বা মাংশের এই পরিমাণ দ্বিগুণ করা যেতে পারে এবং তার পরিবর্তে আধা ছটাক ডাল কমিয়ে দেয়া যেতে পারে। জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শ করে মাছের বিকল্প হিসাবে সব্জি বরাদ্দ করতে পারেন।
নোট-এ বিধিতে অনুমোদিত মাছ বা মাংশ জেল সুপার প্রত্যহ পালাক্রমে বা মোট পরিমাণ বেজায় রেখে একত্রে সপ্তাহে একবার বা দুইবার বা প্রতি চারদিন পর একবার বরাদ্দ করতে পারেন ।
বিধি-১০৯৯ ।
প্রয়োগ নেই ।
বিধি-১১০১।
৯৭, ৯৪২, ১১০২ থেকে ১১০৪, ১২২১ এবং ১২২৪ বিধিতে বর্ণিত কারণ ব্যতীত অনুমোদিত ডায়েট পরিবর্তন করা যাবে না। সিভিল বন্দীদেরকে ৮৯০ বিধি মোতাবেক খাবার দেয়া হবে। ১২৩৮ বিধি অনুযায়ী হাসপাতালে ডায়েট বরাদ্দ করা হবে ।
বিধি-১১০২ ।
প্রত্যেক বন্দী তার শ্রেণী মোতাবেক খাবার পাবে। তবে শর্ত থাকে যে –
(১) যদি কোন কারাগারে উপ-জাতীয় বা পাহাড়ী লোক বেশী থাকে, জেল সুপার মেডিকেল অফিসারের সাথে পরামর্শক্রমে তাদের উপযোগী ডায়েট প্রস্তুত করতে পারবেন;
(২) অভাব বা দুর্ভিক্ষের সময়ে নুতন ভর্তিকৃত বন্দীদের দিকে বেশী নজর দিতে হবে;
(৩) সশ্রম বন্দী কাজ থেকে বিরত থাকা অবস্থায় ১০৯৫ বিধির II স্কেলে ডিভিশন III বন্দীদের খাবার পাবে;
(8) দুগ্ধদানকারী মাতাকে দুই ছটাক চাল বা আটা এবং আধা ছটাক সরিষার তেল সাধারণ সশ্রম ডায়েটের অতিরিক্ত দিতে হবে।
বিধি-১১০৩।
মায়ের সাথে যে সব সন্তান কারাগারে ভর্তি হয় তাদেরকে মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক খাবার দেয়া হবে; বা নিম্নোক্ত ভাবে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে-
(ক) ১২ মাসের কম বয়সের শিশুদের মায়ের বুকের দুধের অভাব হলে গরুর দুধ পানিতে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে;
(খ) ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের শিশুদের ৬ ছটাক দুধ, দুই ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল দেয়া যেতে পারে;)
(গ) ১৮-২৪ মাস বয়সের শিশুদেরকে চার ছটাক দুধ, চার ছটাক চাল এবং আধা ছটাক ডাল।
নোট- দুই বছরের বেশী বয়সের শিশুদেরকে মেডিকেল অফিসারের বিবেচেনা সাপেক্ষে ডায়েট দেয়া যেতে পারে।

বিধি-১১০৪ ।
খাবারের ধরন পরিবর্তন সংক্রান্ত।
বিধি-১১০৫।
রেজিষ্টার।