চুক্তিতে প্রতারণা আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতারণা [ Law of Contracts on Fraud, Misrepresentation ]” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
Table of Contents
চুক্তিতে প্রতারণা
প্রতারণা
Fraud প্রতারণার আওতায় সে সকল কার্য অন্তর্ভূক্ত যা একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে সম্পাদন করে। প্রতারণার অর্থ কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা ঘটনা সত্য বলে বিশ্বাস করানো। চুক্তি আইনের ১৭ ধারায় প্রতরণার অর্থ এবং এর অন্তর্ভূক্ত কার্যসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে চুক্তির এক পক্ষ প্রতারণার সাহায্যে অপর পক্ষের প্রতিনিধি বা অপর পক্ষকে চুক্তিতে অংশ গ্রহণে প্রলুব্ধকরা। প্রতারণার আওতায় নিম্নলিখিত কার্যসমূহ অর্ন্তভূক্ত:
১। এমন প্রস্তাব করা যা সত্য নয়, প্রস্তাবকারী নিজে তা জানে। ২। তথ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত গোপন করা। ৩। কোনো কার্য পালন না করা অভিপ্রায় থাকা সত্ত্বেও সে কাজের অংগীকার করা। ৪। প্রবঞ্চনামূলক অন্য যে কোনো কাজ করা। ৫। এমন কোনো কাজ করা বা করা থেকে বিরত থাকা যাকে আইনে প্রতরণা বলা হয়েছে।

নীরবতা কি প্রতারনা (Can silence be braudulent ?)
নীরবতা সাধারণ অর্থে প্রতারনা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ক্ষেত্রসমূহ হলো:
১। কথা বলা যেখানে আইনগত কর্তব্য: আইন হিসেবে যেখানে কথা বলা কর্তব্য সেখানে নিরব থাকা প্রতারনা। যেমন বিক্রেতা তার সম্পত্তি বিক্রি করার সময় সম্পত্তির সকল ত্রুটি প্রকাশ করবেন। বিক্রেতা কোনো বিষয় প্রকাশ না করে ইচ্ছাকৃত নীরব থাকেন তবে তা প্রতারনা হিসেবে গণ্য হবে।
২। যে ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল: অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা কথা বলার সামিল। যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে বললো আপনি যদি কিছু না বলেন তবে আমি ধরে নিব সাইকেলটি উন্নত মানের। বিক্রেতা নীরব থাকায় ক্রেতা সাইকেলটি ক্রয় করে নিল, প্রকৃত পক্ষে সাইকেলটি ত্রুটিপূর্ন ছিল। এক্ষেত্রে বিক্রেতার নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে।
৩। সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে সদ্বিশ্বাসের চুক্তির ক্ষেত্রে নীরবতা প্রতারণার সামিল। এই চুক্তির আওতায় পড়ে: ক) বীমা চুক্তি, খ) জামিনের চুক্তি, গ) অংশীদারিত্বের চুক্তি, ঘ) কোম্পানির শেয়ার ক্রয় চুক্তি, ঙ) বিবাহ চুক্তি এবং অন্যান্য। এ সকল চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের নীরবতা প্রতারণার পর্যায়ে পরে। ৪। অবস্থার পরিবর্তন হলে: অনেক সময় দেখা যায় যখন চুক্তি হয় তখন বক্তব্য সত্য বা সঠিক ছিল। পরে অবস্থা পরিবর্তনের ফলে বক্তব্যের সত্যতা পরিবর্তন হতে পারে। পরিবর্তিত অবস্থা অপর পক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে নতুবা প্রতারণার দায়ে দায়ী হতে হবে।

প্রতারনার ফলাফল
প্রতারনার মাধ্যমে সম্মতি আদায় করলে সে চুক্তি বাতিলযোগ্য হবে। নিম্নে প্রতারনার দায়ে চুক্তির বিভিন্ন ফলাফল উল্লেখ করা হলো:
১। যে প্রতারিত হয়েছে সে ইচ্ছা করলে চুক্তিটি বৈধ রাখতে পারে অথবা বাতিলও করতে পারে, অথবা
২। প্রতারনা না হলে চুক্তিটি যে অবস্থায় থাকতো সে অবস্থায় নিয়ে যাবার দাবি জানাতে পারে, অথবা
৩। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ক্ষতিপূরন আদায় করতে পারে।