জেল কোড অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শক

জেল কোড অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শক

আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

কারা মহাপরিদর্শক 

বিধি ২১। সরকার একজন মহাপরিদর্শক নিয়োগ করবেন। সরকারের নির্দেশাবলী সাপেক্ষে তিনি দেশের কারাগার সমূহের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করবেন।

টীকা- ১৮৫৫ সালে ইনস্পেক্টর জেনারেল অব প্রিজন্স বা কারা মহাপরিদর্শক পদ সৃষ্টি হয় । 

বিধি-২২। কারাগারের সার্বিক প্রশাসনের দায়িত্ব কারা মহাপরিদর্শকের উপর ন্যস্ত থাকবে । সকল কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারের অভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার সকল নির্দেশ প্রতিপালন করবেন। কারাগার সমূহে সকল বিধি বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করবেন। জেল সুপার কর্তৃক কোন বিধি বা কারা মহাপরিদর্শকের কোন আদেশ লংঘন করা হলে এবং সতর্ক করার পরও অব্যাহত রাখলে, কারা মহাপরিদর্শক তা সরকারের নিকট উপস্থাপন করবেন ।

বিধি-২৩। কারা মহাপরিদর্শক কারাগার সমূহের সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন ও প্রযোজ্য নিয়মানুসারে কারাগার সমূহ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্যে চাহিদা মোতাবেক বাজেট বরাদ্দের জন্যে অনুরোধ জানাবেন।

বিধি-২৪ ৷ নিম্নোক্ত ব্যয় সমূহ ব্যতীত কারাগারের ব্যয় সংক্রান্ত সকল মাসিক ও অন্যান্য বিল কারা মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করতে হবে এবং তার দ্বারা নিরীক্ষিত হবে –

(ক) গণপূর্ত বিভাগের নিয়ন্ত্রিত পূর্ত কাজের ব্যয় 

(খ) ফরম বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত রেজিষ্টার এবং ফরমের ব্যয়।

(গ) মেডিকেল স্টোর বিভাগ কর্তৃক সরবরাহকৃত ঔষধের বায়।

বিধি ২৫। নিম্নোক্ত সীমাবদ্ধতায় বাজেট বরাদ্দের মধ্যে সাধারণ এবং উৎপাদন বিভাগের কাজের সকল ব্যয় অনুমোদনের জন্য কারা মহাপরিদর্শক ক্ষমতাবান- 

(ক) খাদ্য বা উৎপাদন কাজের প্রয়োজনে কোন দ্রব্য সরকারের অনুমতি ছাড়া পনর মাসের অধিক সময়ের জন্যে মজুত রাখার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা যাবে না:

(খ) কোন একটি দ্রব্যের মূল্য ২৫০০) টাকার অধিক হলে সরকারের অনুমতি ছাড়া ক্রয় করা যাবে না। কারা বিভাগের নিয়মের অন্তর্গত কোন দ্রব্য ক্রয়ের তিনি অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, তবে তার মুল্য ২৫০০ টাকার অধিক হবে না। সিভিল কোড এবং সরকারের বিশেষ আদেশ সাপেক্ষে তিনি আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব সমূহ নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি কোটেশন আহবান এবং নমুনা যাচাই করে বার্ষিক চুক্তির মাধ্যমে একই দরে দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্যে এবং (৫০.০০০/ টাকার অধিক মূল্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে অনুমোদিত ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠান, কারখানা, প্রভৃতি নিয়োগ করতে পারবেন। ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমেও ক্রয় করা যাবে। 

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

টীকা-পারচেজ ম্যানুয়েল মোতাবেক সংশোধিত ।

বিধি-২৬। সরকারের নিকট প্রেরণ ছাড়াই কারা মহাপরিদর্শক নষ্ট বা অকেজো হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়া সম্পদ অবলোপন করতে পারবেন- 

(১) ক্ষতির পরিমাণ প্রতিক্ষেত্রে অনধিক | ৫০,০০০) টাকা হলে 

(২) নিয়মের ত্রুটির জন্যে ক্ষতি না হয়ে থাকলে, সে ক্ষেত্রে নিয়ম সংশোধনের জন্যে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে 

(৩) কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, এমন কোন মারাত্মক অবহেলা না ঘটে থাকলে।

টীকা, আর্থিক ক্ষমতা পূন: অর্পণ সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের স্মারক নং অম/অবি/বানি:- ১/ডিপি- ১/২০০০/৬৩ তারিখ ৭-৩-২০০০ এবং তদানুযায়ী জারীকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর মমঃ(প্র: ১) বিধি-১৬/৯৮-৭০ তারিখ ২৫-১-২০০০ মোতাবেক।

বিধি-২৭। কারা মহাপরিদর্শকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত কোন কর্মকর্তা পেটি চুক্তি ছাড়া অন্য কোন চুক্তি করতে পারবেন না।

বিধি-২৮। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কারা মহাপরিদর্শক অনধিক ১১০ টাকা বেতনে অনধিক ছয় মাসের জন্যে অস্থায়ী নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন। তবে তিনি নিজের অফিসে অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না, বা এমন কোন অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে পারবেন না যে পদের বেতন অনুরূপ স্থায়ী পদের মূল বেতনের চেয়ে বেশী। বাজেট বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে কষ্ট সাধ্য ও বিশেষ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি কারা বিভাগের কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে অনুরূপ প্রতি কাজের জন্যে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সম্মানী প্রদান করতে পারবেন।

নোট- বাজেট সাপেক্ষে কোন সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মহিলা বন্দীর স্কট বা সঙ্গে থাকার প্রয়োজনে অনধিক ৭৫ টাকা বেতনে একাধিক্রমে এক মাসের জন্যে অস্থায়ী মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ প্রদানের জন্যে কারা মহাপরিদর্শক সাধারণ বা বিশেষ আদেশে জেল সুপারকে ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।। নং- ৩৫৯ এইচ কে তারিখ ১৮-৩-১৯৫৯ এবং নং ১৯৪ এইচ জে তারিখ ৬-৪৭০ মোতাবেক প্রতিস্থাপিত ও সংশোধিত।

বিধি-২৯। কর্মচারী নিয়োগ বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী (কারা অধিদপ্তর) নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৪ প্রযোজ্য।

বিধি-৩০। কারা আইনের ২৯(২) ধারা মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদানের জন্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত। মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে তিনি সরকারের অনুমোদন ব্যতীতই স্থায়ী আবাস হতে বন্দীদেরকে অস্থায়ী আবাসে স্থানান্তর করার অনুমোদন প্রদানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।

বিধি-৩১। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক কেন্দ্রীয় কারাগার বছরে একবার এবং প্রত্যেক জেলা কারাগার কমপক্ষে দুই বছরে একবার পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোন সময় পরিদর্শন করবেন। প্রত্যেক পরিদর্শনের সময় তিনি আঙিনা, ওয়ার্ড, সেল এবং অন্যান্য বেষ্টনী দেখবেন। পরিদর্শনকালে তিনি সকল বন্দীকে দেখবেন এবং তাদের আবেদন বা অভিযোগ শ্রবনের সুযোগ দিবেন এবং সে সংক্রান্ত শৃঙ্খলার বিষয়াদি তদন্ত করবেন এবং নিষ্পত্তি করবেন। সকল হিসাব, রেকর্ড, রেজিষ্টার নিয়ম মত সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা এবং রেকর্ড নিরাপদে রাখা হয় কিনা সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হবেন।

বিধি-৩২। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিলক্ষিত বিষয়ের উপর পরিদর্শন বইতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করবেন এবং জেল সুপারের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী রেকর্ড করবেন। যদি কারাগারের পরিস্থিতি অসন্তোষজনক হয়, তবে তিনি জেল সুপারের মতামতসহ তার মন্তব্য সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন।

 

কারা মহাপরিদর্শক

 

বিধি-৩৩। কারা মহাপরিদর্শক প্রত্যেক বছর শেষ হবার পর যথাসম্ভব অবিলম্বে, তবে ৩০শে এপ্রিলের পরে নয়, সরকারের কাছে কারাগার সমূহের পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। প্রতিবেদনে তিনি বন্দীদের পরিসংখ্যান উল্লেখ করবেন এবং কারাগারের প্রশাসন বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত এবং মন্তব্য প্রদান করবেন। তিনি ঐ সময়ের মধ্যে কোন কোন কারাগার পরিদর্শন করেছেন এবং সে সকল পরিদর্শনের সাধারণ ফলাফল কি তা উল্লেখ করবেন।

বিধি-৩৪। কারা মহাপরিদর্শক কারাগারের সীমানার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। 

বিধি-৩৫। তিনি পদাধিকার বলে সকল মানসিক হাসপাতালের পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি-৩৬। পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(১) ধারা মতে কারা মহাপরিদর্শক কমপক্ষে প্রতি ৬ মাসে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৬ এবং ৪৭১ ধারা মোতাবেক কারাগারে আটক পাগল ব্যক্তিদের পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিবেদন প্রদান করবেন: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৩ এবং ৪৭৪ ধারা অনুরূপ ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শককে সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭১ (২) ধারা এবং পাগল আইন, ১৯১২ এর ৩০(২) ধারা মোতাবেক সরকার জেল সুপারকে অনুরূপ দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।

বিধি-৩৭। কতিপয় বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারের সঙ্গে বিভাগীয় সকল পত্র যোগাযোগ কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে করতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পত্র তার মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৩৮। অকার্যকর

টীকা- কারা অধিদপ্তরে বর্তমানে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের একটি পদ রয়েছে।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পদের দায়িত্ব নিম্নরূপ-

(১) ভ্রমণ, ছুটি, অসুস্থতা জনিত কারণে কারা মহাপরিদর্শকের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন; 

(২) সদর দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কার্যাবলীর তত্ত্বাবধান ও কর্মকর্তাদের নৈমত্তিক ছুটি মঞ্জুর করণ;

(৩) কারা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বদলি করণ, 

(৪) কারা মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসাবে বিভিন্ন সভায় যোগদান:

(৫) বৎসরে অন্তত ৪টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৮টি জেলা কারাগার পরিদর্শন;

(৬) জেল কোডের ৩০ বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ,

(৭) জেল কোডের ৫৬৯ বিধি অনুযায়ী রেয়াতসহ যে সকল সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর ২০ বৎসর সাজা খাটা হয়েছে, তাদের মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের কার্যক্রম গ্রহণ;

(৮) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী মহিলা কারারক্ষীদের শৃঙ্খলা জনিত কারণে দেয় শাস্তির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপীলের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;

(৯) কারা বিভাগের দরপত্র কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন এবং দরপত্র সংক্রান্ত কাজে কারা মহাপরিদর্শককে সহায়তা প্রদান;

(১০) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষীদের এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে বদলি করণ:

(১১) প্রধান কারারক্ষী, কারারক্ষী, মহিলা কারারক্ষী ব্যতীত সকল তৃতীয় শ্রেণীর পদের কর্মচারীদের এক মাস পর্যন্ত অর্জিত ছুটি (চিত্ত বিনোদন ছুটিসহ) মঞ্জুর করণ

সূত্র- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ নং-১ ই-১৫/৮৫-জেল-১/২৯৫ তারিখ ৩-৬-৯৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *