আজকে আমরা কারা মহাপরিদর্শক সম্পর্কে আলোচনা করবো । যা জেল কোডের অন্তর্গত।

কারা উপ মহাপরিদর্শক
কারাগার পরিচালনার দায়িত্ব হলো জিম্মাদারীর দায়িত্ব। আদালতের আদেশে কোন ব্যক্তিকে আটক রাখা কিংবা ছেড়ে দেয়া কারাগার প্রশাসনের কাজ। যতক্ষণ কোন ব্যক্তি কারাগারে আটক থাকবে ততক্ষণ তার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের। তাই কারাগার পরিচালনার কাজ প্রধান তিনটি অংশে বিভক্ত- প্রথমত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, দ্বিতীয়ত কারাগারের নিরাপত্তা বিধান, তৃতীয়ত বন্দীদের স্বাস্থ্য রক্ষা।
কারাগারের নিরাপত্তার প্রধান দিক হলো বন্দী পলায়ন ও কারা বিদ্রোহ রোধ করা। ১৯৭৪ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ১৫৩ জন বন্দী পলায়ন করেছে, যার মধ্যে ৬৭ জন কয়েদী, ৮১ জন হাজতী এবং ৫ জন ডিটেন্যু। আমাদের কারাগারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে রাজশাহী কারাগারে বিদ্রোহ হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত ছোট বড় ২৫ টি কারা বিদ্রোহ হয়েছে।

আইনের স্বাভাবিক নীতি এই যে, অভিযুক্তকে যতক্ষণ দোষী প্রমাণ না করা যায় ততক্ষণ সে নির্দোষ। কিন্তু একজন ব্যক্তি গ্রেফতার হবার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার রহিত হয়ে যায়। জামিন না পেলে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীনকে হাজতবাস করতে হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণে খালাস পায়, তবুও হাজত বাসের ধ জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাবার অপূরণীয় ক্ষতি প্রভৃতি তার মনে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অধিকন্ত তার সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এমন কি পারিবারিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুরূপভাবে কারাদণ্ডে দণ্ডিতকেও একই দুর্বিপাক ভোগ করতে হয়।
কারা উপ মহাপরিদর্শক
বিধি-৩৯। কারা উপ মহাপরিদর্শক ।
টীকা-১। পূর্বে কেবল কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্যে ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল পদ ছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগে একটি ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল বা কারা উপ মহাপরিদর্শকের পদ রয়েছে।
টীকা-২। কারা প্রশাসনে আরো উন্নতি ও গতি সঞ্চার করণের উদ্দেশ্যে কারা উপ মহা পরিদর্শকগণ অন্তত: বৎসরে একবার তাদের অধিক্ষেত্রাধীন জেলা ও উপ কারাগার সমূহ পরিদর্শন করবেন। (নং বিধি-১২৯/৯৩-কারা-২/১৩৫ (১৫০), তারিখ ১৫-২-৯৫ ।
বিধি-৪০। প্রয়োগ নেই।
পরিচ্ছেদ III-IV,
বিধি ৪১-৪৩। প্রয়োগ নেই।