জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে বন্দী ভর্তি

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে বন্দী ভর্তি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি । জেল কোড

নোট-এই অধ্যায়ে “ওয়ারেন্ট” অর্থ কোন বন্দীকে কারাগারে আটক রাখার জন্যে কোন আদালতের প্রদত্ত আদেশ।

বিধি-৪৯৩। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কারাদণ্ড এবং আদেশ কার্যকর করার জন্যে জেল সুপারগণের ক্ষমতা ১৯০০ সালের বন্দী আইনে বর্ণিত আছে।

বিধি ৪৯৪-৪৯৫ । অকার্যকর।

বিধি-৪৯৬। কারাগার খোলার পর হতে সূর্যাস্তে লক-আপ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ে জেলার সাধারনত কারাগারে নুতন বন্দী ভর্তি করবেন। আদালতের বিশেষ আদেশ ছাড়া লক-আপ সময়ের পর বন্দী গ্রহণ করা যাবে না। সাজাপ্রাপ্ত নুতন বন্দীকে লক আপের পর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ওয়ার্ডে ভর্তি করা যাবে না। কোন বন্দীকে সাজা প্রদানের কারণে লক-আপ সময়ের পরে কারাগারে হাজির করা হলে রাতের জন্যে তাকে একটি সেলে অথবা বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে আটক রাখা হবে।

টীকা-১। আসামীকে যখন কারাগারে আটক রাখতে হবে তখন ওয়ারেন্ট জেলারের নিকট অর্পণ করতে হবে (ধারা-৩৮৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

টীকা-২। যে জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট সাজা প্রদান করেছেন তিনি বা তাঁর স্থলাভিষিক্ত জজ বা ম্যাজিট্রেট উক্ত সাজা কার্যকর করার জন্য ওয়ারেন্ট দিতে পারবেন (ধারা-৩৮৯, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৪৯৭। দুর্দান্ত চরিত্রের কিংবা জঘন্য অপরাধের জন্যে অভিযুক্ত কোন বন্দীকে কারাগারে প্রেরণের প্রাক্কালে কোর্ট অফিসারের দায়িত্ব হ’ল জেল সুপারকে অবহিত কারার জন্যে এ বিষয়ে জেলারকে জানানো। প্রেরিত তথ্য পৃথক পত্রে লিখিত হবে, জেল ওয়ারেন্টে লিখা যাবে না।

টীকা, কোর্ট অফিসার জেল সুপারকে অবহতি করার জন্যে একটি পৃথক রিপোর্টে জেলারকে জানাবেন যে, জেলে প্রেরিত কোন বিচারাধীন বন্দী বা দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী বেপরোয়া বা তার অপরাধ বিশেষভাবে সাংঘাতিক বা সে পূর্বে পাগল ছিল (প্রবিধান-৪৮৩, পিআরবি)।

বিধি-৪৯৮। নুতন আনীত বন্দীকে ভর্তি করার সময় জেলার বন্দীকে জিজ্ঞাসা করে তার নাম এবং ওয়ারেন্টে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। যদি বন্দী কোন জবাব প্রদান না করে এবং সঠিক তথ্য প্রদান না করে, তবে যে পুলিশ স্কট বন্দীকে কারাগারে নিয়ে এসেছে তার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বন্দী সনাক্ত করার জন্যে জেলার অনুরোধ করবেন। যদি পুলিশ অফিসার আনীত বন্দীকে সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন তবে জেলার বন্দীকে গ্রহণে অসম্মতি জানাবেন।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৪৯৯ । উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরকৃত রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে কারাগারে গ্রহণ করা যাবে না। ওয়ারেন্ট পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ প্রতিপালিত হয়েছে কিনা । রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীকে কারাগারে পাঠানো হলে জেলার তাকে ভর্তি করতে অসম্মতি জানাবেন এবং পরবর্তী ভিজিটের সময় বিষয়টি জেল সুপারকে জানাবেন।

বিধি- ৫০০। ফৌজদারি আদালত সমূহের ক্ষমতা ঃ-

  • হাইকোর্ট বিভাগ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড ।
  • দায়রা জজ/ অতিরিক্ত দায়রা জজ – আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড, মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষ।
  • সহকারী দায়রা জজ – মৃত্যুদণ্ড অথবা দশ বছরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড । ফৌ: কা: বি: ৯(৩) ধারা মতে কোন সহকারী দায়রা জজ অতিরিক্ত দায়রা জজ হিসেবে নিযুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারবেন।
  • মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট / প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ পাঁচ বছরের অনধিক কারাদণ্ড; দশ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা: বেত্রদণ্ড। ফৌ: কা: বি: ২৯-গ ধারা মতে বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রাপলিটান ম্যাজিষ্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড বা সাত বৎসরের অধিক কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস ব্যতীত আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড প্রদান করতে পারেন ।
  • দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নির্জন কারাবাসসহ তিন বছরের অনধিক কারাদণ্ড; পাঁচ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।
  • তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত – দুই বছরের অনধিক কারাদণ্ড: দুই হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।

এ ছাড়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত জরিমানা অনাদায়ে আইনে অনুমোদিত পরিমাণ কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন।
টীকা ১৯৮২ সালের ২৪ নং অধ্যাদেশ মূলে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩১-৩৩ক।

বিধি-৫০১। (১) যেখানে কোন কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার নিকট কার্যকর করার জন্য প্রেরিত কোন রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশের বৈধতা সম্পর্কে বা, যে কর্মকর্তার সীল বা স্বাক্ষরে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং ওয়ারেন্ট বা আদেশ জারী হয়েছে তার উপযুক্ততা সম্পর্কে সন্দেহ করেন, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের নিকট প্রেরণ করবেন, অতঃপর সরকারের আদেশে তিনি এবং অন্যান্য সরকারী কর্মচারীগণ বন্দীর ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তি করবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সরকারের নিকট প্রেরিত বিষয় অনিষ্পন্ন থাকা পর্যন্ত বন্দীকে রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে বর্ণিত উপায়ে এবং বাধা-নিষেধের আওতায় আটক রাখতে হবে।

(৩) যদি জেল সুপারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ত্রুটি বশত: রীট, ওয়ারেন্ট বা আদেশে কোন অসংগতি বা অনিয়ম রয়েছে, তা হলে তিনি অনুরূপ আদেশ দানকারী আদালত বা কর্তৃপক্ষকে জানানো সাপেক্ষে বন্দীকে গ্রহণ করবেন।

(৪) কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ত্রুটি সম্পর্কে জেল সুপারের পরের উপর কোন জবাব পাওয়া না গেলে, তিনি বিষয়টি কারা মহাপরিদর্শকের নিকট জানাবেন এবং তার মাধ্যমে সরকারের নিকট জানাতে পারবেন ।

নোট। কারাদণ্ডের আদেশে সশ্রম বা বিনাশ্রম সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকলে, তারিখ না থাকলে, সিল না থাকলে, বা, আদেশ পেন্সিল দ্বারা স্বাক্ষরিত হলে তা সংশোধনের জন্যে আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে (স্বাক্ষর বিহীন ওয়ারেন্ট গ্রহণ করা যাবে না)।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫০২। যখন কোন ওয়ারেন্ট সংশোধনের জন্যে প্রেরিত হয়, মূল ওয়ারেন্টটি ফেরত না আসা পর্যন্ত তার একটি কপি সংশ্লিষ্ট আলমারীতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ পত্রের মাধ্যমে সংশোধিত কপির প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।

বিধি-৫০৩। বন্দীকে কারাগারে ভর্তির তারিখ এবং তাকে যে ক্রমিক নম্বর প্রদান করা হয়েছে তা বন্দীর ওয়ারেন্টের গায়ে লিখে জেলার স্বাক্ষর করবেন। ওয়ারেন্ট সমূহ রিলিজের ক্রম অনুসারে মাসিক বান্ডেল আকারে সাজিয়ে রাখতে হবে,বান্ডেলের বাহিরের দিকে মাস এবং বছর লিখে রাখতে হবে। একই মাসে মুক্তি পাবে এমন বন্দীদের ওয়ারেন্ট একটি বান্ডেলে রাখতে হবে।

প্রতিটি বান্ডেল মাসওয়ারী পিজিয়ন হোল বা খোপযুক্ত আলমারীতে রাখতে হবে। আলমারীর চাবি জেলার বা ডেপুটি জেলারের হেফাজতে থাকবে। পরবর্তী যে কোন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বন্দীর নামের বানান ওয়ারেন্ট অনুসারে লিখিত হবে, যদি তা ভুলও থাকে। প্রত্যেক জেল রেকর্ডে অপরাধের নাম এবং আইনের ধারা একই সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

বিধি-৫০৪। কারাগারে গ্রহনের সময় বন্দীকে সম্পূর্ণরূপে তল্লাশী করতে হবে। সম্ভ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর সঙ্গে আনা জামা-কাপড়, টাকা, জুয়েলারী, ডকুমেন্টস বা অন্য সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে। বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর জামা কাপড় ব্যতীত সকল জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে ৷ বিচারাধীন বন্দীর জামাকাপড়, বেডিং এবং জুতা ব্যতীত অন্যান্য জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে হবে।

সিভিল বন্দীর কাছে বিপদজনক কোন অস্ত্র, পলায়নের কোন জিনিস, স্পিরিট, ড্রাগ এবং অনৈতিক বই থাকলে নিয়ে নিতে হবে। সিভিল বন্দীদেরকে অন্য বন্দীদের সামনে তল্লাশী করা যাবে না। মহিলাদেরকে মেট্রন বা মহিলা কারারক্ষী দ্বারা শুধুমাত্র মহিলাদের উপস্থিতিতে তল্লাশী করতে হবে। বন্দীদের কাছ থেকে গৃহীত সকল সম্পত্তির বিষয়ে নবম অধ্যায় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিধি-৫০৫। নুতন আগত বন্দীকে মেডিকেল সাব অর্ডিনেট পরীক্ষা করে। দেখবেন, কোন বন্দী অসুস্থ থাকলে তাকে চিকিৎসার জন্যে কারা হাসপাতালে প্রেরণ করবেন। যদি নুতন আগত বন্দীদেরকে পর্যবেক্ষণে বা পৃথক রাখার জন্যে কোন ওয়ার্ড থাকে, মেডিকেল অফিসার তাদেরকে অন্য বন্দীদের সাথে রাখার আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে রাখতে হবে।

বিধি-৫০৬। কারাগারে ভর্তির পর পরই বন্দীরা তাদের জামা কাপড় এবং নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ধৌত করবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদেরকে আটত্রিশতম অধ্যায়ের বর্ণনা মোতাবেক কারাগারের পোশাক ও সরঞ্জাম দেয়া হবে। তাদের নিজেদের পোশাক নিয়ে নেয়া হবে এবং সিদ্ধ ও দৌত করে ষ্টোরে রেখে দেয়া হবে ।

বিধি-৫০৭। সাধারণত কারাগারে গ্রহণের পরবর্তী সকালে সকল নুতন বন্দীকে মেডিকেল অফিসারের সামনে হাজির করতে হবে। তিনি তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং ভর্তির রেজিষ্টারে এবং হিস্ট্রি টিকেটে তাদের বয়স, ভর্তিকালীন স্বাস্থ্য, ওজন, কোন অসুখ আছে কিনা, সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত হলে কি ধরনের কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রভৃতি লিখবেন।

বিধি ৫০৮-৫০৯। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৫১০। প্রত্যেক বন্দীর একটি ক্রমিক নম্বর থাকবে এবং যতদিন সে কারাগারে থাকবে ততদিন এ নম্বর দ্বারা পরিচিত হবে। যে কোন যোগাযোগ পত্রে তার নামের সঙ্গে এ নম্বর উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক কারাগারে বন্দীদের ক্রমিক নম্বর ১ হতে ১০,০০০ পর্যন্ত হবে। বন্দীর নম্বর এবং তার শ্রেণী বুঝানোর জন্যে একটি অক্ষর তার নামের আগে উল্লেখ করতে হবে। যেমন- “বন্দী নং ২৩৬ এ, রুপ রাম”। ডিসক্রিপটিভ রোলে বন্দীর পিতার নাম উল্লেখ করতে হবে। কোন বন্দী সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শকের সাথে পত্র যোগাযোগের সময় তার ডিসক্রিপটিভ রোল সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

বিধি-৫১১। সনাক্তকরণের প্রয়োজনে ভর্তি রেজিষ্টারে প্রত্যেক বন্দীর ব্যক্তিগত বিবরণী, তার বাহ্যিক চেহারা, গায়ের রঙ, দেহ সৌষ্ঠব এবং সনাক্তকারী বিশেষ চিহ্ন প্রভৃতি রেকর্ড করতে হবে। মেডিকেল সাব অর্ডিনেট কিংবা কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেলার ব্যক্তিগত বিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন।

বিধি-৫১২। প্রত্যেক বন্দীর শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ভর্তি রেজিষ্টারে লিখে রাখতে হবে। এই তথ্য তিন প্রকারের হবে-

  • ইংরেজী এবং বাংলা ভালভাবে লিখতে ও পড়তে পারে,
  • বাংলা লিখতে ও পড়তে পারে,
  • অশিক্ষিত।

বিধি-৫১৩। কারাগারের আচার-আচরণ সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আগত নন্দীকে শুনাতে হবে এবং তার একটি সংক্ষিপ্ত সার প্রত্যেক ওয়ার্ডে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

বিধি-৫১৪ । (১) ভর্তি রেজিষ্টার এবং রিলিজ ডাইরী পূর্ববর্তী বিধি সমূহ অনুসারে প্রয়োজনীয় লিপিবদ্ধকরণ শেষে সাধারণত ভর্তির পরদিন জেলার বন্দীর ওয়ারেন্ট ও রেজিষ্টারসহ বন্দীকে জেল সুপারের নিকট হাজির করবেন। জেল সুপার প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে লেখার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং স্বাক্ষর করবেন।

(২) প্রত্যেক বন্দীর সম্পত্তির তালিকা | সম্পত্তির তালিকা ফরমে (৫১৫৮ নম্বর ফরমে) এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেজিষ্টারে (রেজিষ্টার নম্বর ৪৮ এবং ৪৮. এ) লিপিবদ্ধ করার পর) জেল সুপারের উপস্থিতিতে বন্দীকে পাঠ করে শুনাতে হবে, যদি সে তা সঠিক বলে সম্মতি প্রদান করে তবে জেল সুপার তা স্বাক্ষর করবেন। একই সময়ে জেল সুপার প্রয়োজনে বন্দীর হিস্ট্রি টিকেটে যে কোন বিশেষ নির্দেশ প্রদান করবেন।

নং- ১৫৮৭ এইচ জে, তারিখ ১৯-৪ ১৯৩৮ এবং নং- ১৩৪৪ এইচ জে, তারিখ ১৫-৬-১৯৪৯ মূলে সংশোধিত ।

বিধি-৫১৫। (১) যখন কোন ব্যক্তিকে একই বিচারে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের জন্যে একাধিক সাজা প্রদান করা হয়, তখন একটির মেয়াদ শেষ হবার পর আরেকটি শুরু হবে, যদি আদালত নির্দেশ প্রদান না করেন যে সাজা সমূহ একসঙ্গে চলবে।

(২) পূর্ব থেকে সাজা ভোগরত কোন ব্যক্তিকে পৃথক মামলায় সাজা প্রদান করা হলে তা পর পর চলবে, যদি না আদালত আদেশে উল্লেখ করেন যে, প্রদত্ত সাজা পূর্বের সাজার সঙ্গে একই সঙ্গে চলবে। যদি ঐ ব্যক্তি জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত হয়, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৬ ধারা প্রযোজ্য হবে।

(৩) আদালতের কোন আদেশ কার্যকর সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হলে সর্বশেষ দণ্ডাদেশে প্রদত্ত নির্দেশ কার্যকর হবে।

টীকা-। কোন বাক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে যদি এক সঙ্গে চলবে নির্দেশ না থাকে তা হলে একটির পর অপরটি চলবে (ধারা ৩৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)। বিধি-৫১৬। কোন অবস্থাতেই কোন বন্দীকে দণ্ডাদেশে উল্লেখিত সময়ের বেশী আটক রাখা হবে না। তবে অসুস্থ বন্দীর ক্ষেত্রে বিধি ১০২ অনুসরণ করতে হবে।

বিধি-৫১৭। (১) কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় মুচলেকা খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড প্রদান করা হলে, উক্ত দণ্ডের মেয়াদ মূল সাজার পরে কার্যকরী হবে, যদি না আদালত নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত দও একই সঙ্গে কার্যকরী হবে।
যেহেতু সদাচারের মুচলেকা খেলাপের জন্যে প্রদত্ত কারাদণ্ড জন সাধারণের নিরাপত্তার জন্যে একটি প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা মাত্র, কৃত অপরাধের জন্যে সাজা নয়, সেহেতু বন্দীর মূল দণ্ডের মেয়াদ শেষে জেল সুপার সমীচীন মনে করলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৪ ধারায় বন্দীকে অব্যাহতি প্রদানের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

(২) ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩ ধারায় জামানত খেলাপ করার জন্যে কারাদণ্ড ভোগরত কোন বন্দীকে উক্ত দণ্ডের আদেশ প্রদানের পূর্বে কৃত কোন মূল অপরাধের জন্য কারাদণ্ড প্রদান করা হলে তা ঐ আদেশের তারিখ হতে কার্যকরী হবে এবং দুটি কারাদণ্ড একই সঙ্গে চলবে ।

টীকা- যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, জামানত দিতে ব্যর্থ দণ্ডিত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়া হলে কোন বিপদ নেই, তা হলে তিনি মুক্তির আদেশ দিতে পারেন (ধারা-১২৪ ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি ৫১৮-৫১৯। প্রয়োগ বিরল

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫২০। কোন জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অতিরিক্ত কোন সাজা প্রদান। করা হলে পলায়ন কালে সে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে বন্দীর মুক্তির তারিখ ৪৭৭, 528. ৫২৫ এবং ৫২৮ বিধি অনুসারে গণনা করতে হবে।

টীকা-। জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বন্দী পলায়ন কালে যে সাজা ভোগ করছিল নুতন সাজা তার চেয়ে কঠোর হলে নুতন সাজা অবিলম্বে কার্যকরী হবে, যদি নুতন সাজা পূর্বের সাজার চেয়ে কঠোর না হয়, তবে পূর্বের অনতিবাহিত সাজা ভোগ শেষে নুতন সাজা কার্যকরী হবে (ধাৱা– ৩৯৬, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২১। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে দুটি পৃথক দণ্ডাদেশের মাধ্যমে কারাগারে অন্তরীণ রাখা হলে পূর্বে প্রদত্ত দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর দ্বিতীয় দণ্ড ভোগ শুরু হবে। যদি প্রথম দণ্ডটি আপীলের মাধ্যমে অকার্যকর হয়ে যায় তবে যে তারিখ হতে প্রথম দণ্ডটি ভোগ করছিল দ্বিতীয় দণ্ড ভোগের মেয়াদ ঐ তারিখ থেকেই গণনা করা হবে ।

টীকা- ১। একটি দণ্ডের সাথে অপর দণ্ড যুক্ত করে যে কোন আইন সংগত দণ্ড দেয়া যায় (ধারা ৩২(২), ফৌজদারি কার্যবিধি ।)

টীকা-২। আদালত অপরাধীকে সশ্রম বা বিনাশ্রম যে কোন প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন। এরুপ কারাদণ্ড সম্পূর্ণ অংশ সম্ভ্রম কিংবা সম্পূর্ণ অংশ বিনাশ্রম কিংবা আংশিক সম এবং আংশিক বিনাশ্রম হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিতে পারেন (ধারা ৬০: দণ্ডবিধি)।

টীকা ৩। যদি কারাদণ্ডের প্রকৃতি উল্লেখ না থাকে তা হলে তা অবশ্যই বিনাশ্রম হবে (১১ ক্যাল, ডব্লিউ, এন ৭৪০ ডি.বি)।

টীকা-৪। শুধু মাত্র জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড বিনাশ্রম হবে (ধারা ৬৭, দণ্ডবিধি)।

টীকা- ৫। জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড প্রদান করা হয় তা জরিমানা পরিশোধ করা বা আইনের প্রক্রিয়াধীনে আদায় করার সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হয়ে যাবে (ধারা ৬৮ দণ্ডবিধি)।

বিধি-৫২২ । (১) কোন ব্যক্তিকে কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় সে কারাগারে আটক না থাকলে যে তারিখে সে কারাগারে নীত হবে সে তারিখ হতে তার সাজা ভোগের মেয়াদ শুরু হবে।

(২) যদি সে দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখে কারাগারে আটক থাকে তবে আদালত অন্য রকম আদেশ প্রদান না করলে দণ্ড প্রদানের তারিখ হতে তার সাজা ভোগ চলমান রয়েছে মর্মে গণ্য করতে হবে।

টীকা-। যে ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ দেয়ার সময় আসামী হাজতে রয়েছে এবং যে অপরাধের জন্যে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড শাস্তির যোগ্য নয়, সে ক্ষেত্রে আদালত কারাবাসের দণ্ডাদেশ দেবার সময়, পূর্বে যে মেয়াদে সে হাজতে ছিল তা বিবেচনা করতে পারেন (ধারা ৩৫-ক. ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৩। সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কোন তারিখে মুক্তি পাবে সে তারিখ জেল সুপার এবং জেলার হিসাব করবেন এবং রিলিজ ডাইরীতে লিপিবদ্ধ করবেন। আদালত কর্তৃক অতিরিক্ত সাজা আরোপ অথবা হ্রাস করার কারণে মুক্তির তারিখ পরিবর্তন হলে তদনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।

বিধি-৫২৪। কোন বন্দীর আটকের মেয়াদ পঞ্জিকা বছর অনুসারে বা মাস হিসেবে গণনা করতে হবে, যদি আদেশে দিন অনুসারে উল্লেখ না থাকে। যে দিন আদেশ দেয়া হয়েছে এবং যে দিন মুক্তি দেয়া হবে উভয় দিনকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে একদিনের কারাদণ্ড দেয়া হলে একই দিনে আটক রাখতে হবে ও মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু আদেশে ২৪ ঘণ্টা উল্লেখ থাকলে তাকে ২৪ ঘন্টা আটক রাখতে হবে।

টীকা- ১। “মাস” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে মাস গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল রুজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭) ।

টীকা- ২। “বৎসর” অর্থ বৃটিশ ক্যালেন্ডার হিসাবে যে বৎসর গণনা করা হয় (ধারা- ৩. জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট, ১৮৯৭)।

বিধি-৫২৫। কারাদণ্ড প্রদানের পর কোন বন্দী আপীল সাপেক্ষে কিছু মেয়াদ জামিনে মুক্ত থাকার পর সাজা ভোগের জন্যে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হলে কিংবা কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী কারাগার হতে পলায়নের কারণে কিছু মেয়াদ মুক্ত থাকার পর পুনঃধৃত হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হলে তাদের মুক্তির তারিখ নিম্নরূপ ভাবে গণনা করতে হবে:-

  • জামিনে মুক্ত থাকার মেয়াদ বা পলায়নের কারণে মুক্ত থাকার মেয়াদের পঞ্জিকা বৎসর, মাস এবং দিন মূল সাজার মেয়াদের সাথে যোগ করতে হবে: দণ্ডের তারিখ হতে ঐ যোগফলের মেয়াদ যে তারিখে অতিবাহিত হবে ঐ তারিখ বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হবার তারিখ হবে।
  • জামিন শেষে যে আদালতে বন্দী আত্মসমর্পণ করবে, সে আদালত বন্দীর ওয়ারেন্টে তার জামিনে মুক্তির তারিখ এবং পুনরায় অন্তরীণ রাখার তারিখ লিপিবদ্ধ করবেন।

নোট- । কোন বন্দীকে কারাদণ্ড প্রদানের তারিখে কারাগারে প্রেরণ না করে আদালত হতে জামিনে মুক্ত প্রদান করা হলে ঐ বন্দী তার সাজার কোন অংশ ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে

 

বিধি-৫২৬। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক শর্তাধীনে মুক্তি প্রাপ্ত কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মুক্তির আদেশ বাতিল করা হলে কারাগারে পুনরায় অন্তরীণ হবার কালে দণ্ডাদেশের মূল কপি এবং সরকারী আদেশের কপি সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

টীকা- যে সমস্ত শর্তে দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছে, তার কোনটি পালন করা হয়নি বলে মনে করলে সরকার উক্ত দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আদেশ বাতিল করতে পারবেন এবং অতঃপর যে ব্যক্তির দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ করা হয়েছিল সে মুক্ত থাকলে যে কোন পুলিশ অফিসার তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবেন এবং তার দণ্ডের অনতিবাহিত অংশ ভোগ করার জন্য তাকে কারাগারে প্রেরণ করা যাবে (ধারা ৪০১ (৩), ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫২৭। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী একাধিক দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হলে সবগুলো দণ্ডের মেয়াদকে যোগ করে একটি দণ্ড হিসেবে গণনা করে তার মুক্তির দিন ধার্য করতে হবে।

বিধি-৫২৮। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে জরিমানা অনাদায়ে কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজা দেয়া হলে, ধার্য জরিমানা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হবে সে অনুপাতে মুক্তির তারিখ ধার্য হবে।

টীকা-১। অর্থ দণ্ডের কোন অংশ দণ্ডিত ব্যক্তি প্রদান করলে আনুপাতিক হারে অনাদায় জনিত কারাদণ্ড ভোগের মেয়াদ কমে যাবে (ধারা-৬৯. দণ্ডবিধি)।

টীকা-২। কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ১ জানুয়ারীতে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৬০০ টাকা জরিমানা প্রদান হলে এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলে উক্ত বন্দী ২০০ টাকা পরিশোধ করতে সমর্থ হলো। তার কারা ভোগের মেয়াদ হবে ৬ মাস + ৪ মাস ১০ মাস।

বিধি-৫২৯। জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ মাস হিসাবে আদেশে বর্ণিত থাকলে আংশিক জরিমানা পরিশোধের কারণে দত্ত হ্রাসের হিসাব মাস হিসাবেই করতে হবে, দিনের হিসাবে নয়। কোন মাসের ভগ্নাংশ অবশিষ্ট থাকলে দিনে পরিবর্তন করা হবে। কোন দিনের ভগ্নাংশ গণনায় ধরা হবে না।

বিধি-৫৩০। কোন বন্দী সাজা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে জরিমানার কোন অংশ পরিশোধ করলে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়ারেন্টের গায়ে তা উল্লেখ করবেন।

বিধি-৫৩১। কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাভোগ অবস্থায় অন্য কারাগারে বদলি হলে দণ্ডাদেশের পর প্রথম যে কারাগারে সে অন্তরীণ ছিল সে কারাগারকে বন্দীর বদলি সম্পর্কে গ্রহণকারী কারাগার অবহিত করবে।

বিধি-৫৩২ । কোন বন্দী জরিমানা অনাদায়ের দায়ে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ প্রাপ্ত হলে এবং একই সময়ে বা পাশাপাশিভাবে অন্য মেয়াদের জন্যে মূল সাজাপ্রাপ্ত হলে, মূল সাজা শেষ না হলে জরিমানা অনাদায়ের দায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ভোগের আদেশ কার্যকরী করা হবে না।

বিধি-৫৩৩। জেল সুপার বা জেলার জরিমানা গ্রহণের জন্যে অনুমোদিত নয়। জরিমানা যে আদালতে তা আরোপ করা হয়েছে সে আদালতে কিংবা দায়রা আদালতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-৫৩৪। যখন কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয় এবং আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত সময় ও স্থানে হাজির হওয়ার জন্য তাকে জামিন প্রদান করা হয় কিংবা কারাদণ্ড ছাড়াও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দণ্ডের তারিখ হতে পনেরো দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বা আপীল করা হলে আপীল আদালত কর্তৃক সাজা বহাল না হওয়া পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

তবে পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যথাশীঘ্র বা আপীল আদালত হতে সাজা বহালের আদেশ লাভের পর যথাশীঘ্র বেদেও কার্যকরী করতে হবে। যদি কোন বন্দী কর্তৃক পনেরো দিনের মধ্যে আপীল মা করা হয় এবং অতঃপর তাকে বেত্রাঘাত প্রদানের জন্যে হাজির করার পর সে আপীল করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে তখন তাকে আপীল করতে দেয়া হবে এবং বেত্রাঘাত প্রদান স্থগিত করে আপীলের রায়ের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ।

বিধি-৫৩৫। (১) জেল সুপার বা মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল সাব- অর্ডিনেটের সামনে বেত্রদণ্ড কার্যকর করার প্রাক্কালে এই মর্মে মেডিকেল অফিসারকে অবশ্যই সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে যে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে শারীরিক ভাবে সামর্থ্য রয়েছে। যদি বন্দী সাময়িকভাবে বেত্রাঘাত সহ্য করতে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন তবে বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে সামর্থ্য রয়েছে মর্মে পুনরায় মেডিকেল অফিসার কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদান না করা পর্যন্ত বেত্রদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখতে হবে।

যদি বন্দী বেত্রাঘাত সহ্য করতে স্থায়ীভাবে অসামর্থ্য মর্মে মেডিকেল অফিসার সার্টিফিকেট প্রদান করেন কিংবা বেত্রাঘাত প্রয়োগ কালে মেডিকেল অফিসার এই মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করেন যে বন্দী অবশিষ্ট বেত্রাঘাত ভোগ করতে শারীরিক ভাবে অসামর্থ্য তখন বেত্রাঘাত চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মতে কার্যক্রমের জন্যে সাজা প্রদানকারী আদালতে ওয়ারেন্ট ফেরত পাঠাতে হবে।

(২) বেত্রাঘাত প্রদানকালে বন্দীর নিতম্বের উপরে জীবাণুনাশক মিশ্রিত একটি পাতলা কাপড় বিছিয়ে দিতে হবে।

(৩) ষোল বৎসর বা তার বেশী বয়সের ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৫ ধারা মোতাবেক বেতের পরিধি আধ ইঞ্চির বেশী হবে না এবং বাল- অপরাধীদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে হাল্কা বেত ব্যবহার করতে হবে, বা যদি স্কুলে শাস্তি দেয়ার মতো করে শাস্তি প্রদানের আদেশ দেয়া হয় তবে হাত দ্বারা দণ্ড কার্যকর করতে হবে।

 

কারাগারে বন্দী ভর্তি
কারাগারে বন্দী ভর্তি

 

বিধি-৫৩৬। যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে যদি কেবল বেত্রদণ্ডের সাজা দেয়া হয়, দণ্ড প্রদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডে রাখতে হবে ।

টীকা- যে ক্ষেত্রে বেত্রদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিক কার্যকরী করা না যায়, সে ক্ষেত্রে দণ্ডদানকারী আদালত দণ্ড পরিবর্তন না করা পর্যন্ত অপরাধীকে হাজতে রাখতে হবে এবং উক্ত আদালত নিজ বিবেচনায় দত্ত মওকুফ করতে পারবেন অথবা অপরাধীকে বেত্রদণ্ডের পরিবর্তে বার মাসের অনধিক কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচশত টাকা জরিমানা করতে পারবেন এবং একই অপরাধের জন্য সে অন্য কোন দণ্ডে দণ্ডিত হলে সে দণ্ড ছাড়াও এ দণ্ড দেয়া যাবে (ধারা-৩৯৫, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৩৭ ৷ কোন বন্দীকে কেবল বেত্রদণ্ড প্রদান করা হলে এবং কোন কারাদণ্ড প্রদান না করা হলে কারাগারে বা আদালত ভবনের নিকটবর্তী কোন বেষ্টনীতে একান্তে বেত্রাঘাত পরিচালনা করতে হবে।

বিধি-৫৩৮ । যখন কোন বন্দীকে একটি মামলায় কোন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং দ্বিতীয় আরেকটি মামলায় কারাদণ্ড ও বেত্রদণ্ড প্রদান করা হয়, তখন দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত আদেশ প্রাপ্তির পনেরো দিন অতিবাহিত হবার পর যথাশীঘ্র বেত্রদণ্ড কার্যকর করতে হবে, যদিও প্রথম মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ না হবার কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা মোতাবেক দ্বিতীয় মামলায় প্রদত্ত কারাদণ্ডের আদেশ কার্যকর স্থগিত রয়েছে।

বিধি-৫৩৯। বেত্রাঘাতের সংখ্যা কোন ক্ষেত্রেই ত্রিশের অধিক হবে না এবং ষোল বৎসরের কম বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পনেরোর অধিক হবে না। ফলে যদি কোন বন্দীকে দুইটি মামলায় একই সময়ে বেত্রাদণ্ড প্রদান করা হয় তবে, মোট ত্রিশ বা পনেরো, যে ক্ষেত্রে যা হয়, বেত্রাঘাত করা যাবে। তবে যদি কোন বন্দী একবার বেত্রদণ্ড ভোগ করে থাকে এবং পুনরায় একই দণ্ড পেয়ে তাকে পুনরায় বেত্রঘাত প্রদানে কোন বাধা নেই ।

বিধি-৫৪০। বেত্রদণ্ড কার্যকরী করার পর কার্যকরী করার তারিখ উল্লেখ পূর্বক জেল সুপার ওয়ারেন্টের পৃষ্ঠাঙ্কন করে তা আদালতে ফেরত পাঠাবেন।

টীকা- কোন বেত্রদণ্ড কিস্তিতে কার্যকরী করা যাবে না এবং স্ত্রীলোক, মৃত্যুদণ্ড বা পাঁচ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত পুরুষ কিংবা পয়তাল্লিশ বৎসরের অধিক বয়সের পুরুষকে বেত্রদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না (ধারা-৩৯৩, ফৌজদারি কার্যবিধি)।

বিধি-৫৪১। পুলিশ রেজিষ্ট্রার বন্দী দু প্রকার ঃ-

(১) সে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তি প্রদানের আগে তাদের নিজ জেলার কারাগারে বদলি করতে হবে;

(২) যে সকল বন্দী যাদেরকে মুক্তির আগে বদলি করা হবে না, মুক্তির তারিখে যে কারাগারে রয়েছে সেখান থেকেই মুক্তি পাবে।

বিধি-৫৪২। সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্যে নিম্নোক্ত রেজিষ্টার সমূহ রাখতে হবে-

(১) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের ভর্তি রেজিষ্টার (রেজিষ্টার নং-৬)

(২) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের নামীয় বর্ণমালা অনুযায়ী ইনডেক্স (রেজিষ্টার নং-৭)

(৩) রিলিজ ডাইরী (রেজিষ্টার নং-১০)

(৪) দৈনিক সার সংক্ষেপ (রেজিষ্টার নং-১৪)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *