জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের প্রহরা

জেল কোড অনুযায়ী কারাগারের প্রহরা

আজকের আলোচনার বিষয় কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা

 

কারাগারের প্রহরা । জেল কোড

বিধি-৪১৭। একটি কারাগারের প্রহরা ব্যবস্থার মূলনীতি হচ্ছে কারাগারে আটক প্রত্যেক বন্দীকে দিনে-রাত্রে সব সময়ে কোন না কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে ন্যস্ত রাখা, যাদের অবহেলার ফল স্বরূপ কোন বন্দী পলায়ন করলে যেন ফৌজদারি আদালতে তা প্রমাণ করা যায়। এটা কার্যকর করার জন্যে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অর্পিত বন্দীদের নাম একটি গ্যাং বইতে রেকর্ড করতে হবে এবং বন্দীদের গ্যাং পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ডও পরিবর্তন করতে হবে। কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীর দায়িত্বে বন্দীদের অর্পণ করার বিষয়টি প্রধান কারারক্ষী উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করবেন এবং যাচাই করে দেখবেন।

বিধি-৪১৮। প্রত্যেক কারাগারের বন্দীদেরকে কতগুলো গ্যাংয়ে বিভক্ত করা হবে। প্রত্যেক বন্দী তার সমগ্র কারাভোগ কাল এক বা একাধিক গ্যাংয়ের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ ব্যতীত কোন বন্দীর গ্যাংয়ের পরিবর্তন করা যাবে না। কোন বন্দী মুক্তি পাবার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য গ্যাংয়ে বদলি হবে না, যদি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ তার নাম বদলিকৃত গ্যাং বইয়ে লিখা না হয়।

বিধি-৪১৯। গ্যাং দুটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত হবে-

(১) এক্সটা মিউরাল বা দেয়ালের বাহিরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে;

(২) ইন্ট্রা মিউরাল বা দেয়ালের ভিতরে যারা কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪২০। একটি গ্যাংয়ে কয়েদী কর্মচারীসহ নিম্নোক্ত সংখ্যার বেশী বন্দী থাকবে না-

(১) এক্সটা মিউরাল

(ক) কারা বেষ্টনীর বাহিরে – ২১ জন
(খ) কারা বেষ্টনীর ভিতরে – ২৫ জন

(২) ইন্ট্রা মিউরাল – ৪২ জন

বিধি-৪২১। এক্সটা মিউরাল গ্যাং অবশ্যই একজন কারারক্ষীর দায়িত্বে থাকবে, কয়েদী ওভারশিয়ার এবং ওয়াচম্যান তাকে সাহায্য করবে। প্রতি দশ জন বন্দীর জন্যে এক জন ওয়াচম্যান থাকবে। ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ারের দায়িত্বে কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে কয়েদী ওয়াচম্যানের দায়িত্বে থাকতে পারে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪২২। কয়েদী ওভারশিয়ারের কাছে ৩৮ নম্বর জেল ফরমে একটি গ্যাং বই থাকবে যাতে সকল বন্দীর নাম, নম্বর এবং গ্যাংয়ে যোগদানের তারিখ প্রধান কারারক্ষীর আদেশ ও স্বাক্ষরে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিধি-৪২৩। একটি গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের জন্যে একক ভাবে দায়ী থাকবেন। কোন একটি গ্যাংয়ের দায়-দায়িত্ব একই সময়ে একাধিক কর্মচারীর উপর ভাগ করা যাবে না।

বিধি-৪২৪। একটি গ্যাংয়ের সদস্যরা পরবর্তী বিধি-বিধানে বর্ণিত ব্যতিক্রম ছাড়া সব সময় একত্রে থাকবে; তারা একই ওয়ার্ডে ঘুমাবে এবং এক সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করবে এবং তাদের জন্যে বিশেষ নির্ধারিত স্থানে কাজ করবে।

বিধি-৪২৫। কয়েদী ওভারশিয়ার ওয়ার্ডের দরজা আন লকের সময় দাঁড়ানো থাকবে এবং তার গ্যাংকে কাজের জন্যে প্রধান কারারক্ষী হতে বুঝে নিবে। সে দিনব্যাপী তার গ্যাংয়ের সাথে অবস্থান করবে। সে বন্দীদের শৃঙ্খলা এবং বিধি প্রতিপালনের দিকে লক্ষ্য রাখবে। সে তার গ্যাংকে প্রধান কারারক্ষীর নিকট অর্পণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব হতে অব্যাহতি পাবে না

বিধি-৪২৬। যদি কোন কয়েদী রক্ষী বা ওভারশিয়ার কোন কারণে তার গ্যাংকে সাময়িকভাবে ছেড়ে কোথাও যেতে হয়, তবে প্রধান কারারক্ষীর অনুমোদন গ্রহণ করে তার গ্যাংকে অন্য কোন কয়েদী রক্ষী বা জ্যেষ্ঠ ওয়াচম্যানের দায়িত্বে প্রদান করবেন।

বিধি-৪২৭। যদি ভিতর প্রাচীরের কোন গ্যাংয়ের কোন বন্দী তার গ্যাং থেকে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থেকে কোন প্রয়োজনে কোথাও যেতে চায়, যেমন লেট্রিন বা হাসপাতালে, সে সময় প্রধান কারারক্ষীর অনুমতিক্রমে, সে ওয়াচম্যানের তদারকীতে থাকবে।

বিধি-৪২৮। বাহিরের প্রাচীরে নিয়োজিত গ্যাংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী এবং কয়েদী রক্ষী এক সাথে কাজ করবে এবং কোন কারণেই তাদের অধীনস্থ বন্দীদেরকে চোখের আড়ালে কোথাও যেতে দিবে না। বিশেষ কারণে কোন বন্দী গ্যাং থেকে কোথাও যেতে হলে একজন কয়েদী ওভারশিয়ারের তদারকীতে যেতে হবে ।

বিধি-৪২৯। যদি একসঙ্গে ৪২ জনের বেশী বন্দীকে কারাগরের চৌহদ্দীর বাহিরে নেয়া হয়, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করার জন্যে দুইজন সশস্ত্র রিজার্ভ গার্ড তাদের পাহারায় নিয়োজিত থাকবে।

বিধি-৪৩০। যদি কোন গ্যাংয়ের একটি অংশ কোন কারণে অন্য অংশ থেকে রাত্রে পৃথক অবস্থান করে, তখন একজন কয়েদী ওভারশিয়ার বা একজন জ্যেষ্ঠ কয়েদী ওয়াচম্যানকে প্রধান কারারক্ষী ঐ অংশ সমূহের দায়িত্ব প্রদান করবেন।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৩১। গ্যাং নিম্নোক্ত সুবিধাজনক ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে-

(১) এক্সটা মিউরাল গ্যাং

(ক) বাগান

(খ) জেল সার্ভেন্ট

(গ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

(২) ইন্ট্রা মিউরাল গ্যাং-

(ক) সিভিল বন্দী

(খ) বিচারাধীন বন্দী

(গ) পৃথকীকরণ

(ঘ) বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দী

(ঙ) হাসপাতাল

(চ) প্রাচীরের পাহারা

(ছ) দ্বাররক্ষী এবং নির্জন বন্দী

(জ) জেল সার্ভেন্ট

(ঝ) ম্যানুফ্যাকচার

(ঞ) গণপূর্তের অধীনে কাজ

বিধি-৪৩২। যদি কারারক্ষী সহজলভ্য না থাকে, তবে বিশ্বস্ত কোন কয়েদী কর্মচারীকে দিনে এবং রাত্রে বিচারাধীন বন্দীদের ওয়ার্ডের প্রহরার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বিধি-৪৩৩। দিনের বেলায় বন্দীরা যখন কারাগারের ভিতরে চলাফেরা করে, তখন বাহিরের প্রাচীরের দিকে নজর রাখার জন্যে কয়েদী কর্মচারীদেরকে প্রাচীরের ভিতরে টহল প্রদান করা সমীচীন হবে।

বিধি-৪৩৪। কারারক্ষী, কয়েদী রক্ষী এবং কয়েদী নৈশ বন্দীদের সাপ্তাহিক ডিউটি রোষ্টার জেলার তৈরী করবেন এবং গার্ড রুমে ঝুলিয়ে রাখবেন। দিনের এবং রাতের ডিউটির একটি রোষ্টারও প্রস্তুত করতে হবে।

বিধি-৪৩৫। রিজার্ভ গার্ড এবং গেইট রক্ষী ব্যতীত দিনের কাজে নিয়োজিত সকল প্রধান কারারক্ষী এবং রক্ষীদেরকে দুইটি স্কোয়াডে বিভক্ত করা হবে। প্রথম স্কোয়াড ওয়ার্ড খোলার সময় কাজে নিয়োজিত হবে।

বিধি-৪৩৬। সকালে ওয়ার্ড খোলার পূর্বে জেলার (এবং প্রয়োজনে ডেপুটি জেলার) এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল প্রধান কারারক্ষী রক্ষীদের নিয়ে কারাগারে একসঙ্গে প্রবেশ করবেন।

বিধি-৪৩৭। জেলার (বা কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে সর্বপ্রধান কারারক্ষী) যে সকল কয়েদী কর্মচারী ওয়ার্ডে এবং প্রথম রাউন্ডের ডিউটিতে প্রাচীরের প্রহরায় থাকবে তাদেরকে ডেকে উঠাবেন। একজন প্রধান কারারক্ষী কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে লেট্রিনে নিয়ে যাবেন এবং পরে তাদেরকে কারা প্রাচীরের মধ্যে চারিদিকে নিয়োজিত করবেন।

বিধি-৪৩৮ । যখন প্রধান কারারক্ষী জানাবে যে, কারা প্রাচীরের প্রহরা প্রস্তুত তারপর ওয়ার্ড খোলা হবে। প্রধান কারারক্ষী এবং সর্বশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষী বন্দীদেরকে গুনবেন । গণনায় সঠিক পাওয়া গেলে বন্দীদেরকে গ্যাংয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কয়েদী ওভারশিয়ারের নিকট ন্যস্ত করা হবে।

বিধি-৪৩৯ । তারপর একই রক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ারের অধীনে তারা লেট্রিন, বাথিং সারবে এবং খাবার গ্রহণ করবে।

বিধি-৪৪০। সকালের প্যারেড শেষে প্রধান কারারক্ষী বন্দীদের হাজিরা নেবেন এবং গ্যাং সমূহকে তাদের নির্দিষ্ট কাজের স্থানে প্রেরণ করবেন। সকালে যে কয়েদী ওভারশিয়ার বন্দীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তার অধীনেই তারা সারাদিনের জন্যে ন্যস্ত থাকবে।

বিধি-৪৪১৷ প্রত্যেক গ্যাং কারারক্ষী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদী কর্মচারীর উপস্থিতিতে গণনা করা হবে এবং তার নাম গ্যাং বইতে লেখা হবে। দিনের বেলায় প্রতিবার দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় অনুরূপভাবে গণনা করতে হবে।

বিধি-৪৪২। প্রাচীরের প্রহরারত কয়েদী ওয়াচম্যানদেরকে দুপুর বেলায় পরিবর্তন করতে হবে এবং তাদের আহার গোসল প্রভৃতির জন্য সাময়িকভাবে অন্য প্রহরা নিযুক্ত করতে হবে ।

বিধি-৪৪৩। বিকালে কাজ বন্ধের ঘন্টা বাজলে দায়িত্বরত কারারক্ষী বা কয়েদী ওভারশিয়ার কাজ বন্ধের পর তাদেরকে পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনীয় লেট্রিন এবং বাথিং সারার পর এবং আহার গ্রহণের পর ওয়ার্ডে লক আপ না করার পর্যন্ত তারা ঐ রক্ষীর দায়িত্বে থাকবে।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৪৪। গ্যাং তাদের স্লিপিং ওয়ার্ডের সামনে দুই সারিতে সমবেত হবে।

বিধি-৪৪৫। অতঃপর বন্দীদেরকে লক আপ করা হবে এবং প্রথম নাইট ওয়াচম্যানের দায়িত্বে অর্পণ করা হবে, যে ওয়ার্ডের ভিতরে ওয়াচ করবে।

বিধি-৪৪৬। রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষীর নেতৃত্বে প্রথম নৈশ টহল দল তাদের দায়িত্ব শুরু করবে। জেলার (কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে ডেপুটি জেলার এবং প্রধান কারারক্ষীগণ) বন্দীদেরকে তাদের ওয়ার্ডের ভিতরে গণনা করবেন।

বিধি-৪৪৭। যদি অতিরিক্ত রক্ষী নেয়া হয়, তাদেরকে সকালে এবং বিকালে ডিউটি করতে হবে। জরুরী প্রয়োজন না পড়লে অতিরিক্ত রক্ষীদেরকে রাতের ডিউটি দেয়া হবে না।

বিধি-৪৪৮। লক-আপের পর ওয়ার্ডের চাবিগুলো সংগ্রহ করা হবে এবং জেলারের সম্মুখে গণনা করা হবে: বন্দীর সংখ্যা এবং চাবির সংখ্যা লক-আপ রিপোর্টে (২৪ নম্বর জেল ফরমে) রেকর্ড করতে হবে।

বিধি-৪৪৯। ওয়ার্ড লক-আপের পর প্রত্যেক পৃথক ওয়ার্ডে আটক বন্দীদের মোট সংখ্যা ১২ নম্বর লক-আপ রেজিষ্টারে লিখতে হবে। এ রেজিষ্টারের উদ্দেশ্য হ’ল ওয়ার্ড জনাধিক্য হয়ে গিয়েছে কিনা তা দেখা। রেজিষ্টারে প্রত্যেক মাসের জন্যে একটি পৃষ্ঠা এবং প্রতি দিবসের জন্যে একটি লাইন থাকবে। শিরোনামে বিভিন্ন ওয়ার্ড চিহ্নিত করা লেখা থাকবে, যেমন-‘মহিলা ওয়ার্ড”, “কিশোর ওয়ার্ড”,‘কয়েদী ওয়ার্ড নম্বর-১’ প্রভৃতি।

বিধি-৪৫০। নৈশ প্রহরীর সংখ্যা কারাগারের আকার-আকৃতি এবং আটক বন্দীদের সংখ্য ও প্রকার অনুসারে কম বেশী হতে পারে। এসব বিবেচনায় সময়ে সময়ে কারা মহাপরিদর্শক নির্দেশ প্রদান করবেন।

বিধি-৪৫১। যখন কোন কারারক্ষী ছুটিতে থাকে, কয়েদী রক্ষী তার স্থলে দায়িত্ব পালন করবে। কয়েদী কর্মচারীদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের প্রহরার দায়িত্বে এবং কারাগারের দেয়ালের বাহিরের বন্দীদের প্রহরায় নিয়োজিত করা যাবে না। নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে একজন কয়েদী রক্ষীর সাথে কমপক্ষে দুইজন কারারক্ষী থাকবে।

বিধি-৪৫২ । দেয়ালের প্রহরায় নিয়োজিত প্রহরী কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড এর দিকে দৃষ্টি রাখবেন, এ দিক সেদিক নয়। কয়েদী রক্ষী এবং নৈশ প্রহরীদের যখন রাতে দায়িত্বে না থাকে,তাদেরকে অন্য বন্দীদের থেকে পৃথক লক আপ করতে হবে।

বিধি-৪৫৩। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ওয়ার্ডের ভিতরে দায়িত্ব পালনকালে কো বন্দী তার জায়গা বদল করা প্রতিরোধ করবে এবং কোন বিধি লংঘন করে কিনা। লক্ষ্য রাখবে। তারা বন্দীদেরকে গণনা করবে এবং কোন অনিয়মের বিষয়ে টে দলকে জানাবে। কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটলে টহল দল প্রধান কারারক্ষীে ডেকে আনবে, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিধি ৪৫৪-৪৫৫। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৬। রাতের বেলায় কোন ওয়ার্ড খোলার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গেইট বা দরজা আন লক করার পূর্বে একটি চেইন দরজা এবং পোস্টের সাথে এমনভাবে লাগাতে হবে যেন দরজা দিয়ে একবারে মাত্র একজন লোক যাওয়া আসা করতে পারে। কোন যৌথ আক্রমণ বা বিদ্রোহ রোধের জন্যে এটা খুবই জরুরী।

 

কারাগারের প্রহরা
কারাগারের প্রহরা

 

বিধি-৪৫৭। রাতের বেলায় টহল দল সার্বক্ষণিক ব্যারাকের বাহিরে চারপার্শ্বে প্রহরায় থাকবে, কোন ভাবেই তারা বসতে পারবে না এবং তাদের স্থান ত্যাগ করবে না। বৃষ্টির সময়ে তাদের ছাতা ব্যবহার করতে হবে। খারাপ আবহাওয়ার অজুহাতে দিনে বা রাত্রে অন্যত্র আশ্রয় নিতে পারবে না (কারাগারের ভিতরে কোন সেন্ট্রি বক্ষ অনুমোদিত হবে না)।

প্রত্যেক টহলদারের হাতে বেত বা লাঠি থাকবে এবং বাতি (টর্চ লাইট) থাকবে। তারা দরজা ঠিক ভাবে আছে কিনা দেখবেন,ওয়ার্ডের ভিতরে তাকাবেন এবং বন্দীরা নিজ নিজ স্থানে আছে কিনা দেখবেন। কয়েদী ওয়াচম্যানরা ঠিকভাবে সতর্ক রয়েছে কিনা দেখবেন এবং তাদের কাছে বন্দীর সংখ্যা জানতে চাইবেন।

বিধি-৪৫৮। প্রয়োগ নেই।

বিধি-৪৫৯। দিনে বা রাতে টহলের দায়িত্ব পালনকারী প্রধান কারারক্ষী কারাগারের ভিতরে টহল রক্ষী, কয়েদী নৈশ প্রহরী এবং কয়েদী ওয়াচম্যানদের কাজ ভিজিট করবেন। তিনি ওয়ার্ডের চাবি এবং উইকেটের ভিতরের তালার চাবি তার শরীরের সাথে বেঁধে রাখবেন। কোন বন্দীর গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে তিনি মেডিকেল সাব অর্ডিনেটকে সংবাদ প্রদান করবেন।

রক্ষী কিংবা বন্দীদের যারা কোন অনিয়ম সংঘটিত হলে তিনি তা তদন্ত করে দেখবেন এবং লক আপ বইতে রেকর্ড করবেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এমন বিষয় যেমন- পলায়ন, দাঙ্গা,গুলি বা মারাত্মক অসুস্থতা প্রভৃতি সঙ্গে সঙ্গে জেলারকে জানাবেন।
প্রধান গেইটের সেন্ট্রি দুই গেইটের মাঝখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা এবং উত্তর গেইট বন্ধ আছে কিনা তিনি দেখবেন।

বিধি-৪৬০। যদি সকালের খাবার রান্নার কাজের জন্যে কিছু বন্দীকে ভোরের আগেই ওয়ার্ডের বাহিরে যেতে দিতে হয়, প্রধান কারারক্ষী তাদেরকে যেতে দিবেন এবং একজন কয়েদী রক্ষীর জিম্মায় তাদেরকে ন্যস্ত করবেন। খুব অল্প সময় সাজার মেয়াদ বাকী আছে এমন লোকদেরকে এ কাজের জন্যে বাছাই করতে হবে।

বিধি-৪৬১। কেবল মাত্র অনুমোদিত প্যাটার্নের তালা ব্যবহার করতে হবে। ইন্ডেন্ট মোতাবেক কারা মহাপরিদর্শক কর্তৃক তালা সরবরাহ করা হবে। প্রধান গেইটের জন্যে তিন ইঞ্চি এবং ওয়ার্ড ও সেলের জন্যে আড়াই ইঞ্চি তালা উত্তম হবে।

বিধি-৪৬২। জেলার এবং ডেপুটি জেলারগণ কেন্দ্রীয় কারাগারের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার এবং জেলা কারাগারের জন্যে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই বার বিভিন্ন রাত্রে বিভিন্ন সময়ে কারাগার পর্যবেক্ষণের জন্যে বের হবেন। পর্যবেক্ষণ কালে তারা দেখবেন কয়েদী ওয়াচম্যান এবং প্রহরীরা সতর্ক আছে কিনা, টহল ঠিকভাবে হয় কিনা এবং বন্দীরা ঠিকমত আছে কিনা।

পর্যবেক্ষণের রাত এবং সময় পূর্ব থেকে জানানো যাবে না, কিন্তু বিষয়টি জেলারের রিপোর্ট বইতে উল্লেখ থাকবে। কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কমপক্ষে মাসে দুবার (জেলা কারাগারের ক্ষেত্রে মাসে একবার) লক-আপের পর কারাগার ভিজিট করবেন এবং বিধি বিধান ঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা দেখবেন এবং মিনিট বইতে লিপিবদ্ধ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *