বাংলাদেশে জমির পরিমাপে একর ও শতক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক একক। সরকারি রেকর্ড, দলিল, খাজনা, নামজারি, জরিপ নকশা, খতিয়ান—সব ক্ষেত্রেই এই এককগুলোর ব্যবহার দেখা যায়। অথচ অনেকেই একর–শতকের সঠিক রূপান্তর, চেইন, লিংক, হাত, নল, গন্ডা ইত্যাদির সাথে সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানবো—
- একর ও শতকের সংজ্ঞা
- চেইন ও লিংক থেকে একরে রূপান্তর
- অনিয়মিত জমির গড় মাপ নির্ণয়
- ত্রিভূজ ও সমবাহু জমির ক্ষেত্রফল
- বাস্তব জীবনের গণিতভিত্তিক সমস্যা

Table of Contents
একর শতকে জমির পরিমাণ
১. একর ও শতকের মৌলিক ধারণা
| একক | মান |
|---|---|
| ১ একর | ১০০ শতক |
| ১ শতক | ৪৩৫.৬ বর্গফুট |
| ১ একর | ৪৩,৫৬০ বর্গফুট |
| ১০ বর্গ চেইন | ১ একর |
| ১ বর্গ চেইন | ০.১ একর |
উদাহরণ:
৮৪ বর্গ চেইন = (৮৪ × ১) / ১০ = ৮.৪ একর

২. পুকুরের পাড় ভাগ করে জমি বণ্টন
সমস্যা:
দৈর্ঘ্য ১৭০ হাত, প্রস্থ ১৫০ হাত একটি পুকুরের চারদিকে ৫ হাত চওড়া পাড় আছে। এই পাড় তিনজনের মধ্যে ৮ আনা, ৫ আনা ও ৩ আনা হিসেবে ভাগ করতে হবে।
সমাধান:
পাড়ের মোট পরিমাপ =
১৭০ + ১৭০ + ১৪৫ + ১৪৫ = ৬৩০ হাত
বণ্টন:
-
A পায় = ৬৩০ × ৮/১৬ = ৩১৫ হাত
-
B পায় = ৬৩০ × ৫/১৬ = ১৯৭ হাত
-
C পায় = ৬৩০ × ৩/১৬ = ১১৮ হাত

৩. নল ও হাত থেকে কাচ্চা কানি
দৈর্ঘ্য = ৪০ নল ৫ হাত
= (৪০ × ৮) + ৫ = ৩২৫ হাত
প্রস্থ = ২৮ নল ৩ হাত
= (২৮ × ৮) + ৩ = ২২৭ হাত
ক্ষেত্রফল = ৩২৫ × ২২৭
= ৭২,৮০০ বর্গহাত
রূপান্তর অনুযায়ী:
৯ গণ্ডা ২ কড়া ১ কান্তি

৪. অনিয়মিত জমি একর–শতকে
দৈর্ঘ্য:
(২৫৫+২৫০+২৪৫)/৩ = ২৫০ লিংক
প্রস্থ:
(১৭৫+১৭০+১৬৮)/৩ = ১৭১ লিংক
ক্ষেত্রফল = ২৫০ × ১৭১
= ৪২,৭৫০ বর্গলিংক
রূপান্তর:
১ শতক = ১০০০ বর্গলিংক
= ৪২.৭৫ শতক = ০.৪২৭৫ একর

৫. টেলিগ্রাফ পোস্ট ও রাস্তার প্রস্থ
কর্ণ (তার) = ৫০ ফুট
উচ্চতা = ৪০ ফুট
ভূমি = √(৫০² − ৪০²)
= √(২৫০০ − ১৬০০)
= √৯০০
= ৩০ ফুট

৬. সমবাহু ত্রিভূজ জমি → একর/হেক্টর
এক বাহু = ১৬০ ফুট
সূত্র:
ক্ষেত্রফল = a² × √৩ / ৪
= ১৬০² × ১.৭৩২ / ৪
= ১১,০৮৪ বর্গফুট
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
অতএব = ১১,০৮৪ ÷ ৪৩,৫৬০
= ০.২৫ একর ≈ ১০.৩০ এয়ার
৭. ত্রিভুজ জমি → বিঘা/কাঠা
ভূমি = ২৫০ হাত
উচ্চতা = ২১০ হাত
ক্ষেত্রফল = (২৫০ × ২১০) / ২
= ২৬,২৫০ বর্গহাত
রূপান্তর করে বিঘা–কাঠায় প্রকাশ করা যাবে।
একর ও শতকে জমির পরিমাণ নির্ণয় একটি অপরিহার্য দক্ষতা। জমি কেনা-বেচা, উত্তরাধিকার বণ্টন, রাস্তা, পুকুর, ভিটি, খাল—সব ক্ষেত্রেই এই হিসাব কাজে লাগে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ সহজেই এই হিসাব আয়ত্ত করতে পারে।