বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি [ Intellectual property ]

বিস্তৃত অর্থে পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই এক একটি সম্পদ। সম্পদের যেমন নানা রূপ রয়েছে—জমি, বাড়ি, অর্থ, পণ্য—তেমনি মানুষের বুদ্ধি, মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে জন্ম নেওয়া সম্পদও এক ধরনের মূল্যবান সম্পদ। এই মেধা ও সৃজনশীলতা থেকে উৎপন্ন সম্পদকেই বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি (Intellectual Property)

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে বুদ্ধি, বিবেক ও চিন্তাশক্তি (Rational Power) দিয়েছেন, তা প্রয়োগ করে মানুষ সৃষ্টি করে নতুন পণ্য, প্রযুক্তি, শিল্পকর্ম, সাহিত্য, গান, উদ্ভাবন, নকশা ও ব্যবসায়িক পরিচিতি। এসব অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত মূল্যবান সৃষ্টিই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আইনগত সুরক্ষা

পৃথিবীর সকল সম্পদের জন্য যেমন আইন ও বিধান রয়েছে, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ যেন তার সৃষ্টির ন্যায্য সুফল ভোগ করতে পারে এবং অন্য কেউ যেন অনুমতি ছাড়া সেই সৃষ্টি ব্যবহার করতে না পারে—এই লক্ষ্যেই Intellectual Property Law বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন প্রণীত হয়েছে।

এই আইন লেখক, শিল্পী, আবিষ্কারক, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি রক্ষা-কবচ হিসেবে কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে—

  • স্রষ্টা তার সৃষ্টির ওপর অধিকার রাখবেন,
  • তিনি ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা লাইসেন্স দিতে পারবেন,
  • এবং অবৈধ ব্যবহার হলে আইনি প্রতিকার পাবেন।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রধান ছয়টি ধরন

বর্তমানে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন সাধারণত নিম্নোক্ত ছয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত—

  • পেটেন্ট (Patent) – নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য
  • ডিজাইন (Industrial Design) – পণ্যের বাহ্যিক নকশা ও রূপের জন্য
  • কপিরাইট (Copyright) – সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, শিল্পকর্ম ইত্যাদির জন্য
  • ট্রেডমার্ক (Trademark) – ব্যবসায়িক নাম, লোগো, ব্র্যান্ডের জন্য
  • গোপন তথ্য (Confidential Information) – ব্যবসায়িক গোপন সূত্র
  • নো-হাউ (Know-how) – শিল্প ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও কৌশল

বাংলাদেশে এসব সম্পদের জন্য আলাদা আলাদা আইন রয়েছে, যেমন—

  • কপিরাইট আইন, ২০০০
  • ট্রেডমার্কস আইন, ২০০৯
  • পেটেন্ট ও ডিজাইন আইন, ১৯১১ ইত্যাদি।

 

সম্পত্তির প্রকারভেদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অবস্থান

আইনের দৃষ্টিতে সাধারণত সম্পত্তি তিন প্রকার—

  • স্থাবর সম্পত্তি – যেমন জমি, বাড়ি
  • অস্থাবর সম্পত্তি – যেমন গাড়ি, ঘড়ি
  • বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি – মানুষের মস্তিষ্কজাত সৃষ্টি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির বিশেষত্ব হলো—
এটি অদৃশ্য, কিন্তু একই তথ্য বা সৃষ্টিকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অসংখ্য কপিতে ব্যবহার করা যায়। তবে সম্পত্তি কপিগুলোর মধ্যে নয়, বরং সেই মূল তথ্য ও সৃষ্টিতে নিহিত।

WIPO অনুযায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সংজ্ঞা

বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO) ১৯৬৭ সালের স্টকহোম কনভেনশনে ঘোষণা করে যে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে—

  • সাহিত্য, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক কর্ম
  • শিল্পীদের পরিবেশনা, রেকর্ডিং ও সম্প্রচার
  • আবিষ্কার
  • শিল্প নকশা
  • ট্রেডমার্ক ও ব্যবসায়িক নাম
  • অন্যায্য প্রতিযোগিতা প্রতিরোধ

 

আবিষ্কার বনাম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—

  • বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলো প্রকৃতির কোনো অজানা নিয়ম বা সত্যের সন্ধান।
  • ইনভেনশন (Invention) হলো সেই জ্ঞান ব্যবহার করে তৈরি নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান।

আইন সাধারণত ইনভেনশনকে সুরক্ষা দেয়, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে নয়।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

  • পেটেন্ট নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায়
  • ডিজাইন শিল্পকে আকর্ষণীয় করে
  • ট্রেডমার্ক ভোক্তার আস্থা সৃষ্টি করে
  • কপিরাইট চলচ্চিত্র, বই, গান, সফটওয়্যার শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে

আজকের বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠছে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের উপর নির্ভর করেই।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি কেবল আইনি ধারণা নয়—এটি সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ভিত্তি। যারা নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, এই আইন তাদের সম্মান ও সুরক্ষা দেয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার মেধা ও সৃষ্টির উপর—আর সেই মেধাকে রক্ষা করাই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইনের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

বাংলাদেশের অপরাধ আইন। বাংলাদেশের অপরাধ আইন দেশটির আইনগত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং সমাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন বিধান ও নির্দেশাবলী অন্তর্ভুক্ত করে। এই প্রবন্ধে, আমরা বাংলাদেশের অপরাধ আইনের মূল দিকগুলি পর্যালোচনা করব, এর কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ বিধি, এবং কার্যকরীতা নিয়ে আলোচনা করব।

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

বাংলাদেশের অপরাধ আইন: সাধারণ ধারণা

বাংলাদেশের অপরাধ আইন মূলত দুটি প্রধান আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়:

  • দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860): এটি অপরাধ ও দণ্ডের একটি মৌলিক আইন যা ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত হয়েছিল। এটি অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধীদের শাস্তি, এবং বিভিন্ন প্রকারের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান উল্লেখ করে।
  • দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০ (Code of Criminal Procedure, 2000): এটি অপরাধের তদন্ত, মামলার পরিচালনা এবং আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নিয়মাবলী নির্ধারণ করে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

 

দণ্ডবিধি, ১৮৬০: প্রধান অপরাধের শ্রেণীবিভাগ

১. অপরাধের সংজ্ঞা ও শ্রেণীবিভাগ:
– মামলা ও গম্ভীর অপরাধ (Cognizable and Non-Cognizable Offenses): মামলা ও গম্ভীর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার অপরাধে পুলিশ কর্তৃক অবিলম্বে তদন্ত করা যেতে পারে, যেমন হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণ। গম্ভীর অপরাধের জন্য পুলিশকে বিচারক বা আদালতের অনুমতি নিতে হয়, যেমন চুরির মত ছোট অপরাধ।
– বিচারিক শাস্তি (Punishments): দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন কারাদণ্ড, জরিমানা, এবং মৃত্যুদণ্ড। কিছু অপরাধ যেমন হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

২. বিশেষ অপরাধের বিধান:
– মামলার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Offenses Against the State): রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ, যেমন বিদ্রোহ বা দেশদ্রোহিতা, দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত।
– সম্পত্তির অপরাধ (Property Crimes): চুরি, ডাকাতি, এবং ভাঙচুরের মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
– ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কিত অপরাধ (Personal Security Offenses): হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং আক্রমণের মতো অপরাধের বিধান।

 

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন | সূচিপত্র

 

দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন, ২০০০: প্রক্রিয়া ও পরিচালনা

১. অপরাধের তদন্ত:
– পুলিশি তদন্ত (Police Investigation): পুলিশ অপরাধের তদন্ত শুরু করতে পারে, সাক্ষ্য সংগ্রহ করে, এবং অপরাধীর গ্রেপ্তার করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে অপরাধের সত্যতা যাচাই করে।
– জমা প্রমাণ (Evidence Collection): সাক্ষ্য, নথি, এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে তদন্তের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়।

২. মামলা পরিচালনা:
– মামলার দায়ের (Filing of Cases): অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
– আদালত প্রক্রিয়া (Court Proceedings): আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান, প্রমাণ জমা, এবং বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আদালত প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় প্রদান করে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন

 

বাংলাদেশে অপরাধ আইন বাস্তবায়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি

১. আইনগত চ্যালেঞ্জ:
– আইনগত ঘাটতি (Legal Gaps): কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ আইনের দুর্বলতা এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা ও অস্বচ্ছতা একটি সমস্যা।
– আইন বাস্তবায়ন (Implementation Issues): আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বল্পতাও একটি সমস্যা।

২. অগ্রগতি ও সংস্কার:
– আইন সংস্কার (Legal Reforms): নতুন আইন ও সংশোধনী কার্যকর করা হচ্ছে যা অপরাধের ন্যায়বিচার ও সঠিকতার উন্নতি করতে সহায়ক।
– আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতা (Legal Education and Awareness): সাধারণ জনগণের আইনগত শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের অপরাধ আইন একটি সুসংহত কাঠামো প্রদান করে যা সমাজে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী শাস্তি নির্ধারণ করে। দণ্ডবিধি ও দণ্ডবিধি (সংশোধনী) আইন অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন, এবং আইনগত শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। আইন সংস্কার ও কার্যকরী বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক। আইন একটি সমাজের নিয়ম, যা নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সুনিশ্চিত করে। কিন্তু আইনের জটিলতা এবং বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে সচেতনতা না থাকার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ আইনি সমস্যায় পড়েন। এই অবস্থায় ‘আইনি পরামর্শ’ তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আইনি পরামর্শ

আইনি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা

আইনের বিভিন্ন শাখা রয়েছে, যেমন ফৌজদারি আইন, দেওয়ানি আইন, পারিবারিক আইন, মানবাধিকার আইন, ইত্যাদি। প্রতিটি আইনের নিজস্ব কিছু নিয়ম ও বিধান রয়েছে যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। যেমন:

– ফৌজদারি আইন: ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এই আইনের প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে মানুষ অনেক সময় অজানা থাকে। এমন সময় আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হয়।

– দেওয়ানি আইন: জমি, সম্পত্তি বা অন্যান্য আর্থিক বিবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়। এই ধরণের মামলায় সফল হতে হলে বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

– পারিবারিক আইন: বিবাহ, তালাক, সম্পত্তি বিভাজন, উত্তরাধিকার, ইত্যাদি নিয়ে পারিবারিক আইন ব্যবহৃত হয়। পারিবারিক বিষয়ে আইনি পরামর্শ পাওয়া বিশেষভাবে জরুরি, কারণ এটি শুধুমাত্র আইনগত নয়, বরং সামাজিক এবং নৈতিক দায়বদ্ধতারও বিষয়।

আইনি পরামর্শ: নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য দিক

আইনি পরামর্শের সুবিধা

১. বিভ্রান্তি দূরীকরণ: আইনি পরামর্শের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের আইনগত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে যায় এবং তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।

২. মামলা ব্যবস্থাপনা: অনেক সময় মানুষ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু মামলার সঠিক পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন। আইনি পরামর্শের মাধ্যমে তারা মামলার যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

৩. সমাধান প্রাপ্তি: আইনজীবীরা শুধুমাত্র মামলার সমাধান করেন না, বরং তারা বিষয়টি মীমাংসা করার বিভিন্ন উপায়ও পরামর্শ দেন। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।

আইনি পরামর্শ গ্রহণের পদ্ধতি

আইনি পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য প্রথমে আপনার সমস্যা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো প্রয়োজন। আপনি যেকোনো আইনি সমস্যা নিয়ে সরাসরি আইনজীবীর সাথে আলোচনা করতে পারেন, অথবা এখনকার ডিজিটাল যুগে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শও পাওয়া সম্ভব। নিম্নলিখিত ধাপগুলি আপনাকে সহায়ক হতে পারে:

– সমস্যা নির্ধারণ: প্রথমে আপনার আইনি সমস্যার ধরন সনাক্ত করুন। এটি হতে পারে জমি-জমা, পারিবারিক বিবাদ, বাণিজ্যিক চুক্তি, অথবা অপরাধ সংক্রান্ত।

– বিশেষজ্ঞ নির্বাচন: প্রতিটি আইনি সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী নির্বাচন করুন।

– পরামর্শের সময় নির্ধারণ: আইনজীবীর সাথে সময় নিয়ে আলোচনা করুন এবং তার থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আইনি’ পরামর্শ নিন।

– প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুতি: আপনার সমস্যার সাথে সম্পর্কিত সকল তথ্য ও প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। যেমন জমির দলিল, চুক্তিপত্র, অভিযোগপত্র ইত্যাদি।

 

পরিচ্ছেদ ২- খাদ্য প্রস্তুতকরণ

 

অনলাইনে আইনি পরামর্শ

বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে অনলাইনে আইনি’ পরামর্শ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনেক প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট রয়েছে যা নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি’ পরামর্শ প্রদান করে। আপনি অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে যাদের কাছে সরাসরি আইনজীবীর সাথে দেখা করার সুযোগ নেই, অথবা যারা দূরবর্তী অঞ্চলে বাস করেন।

আইনি পরামর্শের গুরুত্ব

আইনি ‘পরামর্শ শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন, এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেন। এটি এক ধরনের নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

 

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন | সূচিপত্র

 

‘আইনি’ পরামর্শ’ সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। এটি শুধু আইনি সমস্যার সমাধান করে না, বরং মানুষকে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। আইনি ‘পরামর্শের মাধ্যমেই মানুষ সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। তাই, প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে আইনি ‘পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। এটি একটি সুরক্ষিত ও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

পরিবার একটি মানবিক সম্প্রদায়ের মৌলিক ইউনিট, যা সমাজের নির্মাণে অবদান রাখে। পরিবারের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিবার আইন নামে পরিচিত, যা একটি দেশে পরিবারের পরিবর্তন এবং সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত আইনী বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করে। পরিবার আইন বিষয়ক এই নিবন্ধে বাংলাদেশের পরিবার ‘প্রশাসন এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

পরিবারের গুরুত্ব

পরিবার সমাজের মৌলিক ইউনিট হিসাবে কাজ করে, যা ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংস্কারের সাথে জড়িত হতে পারে। পরিবার মাধ্যমে শিশুরা সমাজের মৌলিক মূল্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক নীতি সম্পর্কে শিখে যায়। এটি আরো পরিবারিক সংস্কৃতি, সংসারের সম্পদ এবং সামাজিক দায়িত্ব উপেক্ষা না করে সৃষ্টি করে।

 

পরিবার আইন: বাংলাদেশের পরিবার প্রশাসন

 

পরিবার আইনের প্রাথমিক মূল

বাংলাদেশে, পরিবার ‘আইনের প্রাথমিক লক্ষ্য বিভিন্ন পরিবারিক সমস্যার সমাধান এবং পরিবার সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা। এটি পরিবার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও অন্যান্য সংস্থানিক অধিকার নির্ধারণ করে, যেমন সম্পদ অধিকার, ভবিষ্যতে বিবাহ’ ও তালাক, অসমত্ব, ও অভিভাবকের অধিকার।

বিবাহ এবং পরিবারের সংরক্ষণ

বিবাহ ও পরিবার সংরক্ষণ পরিবারের অন্যত্র বিভিন্ন সম্পদের সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিবাহ এবং পরিবার সংরক্ষণ আইন পরিবারের স্থিতিকে স্থায়িত করে এবং বাংলাদেশে বিবাহ’ ও তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে।

“পরিবার ‘আইন” বা “ফেমিলি লক” সম্পর্কে আলোচনা করা হলে, এটি বাংলাদেশের সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবার ‘আইন বা ফেমিলি লক বাংলাদেশে পরিবারের নির্দিষ্ট সম্পত্তি, অধিকার, দায়িত্ব, প্রকৃতি ও সংরক্ষণের নির্দেশাবলী নির্ধারণ করে। এই আইন পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সমস্যার সমাধানে ও পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্বের নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

পরিবার আইনের কাঠামো

বাংলাদেশে, পরিবার’ আইন একটি মৌলিক আইনের সেট, যা পরিবারের প্রতিটি দলের অধিকার, দায়িত্ব, অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এটি বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে, যেমন বিবাহ, তালাক, সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন পরিবারিক সম্পত্তির বিতরণ এবং পরিবারিক সম্পদের বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণ।

বিবাহ ও তালাক

পরিবার ‘আইন বাংলাদেশে বিবাহ এবং তালাকের নিয়ম ও বিধি নির্ধারণ করে। এটি বিবাহের সময় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ বিতরণের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী উপস্থাপন করে এবং তালাকের মামলাগুলির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিধিমালা প্রয়োজন ও প্রয়োজন বিষয়টি তারতম্যগ্রহণ করে।

 

অস্ত্র আইন শাস্তিসমূহ প্রস্তাবনা । অস্ত্র আইন, ১৮৭৮। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন [ ধারা ১৯ (ক) ]

 

সন্তানের নিয়ন্ত্রণ

পরিবার’ আইন বাংলাদেশে সন্তানের ‘নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাতিষ্ঠানিকতা সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে। এটি সন্তানের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার প্রাথমিক বা ধর্মীয় প্রশিক্ষণ, ও সন্তানের ভবিষ্যতের সম্পর্কে প্রদান করে।

পরিবারের সংরক্ষণ

পরিবার ‘আইন পরিবারের সংরক্ষণ এবং পরিবারের বাস্তব সম্পত্তি সংরক্ষণ সম্পর্কে নির্দেশাবলী প্রদান করে।

জামিন পেলেন ইমরান খান | সারা সপ্তাহের খবর 

জামিন পেলেন ইমরান খান -খবর দিয়ে শুরু করছি আইন গুরুকুল এর নিউজ আপডেট । আমরা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো  সংকলন করে আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। যারা নিয়মিত সংবাদপত্র বা অন্য মাধ্যমের খবরগুলোতে চোখ রাখার সময় পান না। তাদেরকে এই আয়োজনটি হালনাগাদ থাকতে সাহায্য করবে।

সারা সপ্তাহের খবর

জামিন পেলেন ইমরান খান

 

জামিন পেলেন ইমরান খান | সারা সপ্তাহের খবর 

 

আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দুই সদস্যের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বেঞ্চ ২১ মে শুক্রবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানের দুই সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেছেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের গ্রেপ্তারকে ‘অবৈধ ও বেআইনি’ ঘোষণার পরদিন হাইকোর্টের এই আদেশ এল।

এবার ইমরানের দলের ভাইস চেয়ারম্যান কুরেশি গ্রেপ্তার

এবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কুরেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুরেশিকে গ্রেপ্তার করে ইসলামাবাদ পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, তাঁকে জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলেই কুরেশিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল পুলিশ। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। তবে ভোরে তাঁকে তাঁর ইসলামাবাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।

বাঘারপাড়ার ৪ আসামির রায় যে কোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের বাঘারপাড়ার মো. আমজাদ হোসেন মোল্লাসহ চার আসামির রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (১১ মে) এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

 

মাকে কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যার দায়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মা আমেনা বেগম ওরফে ভেলবা আক্তারকে (৬০) কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার দায়ে রেদওয়ান হোসেন মিলন (২৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

শেখ হাসিনার বহরে হামলা: ৬ আসামির হাইকোর্টে জামিন 

২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় চার বছরের দণ্ডিত ছয় আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১০ মে) বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের এক বছরের জামিন দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গাজী মহসীন ও শাহানারা পারভীন বকুল।

সাংবাদিকের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে, ১২ বছর পর কনস্টেবলের সাজা

নড়াইলের এক সাংবাদিকের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করায় দায়ে পুলিশ কনস্টেবল মো. রবিউল ইসলাম ও নিপা খানম দম্পতিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিকেলে নড়াইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন এ রায় দেন। পুলিশ কনস্টেবল রবিউল ইসলাম বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় কর্মরত। তার বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে।

গ্রেপ্তারের সময় আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল: ইমরান খান

 

জামিন পেলেন ইমরান খান | সারা সপ্তাহের খবর 

 

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, গ্রেপ্তার করার পর তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো—ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) সদস্যরা। তবে গ্রেপ্তার করার সময় তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। শুক্রবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় তাঁর দুই সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। ওই জামিন শুনানির জন্য এই আদালতে হাজির ছিলেন ইমরান খান।

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী | সারা সপ্তাহের খবর 

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী -খবর দিয়ে শুরু করছি আইন গুরুকুল এর নিউজ আপডেট । আমরা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো  সংকলন করে আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। যারা নিয়মিত সংবাদপত্র বা অন্য মাধ্যমের খবরগুলোতে চোখ রাখার সময় পান না। তাদেরকে এই আয়োজনটি হালনাগাদ থাকতে সাহায্য করবে।

সারা সপ্তাহের খবর

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী

 

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী | সারা সপ্তাহের খবর 

 

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দল হিসেবে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে জামায়াত ইসলামীর বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধেনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার (৬ মে) রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিনিয়র সহকারী জজদের ১৪৮তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্ধোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিচারপতি জয়নুলের জামিন, ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন। বুধবার (৩ মে)  ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আাদালতের বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞার আদালত এ আদেশ দেন। তবে তার ছেলে মো. ফয়সাল আবেদীন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

৫ মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি নীরবের জামিন

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবকে নাশকতার পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৩ মে) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের হাইকোর্ট তাকে পৃথক আবেদনে জামিন দেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

বিএনপি নেতা দুলুর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দই থাকবে

 বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের জব্দ করা ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (০৩ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

 

বিএনপির হামলায় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী আহত

ভোট নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিন্থী আইনজীবীদের হামলায় আহত হয়েছেন আওয়ামীপন্থী এক আইনজীবী। বুধবার (৩ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত আইনজীবী আতাউর রহমান আওয়ামী লীগের পল্লবী থানার আইন বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

টিপু-প্রীতি হত্যায় জামিন বাতিল

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি হত্যা মামলার তিন আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (০৩ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন। তিন আসামি হলেন—মারুফ খান, মাহাবুব রহমান টিটু ও মারুফ রেজা সাগর।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না

 

ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে: আইনমন্ত্রী | সারা সপ্তাহের খবর 

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। একইসঙ্গে আইনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের জন্য নয়, বরং সাইবার অপরাধ দমনের জন্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বুধবার (৩ মে) দুপুরে রাজধারীর ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

৫ মামলায় হাইকোর্টে মামুনুল হকের জামিন

২০১৩ ও ২০২১ সালে ঢাকার পল্টন ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা পাঁচটি মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল মঞ্জুর করে বুধবার (৩ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এক নজরে বিঘা, কাঠা, একর, শতক ও মেট্রিক একক রূপান্তর সূত্র

ভূমি বা জমাজমির পরিমাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমি কেনা-বেচা, নামজারি, দলিল, খতিয়ান, কিংবা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যেকোনো কাজে জমির পরিমাপের সঠিক হিসাব জানা না থাকলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আপনি পেশাদার সার্ভেয়ার না হলেও বিঘা, কাঠা, শতক, একর, বর্গফুট ও বর্গমিটার—এই এককগুলোর মৌলিক সূত্র জানা অত্যন্ত জরুরি।

নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত ভূমি পরিমাপের প্রয়োজনীয় সূত্রগুলো এক নজরে দেওয়া হলো।

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

এক নজরে বিঘা কাঠা, একর, শতক সূত্র

 

একর ও শতক (Square Meter ভিত্তিক)

  • ১ চেইন = ২০.১২ মিটার
  • ১০ বর্গচেইন = ১ একর
  • ১ একর = ৪০৪৭ বর্গমিটার
  • ১ একর = ১০০ শতক
  • ১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার

বিঘা ও কাঠার মৌলিক সূত্র

  • ১ বিঘা = ২০ কাঠা
  • ১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ বিঘা = ৩৩ শতক (প্রায়)
  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিংক

বর্গহাত হিসাবে

  • ১ বিঘা (২০ কাঠা) = ৬৪০০ বর্গহাত
  • ১ কাঠা = ৩২০ বর্গহাত
  • ১ ছটাক = ২০ বর্গহাত

প্রচলিত ভাঙন একক

  • ৪ কাক = ১ কড়া
  • ৪ কড়া = ১ গণ্ডা
  • ২০ গণ্ডা = ১ ছটাক
  • ১৬ ছটাক = ১ কাঠা
  • ২০ কাঠা = ১ বিঘা
  • ১ বিঘা = ১০২,৪০০ কাক

রৈখিক পরিমাপ (হাত ভিত্তিক)

  • ১ কাঠা = ৪ হাত
  • ১ ছটাক = ০.২৫ হাত
  • ১ গণ্ডা = ০.০১২৫ হাত
  • ১ কড়া = ০.০০৩১ হাত
  • ১ কাক = ০.০০০৭ হাত

বর্গফুট হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
  • ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
  • ১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

বর্গগজ হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
  • ১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ
  • ১ ছটাক = ৫ বর্গগজ

বর্গমিটার হিসাবে

  • ১ বিঘা = ১৩৩৮ বর্গমিটার
  • ১ কাঠা = ৬৬.৯ বর্গমিটার
  • ১ ছটাক = ৪.১৮ বর্গমিটার

হেক্টর ও এয়ার রূপান্তর

  • ১ হেক্টর = ১০,০০০ বর্গমিটার
  • ১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
  • ১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
  • ১ হেক্টর = ১০০ এয়ার
  • ১ এয়ার ≈ ২৪.৯ বিঘা

দৈর্ঘ্য রূপান্তর

  • ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি
  • ১ মিটার = ৩.২৮ ফুট
  • ১ মিটার = ১.০৯ গজ

 

এক নজরে বিঘা কাঠার সূত্র

 

এই রূপান্তর সূত্রগুলো জানা থাকলে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময়, দলিল লেখার সময় কিংবা নামজারি ও জরিপ সংক্রান্ত কাজে আপনি সহজেই সঠিক হিসাব করতে পারবেন এবং প্রতারণা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। ভূমি বিষয়ে সচেতন থাকাই আপনার সম্পদের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ।

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি নিয়ে আজকের আলোচনা। ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:
(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান”( Standerd Measurement) বলে পরিচিত।

উক্ত পরিমাপের কতিপয় নিম্নে প্রদান করা হলোঃ
ইঞ্চি, ফুট ও গজঃ
১২” ইঞ্চি = ১ ফুট
৩ ফুট= ১ গজ
(৩) ভূমি যে কোন সাইজের কেন ভূমির দের্ঘ্য ও প্রস্থে যদি ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে এটা ১.০০ একর (এক একর) হবে।
যেমনঃ ভূমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০ গজ×২২ গজ= ৪৮৪০ বর্গগজ।

 

ভূমির পরিমাণ পদ্ধতি

 

গান্টার শিকল জরীপঃ

ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক এবং সহজ করার জন্য ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্যে ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই শিকলের নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। আমাদের দেশে গান্টার শিকল দ্বারা জমি জরিপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। একর, শতক এবং মাইলষ্টোন বসানোর জন্য গান্টার শিকল অত্যন্ত উপযোগী। এই শিকলের দৈর্ঘ্য ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট।

গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপের সুবিধার্থে একে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয় থাকে। এর প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

প্রতি এক লিঙ্ক = ৭.৯২ ইঞ্চি
দৈর্ঘ্য ১০ চেইন ×প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর
গান্টার শিকলে ১০ লিঙ্ক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পর পর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয় (নস ফুলি)
২০ লিঙ্ক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-
৩০ লিঙ্ক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয়-

আমাদের দেশে জমি-জমা মাপ ঝোকের সময় চেইনের সাথে ফিতাও ব্যবহার করা হয় সরকারি ভাবে ভূমি মাপার সময় চেইন ব্যবহার করা হয় এবং আমিন সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ ভূমি মাপার সময় ফিতা ব্যবহার করেন ভূমির পরিমান বেশি হলে চেইন এবং কম হলে ফিতা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনকবিভিন্ন প্রকারের আঞ্চলিক পরিমাপ।

 

কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে পরিমাপ:

আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয় সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান

কানিঃ

কানি দুই প্রকার যথা-

(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি

 

মৌজা:

ভূমি জরিপের ভৌগলিক ইউনিটকে মৌজা রাজস্ব নির্ধারণ এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য এক ইউনিট জমির ভৌগোলিক আভিব্যক্তি হলো মৌজা একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট-বড় হয় ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের(CS) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিতি নম্বর নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০ টিদাগ নম্বর।

একটি মৌজার বিভিন্ন মালিকের বা একই মালিকের বিভিন্ন শ্রেণিভূক্ত জমিকে নকশায় যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকে দাগ বলে মৌজা মাপের উত্তর-পশ্চিম কোন থেকে দাগ নম্বর প্রদান শুরু হয় এব দক্ষিন-পূর্ব কোনে এসে শেষ হয়।

 

দাখিলা:

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের পর তহসিল অফিস হতে ভূমি মালিককে যে রশিদ দেয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

 

পর্চা:

জরিপের খানাপুরি স্তর পযন্ত কাজ শেষ করে খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করে এর অনুলিপি মালিকের নিকট বিলি করা হয় খতিয়ানের এই অনুরিপি ‘পর্চা’ নামে পরিচিত।

 

খতিয়ান:

একটি মৌজায় এক বা একাধিক ভূমি মালিকানার বিবরণ তথা ভূমির পরিমান, শ্রেণি,হিস্যা ইত্যাদি যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

হাল খতিয়ান:

কোন এলাকার সর্বশেষ জরিপে খতিয়ানের রেকর্ড প্রস্তুত হওয়ার পর সরকার দ্বারা বিঙ্গপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত হয়ে বর্তমানে চালু আছে এমন খতিয়ানকে হাল খতিয়ান বলে

সাবেক খতিয়ান:

হাল খতিয়ানের পূর্ব পযন্ত চালু খতিয়ানকে সাবেক খতিয়ান বলে,যা বর্তমানে চালু নেই তবে এর গুরুত্ব অনেক বিধায় এর সংরক্ষন দরকার
সিএস খতিয়ান: সিএস খতিয়ানের পূর্ণরুপ Cadastral Survey (দেশব্যাপি জরিপ) খতিয়ান ১৯১০-১৯২০ সালে জরিপ করে এই খতিয়ান তৈরী করা হয়েছিল।

এস এ খতিয়ান:

এসএ খতিয়ান এর পূর্নরুপ State Acquisition (রাষ্ট্রকতৃক অর্জন) খতিয়ান টেস্ট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি আইন প্রণয়ন করে ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয় জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর যে খতিয়ান তৈরী করা হয় তাকে বলে এসএ খতিয়ান ১৯৫৬ সালের জরিপে এ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

আরএস খতিয়ান:

আরএস-এর অর্থ হলো Revisional Settlement বা সংশোধণী জরিপ এসএ খতিয়ানের পর ঐ আইনের ১৪৪ ধারা অনুসারে যে খতিয়ান প্রকাশিত হয় (বা হবে) তাকে আর এস খাতয়য়ান বলে।

হোল্ডিং নম্বার:

খতিয়ান শব্দের অর্থ যা হোল্ডিং শব্দের অর্থ তাই ১৯৫০ সালে State Acquisition(SA) আইন অনুসারে ‘হোল্ডিং’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহন:

কোন স্থবর সম্পত্তি সরকারী প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে আবশ্যক হলে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রসাসক কতৃক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহনের বিধান ভূমি অধিগ্রহন নামে পরিচিত।

 

অর্পিত সম্পত্তি:

১৯৫৬ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্থনি নাগরিক দেশ ছেড়ে ভারকে গমন করে পাকিস্থান প্রতিরক্ষা সার্ভিস কতৃক বিধি মোতাবেক তাদের শত্রু বলে ঘোসণা করা হয় এবং তাদের এদেশে রেখে যাওযা সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলে ১৯৭৪ সালে উক্ত সম্পুত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি নামকরণ করা হয়
জমির পরিমাপ:-কোন অজানা কারনে বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন কাজই কঠিন ও পেঁচানো এক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হল দেশের একেক জাইগায় একেক পরিমানগত ভিত্তির উপর নির্ভর করে ভূমি পরিমাপ করা হয় তবে সর্বজজৱনগ্রাহ এ সরকার ঘোষিত পরিমান পদ্ধাতি নিচে উটস্থাপন করা হয়।

 

ভূমি পরিমপ করা হয়:

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

ক. ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক,
খ. কাঠা,
গ. বিঘা ও
ঘ. এককের ভিত্তিতেভূমি যদি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয়, তাহলে ১ একর হবে যেমন: দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ সুতরাং ২২০*২২ গজ=৪৮৪০ বর্গগজ বা এক একর। একরএই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান” ( Standard Measurement) বলে পরিচিত।

 

একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক

(২) কাঠা,

(৩) বিঘা এবং

(৪)  ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক।

 

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক:

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট
১ শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ
৫ শতাংশ = ৩ কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট
১০ শতাংশ = ৬ কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট
১০০ শতাংশ = ১ একর =৪৩৫৬০ বর্গফুট

 

কাঠা পরিমাপঃ

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট
১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ
১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ
২০ কাঠা = ১ বিঘা
৬০.৫ কাঠা =১ একর।

 

একরের পরিমাপঃ

১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,৮৪০ বর্গগজ
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন = ১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

 

বিঘা পরিমাপঃ

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ
১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ
১ বিঘা = ২০ কাঠা
৩ বিঘা ৮ ছটাক = ১.০০ একর।

 

লিঙ্ক পরিমাপঃ

১লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি /৭.৯২ ইঞ্চি
১লিঙ্ক =০.৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ১ গান্টার শিকল
১০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ শতক
১,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = ১ একর

 

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপ:

১ কানি = ২০ গন্ডা
১ গন্ডা = ২ শতক
১ শতক =২ কড়া
১ কড়া = ৩ কন্ট
১ কন্ট = ২০ তিল

 

ফুট এর হিসাব:

১ কানি = ১৭২৮০ বগফুট
১ গন্ডা = ৮৬৪ বফু
১ শতক= ৪৩২ বফু
১ কড়া = ২১৬ বফু
১ কন্ট = ৭২ বফু
১ তিল= ৩.৬ বফুবর্গগজ

 

বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ ও একরের পরিমাণঃ

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট = ১ বিঘা
৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট = ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
৪৫.০৯ বর্গফুট= ১ কাঠা
২০ বর্গহাত = ১ ছটাকা
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

এবার আপনি নিজেই হিসাব করে দেখুন আপনার ক্রয়কৃত বা পৈত্রিক জায়গা-জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন কত?

নিন্মে কিছু সব সময় আলোচনা হয় এমন জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন বা পরিমাপ সর্ম্পকে ধারনা দেওয়া হলোঃ-

১. একটি ৩ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ২১৬০ স্কয়ার বর্গফুট
২. একটি ৫ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৩৬০০ স্কয়ার বর্গফুট
৩. একটি ১০ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৭২০০ স্কয়ার বর্গফুটএখন আপনি ভেবে দেখুন আপনি কত স্কয়ার বর্গফুটের বাসা তৈরী করবেন বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ইমারত নিমার্ণ আইনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হয় তাহলে এই এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রেখে আপনি যে প্লট কিনেছেন তাতে কত স্কয়ার বর্গফুটের একটি বাড়ী তৈরী করা যাবে তা ভেবে দেখুন অর্থাৎ আপনি ৩ কাঠার প্লটে ১৪৪০ স্কয়ার বর্গফুটের বাড়ী করে বাকী ৭২০ স্কয়ার বর্গফুট জায়গা খালি রাখতে হবে বাড়ীর চারপাশে ড্রেন ও আলো বাতাসের জন্যধরুন বর্তমানে যারা ফ্ল্যাট কেনেন তাদের ক্ষেত্রে-

যেমন:-
১. ৯০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৬০০ থেকে ৬৫০ স্কয়ার বর্গফুট
২. ১২০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৭৮০ থেকে ৮৫০ স্কয়ার বর্গফুট৩. ১৬০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ১২০০ থেকে ১২৫০ স্কয়ার বর্গফুট।

 

সরকারি ভূমি সেবা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান:

– রেকর্ডরুম হতে কি কি সেবা প্রদান করা হয় ?

উত্তরঃ রেকর্ডরুম হতে সি.এস, পেটি, এস.এ , আর.এস পর্চার সত্যায়িত অনুলিপি, নক্শার মুদ্রিত কপি এবং নির্বাহী কোর্টের অবিকল সত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করা হয়

– সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা কত দিনে সরবরাহ করা হয় ?

উত্তরঃ সাধারণ ও জরুরী পর্চা/নক্শা ৭ কার্য দিবস এবং জরুরী নক্শা/পর্চা ৩ কার্য দিবসে সরবরাহ করা হয়।

– প্রশ্নঃ জরুরী পর্চা/নক্শা ও সাধারণ পর্চা/নক্শায় কত টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয় ?

উত্তরঃ জরুরী পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (১৬+২)= ১৮/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ পর্চার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রতি (৮+১)= ৯/- টাকার কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। মুদ্রিত নক্শা জরুরী ১০/- টাকার কোর্ট ফি এবং সাধারণ ৫/- টাকার কোর্ট ফি আবেদনের সাথে জমাসহ চালানের মাধ্যমে নক্শা প্রতি ৩৫০/- টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়কালেক্টরেট রেকর্ডরুম থেকে পর্চার (খতিয়ান) জাবেদা নকল/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ সরবরাহের নিয়মাবলীঃ

০১. প্রতিদিন (বৃহস্পতিবার বাদে) সকাল ১১.০০ টা থেকে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রেকর্ডরুম এর কক্ষের সামনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। সাথে সাথে পর্চা (খতিয়ান)/অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) সরবরাহের তারিখ আবেদনকারীকে সীল মোহরকৃত রশিদে জানিয়ে দেয়া হয়।

০২. প্রস্ত্তুতকৃত পর্চা (খতিয়ান) অন্যান্য সার্টিফাইড কপি/মৌজা নকশা (ম্যাপ) নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত একই স্থানে আবেদনকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কোন কারণে আবেদন বাতিল হলে বা বিবেচনা করা না গেলে তা বিতরণের সময় আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়:

ক)সাধারণ সময়ে অর্থা আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ৮ (আট) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ১ (এক) টাকা

খ)জরুরী ভিত্তিতে অর্থাৎ আবেদন প্রাপ্তির পরদিন থেকে ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে পেতে চাইলেঃ
# আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে ১৬ (ষোল) টাকা
# প্রতি খতিয়ানের জন্য কোর্ট ফি লাগবে ২ (দুই) টাকা

গ)হাল (মুদ্রিত) পর্চা পেতে যা লাগবে
আবেদনে কোর্ট ফি লাগবে, জরুরী ১৬/- টাকার কোর্ট ফি, প্রতিটি পর্চার জন্য ৬০/- টাকার কোর্ট ফি।

০৩ মৌজা নকশার (ম্যাপ) জন্য সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ০৫(পাঁচ) টাকা, জরুরী আবেদনের ক্ষেত্রে ১০/-(দশ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন বিবেচনা করা গেলে ম্যাপের জন্য যা খরচ লাগবেঃ-

মৌজা নক্সা প্রতিটি ৩৫০/- টাকা, জেলা ম্যাপ প্রতিটি (সাদা) ৫০০-টাকা, (রঙ্গিন) ৭৫০/- টাকা, বাংলাদেশ ম্যাপ প্রতিটি ১২৫০/- টাকা চালান জমা দিতে হয়। সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখে নকশা সরবরাহ করা হয় বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

# রেকর্ড রুমে কোন নগদ টাকা পয়সার বিনিময়ে পর্চা/সার্টিফাইড কপি দেয়া হয় না। শুধু কোর্ট ফি দিয়ে নকল নিতে হয়
# কেউ টাকা পয়সা চাইলে বা দালাল চক্র উৎপাত করলে নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরাসরি অবহিত করুনস ং ক্ষি প্ত ত থ্য

খতিয়ান হলো জরিপ শেষে প্রস্তুতকৃত জমির লিখিত হিসাবের দলিল এখানে জমির পরিমাণ, মালিক ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষিত থাকে

– সিএস (CS)-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.

– CS জরিপ সম্পন্ন হয়- ১৯১০-১৯২০.

– SA খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান

– SA খতিয়ান প্রস্তুত হয় ১৯৫৬ সালে

– ২০ বছর পর পর ভূমি জরিপ (ভূমিশুমারি) করা হয়

– বাংলাদেশে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হয় ১৯৫০ সালে

– আরএস খতিয়ান মানে হলো Revisional Survey.

– RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে

– নামজারি অর্থ হলো জমির সর্বশেষ মালিকের নামে দলিলপত্র হালনাগাদ করা

– কোনো পরিবার বা সংস্থা ১০০ বিঘার বেশি জমি দখলে রাখতে পারবে না

– ১০০ বিঘা সমান ৩৩.৩৩ একর

– ভূমির পরিমাপ হলো ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক, কাঠা, বিঘা ও একর

– ভূমির যদি দৈর্ঘ্য প্রস্থে ৪৮৪০ বর্গগজ হয় তাহলে ১ একর হবে

– ৪৮৪০ বর্গগজে ১০০ শতাংশ বা ১ একর

 

সার্টিফিকেট কেস:

ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়ার দায়ে আপনার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট কেস হতে পারে। এতে আপনার বাপ দাদার ভোগ দখলকৃত জমি নিলাম হয়ে যেতে পারে। সুতরাং এ দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করুন। প্রয়োজনে সার্টিফিকেট অফিসার/সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগ করুন।
২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনা মওকুফ
হাল নাগাদ জমির বিবরণী দাখিল করেছেন, শুধুমাত্র কৃষিজমি যদি ২৫ বিঘা বা তার নিচে হয় তাহলে খাজনা মওকুফের সুযোগ নিন। আর এ কাজে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ৫ (পাঁচ) টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আবেদন করুন।

খতিয়ানে (Record of Rights) খতিয়ান নম্বর, জেলা ও মৌজার নাম লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়া একাধিক কলামে জমির মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, দাগ নং (Plot Number), জমির শ্রেণী, পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। খতিয়ানে কোন এক মৌজায় কোন একজন মালিকের জমির বিবরণ থাকে। আবার একটি খতিয়ানে একাধিক মালিকের জমির বিবরণও থাকতে পারে। এ খতিয়ানগুলো সাধারণত মৌজা ওয়ারী তৈরী করা হয়। অর্থাৎ কোন একটি মৌজার সকল খতিয়ান একসাথে বাধাই করা হয়। এজন্য রেকর্ড বইকে অনেকে সাধারণ বা প্রচলিতভাবে Volume- ও বলে থাকেন।

পরচাযখন পৃথক একটি কাগজে খতিয়ানের অনুলিপি তৈরী করা হয় তখন তাকে পরচা বলা হয়। এই অনুলিপি সাধারণত হাতে লিখে বা কম্পোজ করে তৈরী হয়ে থাকে। অনুলিপি যখন রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয় তখন তাকে নকল বা Certified Copy বলে। সহজ কথায় পরচা হল হাতে লিখিত বা Compose কৃত খতিয়ানের কপি বা খসড়ার রূপ।আমরা সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা’র নাম শুনে থাকি। এগুলো কী?

পরচা কী, সে সম্বন্ধে আমরা একটি ধারণা ইতোমধ্যেই পেয়েছি। সিএস, এসএ এবং আরএস পরচা হল আসলে বিভিন্ন রেকর্ডের খসড়া বা অনুলিপি বা কপি। কাজেই পরচা সিএস, এসএ, আরএস বা মহানগরে জরিপ এই ৪ প্রকার হতে পারে। এছাড়া জরিপ চলা কালে প্রাথমিকভাবে হাতে লেখা একটি খসড়া বিবরণ যাচাইয়ের জন্য জমির মালিককে দেওয়া হয়। একে মাঠ পরচা বা হাত পরচা বলে।

পরচা কোথায় পাওয়া যায়?

পরচা বা রেকর্ডের সহি মুহুরী নকল (Certified Copy) পাওয়া যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (DC office)- এর রেকর্ডরুমে। নির্ধারিত ফী সহ আবেদন করলে রেকর্ড রুম থেকে পরচা সরবরাহ করা হয়। পরচা কখনো কোন দালালের কাছ থেকে নেওয়া যৌক্তিক নয়। এতে ভুল থাকতে পারে। কেবলমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ পরচা-ই আসল বা Authentic.পরচা কেন প্রয়োজন?

জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবরণ, জমির খতিয়ান-দাগ, অংশ, হিসসা, শ্রেণী ইত্যাদি জানার জন্য পরচা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার সময় পরচা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। পরচা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি (ল্যান্ড) অফিস বা রের্কডরুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ওয়ারিশ সনদ

উত্তরাধিকার মুসলিম আইনের গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পরেই তার সম্পদের উপর উত্তরাধিকার প্রাপ্তি/ অপ্রাপ্তির প্রশ্ন আসে। তখন ওয়ারিশ সনদের গুরুত্বও মুখ্য হয়ে ওঠে।ওয়ারিশ সনদ সাধারণত দেওয়ানী আদালত প্রেরিত যা একজন মৃত ব্যক্তির আইনী উত্তরাধিকারগণ পেয়ে থাকে। যদি উইল না করেই কোন ব্যক্তি মারা যান, কোর্ট ওয়ারিশ সনদ প্রদান পূর্বক মৃত ব্যক্তির ঋণ/কর্জ নির্ধারণ করতে পারে।কেন দরকার?

সনদটি উত্তরাধিকারগণকে তাদের নামে কোন সম্পত্তি হস্তান্তরিত আছে কিনা, বা উত্তরাধিকার যোগ্য কতটুকু সম্পদ আছে তা সত্যায়ন করে থাকে। উত্তরাধিকারী/সুবিধাভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়। ওয়ারিশ সনদ কার্যকরী, কিন্তু সব সময় এর বলে মৃতের সম্পদে উত্তরাধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রয়োজন, একটি মৃত্যু সনদ এবং অনাপত্তি সনদ। যে আদালতের এখতিয়ারে সম্পত্তি রয়েছে, সেখানে আবেদন জারি করতে হয়। ওয়ারিশ সনদের নিয়ম-কানুন উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (The Succession Act, 1925) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

পাওয়ার অব এটর্নি কী?

হাবিব সাহেব চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। কিন্তু দেশে কিছু জরুরী কাজ রয়েছে যেখানে তাকে প্রয়োজন হতে পারে। কী করবেন কী করবেন ভাবতে ভাবতে মাথায় এলো পাওয়ার অব এটর্নির চিন্তা। এর মাধ্যমে হতে পারে তার সমস্যার সমাধান। পাওয়ার অব এটর্নি এমন এক ধরণের দলিল যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে কোন কাজ করার ক্ষমতা দিতে পারে তার পক্ষ থেকে।

সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, ভাড়া আদায় করা, আইনগত কাজ পরিচালনা করা সহ আরো নানা ক্ষমতা এর মাধ্যমে দেয়া যায়। পাওয়ার অব এটর্নিতে মূল মালিকের মতো প্রায় একই ক্ষমতা পাওয়ার গ্রহীতার থাকতে পারে।সবাই এই ক্ষমতা নিতে পারেনা। চুক্তি করার যোগ্যতা ( নির্দিষ্ট বয়স, সুস্থতা ) থাকলেই শুধুমাত্র এই ক্ষমতা নেয়া সম্ভব।

মৃত্যু, উদ্দেশ্য সাধন, মেয়াদের অবসান প্রভৃতি কারণে পাওয়ার অব এটর্নির অবসান হতে পারে।তফসিল (Schedule)।

 

তফসিল (Schedule):

জমিজমার ক্ষেত্রে তফসিল বলতে আসলে ভূমির পরিচয়কে বুঝায়। অর্থাৎ জমিটি কোথায়, এর মালিক কে ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। তফসিলে জেলার নাম, উপজেলা বা থানার নাম, মৌজার নাম, জমির দাগ-খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করা হয়।এতে অনেক সময় জমির পরিমাণ, শ্রেণী এবং মালিকানার বর্ণনাও থাকে।

দাগনম্বর :

এটি আসলে কোন সরলরেখা বা বক্ররেখা নয়। দাগ হচ্ছে আসলে জমির Plot Number। আমরা জানি সাধারণত মাপজোকের মাধ্যমে জমিকে একাধিক অংশে বিভক্ত করা হয়। এর প্রতিটি খন্ডকে দাগ বা Plot বলে। জরিপের সময় এরকম প্রত্যেক খন্ড জমিকে একটি নম্বর দ্বারা সূচিত করা হয়। এই নম্বরকেই দাগ নম্বর বলে।

জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন রিমান্ডে | সারা সপ্তাহের খবর 

জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন রিমান্ডে -খবর দিয়ে শুরু করছি আইন গুরুকুল এর নিউজ আপডেট । আমরা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো  সংকলন করে আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। যারা নিয়মিত সংবাদপত্র বা অন্য মাধ্যমের খবরগুলোতে চোখ রাখার সময় পান না। তাদেরকে এই আয়োজনটি হালনাগাদ থাকতে সাহায্য করবে।

সারা সপ্তাহের খবর

জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন রিমান্ডে

 

জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন রিমান্ডে | সারা সপ্তাহের খবর 

 

 রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে দুই জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় স্বপন নামে এক আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ এ রিমান্ড আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক শামছুল আলম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার একদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

নুরের নামে মামলা খারিজ

ফেসবুক লাইভে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে পল্টন থানায় হওয়া এক মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নামে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াৎ এ আদেশ দেন। এদিন নুরের নামে দেওয়া চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার দিন ধার্য ছিল। আদালত প্রতিবেদন আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না থাকায় মামলা খারিজ করে আদেশ দেন।

ফেনীতে মাদক মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

ফেনীতে মাদক মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই মামলায় আরেকটি ধারায় ওই দুই আসামিকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

শাকিব খানের মামলায় প্রযোজক রহমত উল্লাহর জামিন

চিত্রনায়ক শাকিব খানের করা চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন প্রযোজক রহমত উল্লাহ।  বুধবার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিব তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এদিন আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রহমত উল্লাহ। শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।  একইসঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দেন আদালত।

লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন সাজা

লালমনিরহাট জেলায় সামছুল হক নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে হবিবুর আলী মণ্ডল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।

রানা প্লাজা ধসের ১০ বছরেও শেষ হয়নি বিচার 

 

জাপানি পর্যটকের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন রিমান্ডে | সারা সপ্তাহের খবর 

 

সাভারের রানা প্লাজা ধস ছিল দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এক ট্রাজেডি, যে ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাড়া দিয়েছিল বিশ্ব মানবতাকেও। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল বিদেশিরাও। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন। এরপর পেরিয়ে গেছে এক দশক। এই সময়েও শেষ হয়নি বিচার।

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সোনা আনায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ভিজিট ভিসায় দুবাই ভ্রমণে ট্যাক্স ফাঁকি দিতে গিয়ে নিজের পায়ুপথে সোনাসহ গ্রেফতার প্রবাসী মোয়াজ্জেম হোসাইন ও তার ছেলে মো. রাজিব খালাশী বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে মোয়াজ্জেম জামিনে এবং মামলার শুরু থেকে আসামি রাজিব পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

সারাদেশে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হলো ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৩’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ, বিনামূল্যে আইনি সেবার দ্বার উন্মোচন’। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত একটি র্যালি হয়।

আইনানুগ প্রতিনিধি | চুক্তি আইন

আইনানুগ প্রতিনিধি আজকের ভিডিও এর আলোচনার বিষয়। “চুক্তি আইন – প্রতিনিধি [ Law of Contracts on Agency ] ” ক্লাসটিতে “চুক্তি আইন” সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরা হবে। চুক্তি আইন নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য “আইন শিক্ষা গুরুকুল” নিয়ে এসেছে “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজ। “চুক্তি আইন [ Contract Law ]” সিরিজটির মাধ্যমে আপনারা খুব সহজেই “চুক্তি আইন” সংক্রান্ত সকল বিষয়বস্তু খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “আইনানুগ প্রতিনিধি” অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি আইনানুগভাবে কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করেন উক্ত ব্যক্তি; এবং যিনি কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনার সহিত সম্পৃক্ত থাকেন, এবং যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রতিনিধিত্বশীল বৈশিষ্ট্যে কার্য সম্পাদন করেন সেই ক্ষেত্রে উক্ত পক্ষের মৃত্যু হইলে যেই ব্যক্তির উপর উক্ত সম্পত্তি বর্তায় উক্ত ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(খ) “আদালত” অর্থ জেলাজজ আদালত, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন জেলাজজ আদালতের কার্য সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত অতিরিক্ত জেলাজজ আদালতও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

 

আইনানুগ প্রতিনিধি

 

(গ) “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তি বহির্ভূত আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত বিরোধ সম্পর্কিত কোন সালিস যাহা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক বিরোধ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে কোন একটি পক্ষ-

(অ) একজন ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের নাগরিক, কিংবা ঐ দেশের স্বাভাবিক বাসিন্দা হয়; অথবা

(আ) বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রে নিগমবন্ধ সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হয়; অথবা

(ই) কোম্পানী বা সঙ্ঘ বা ব্যক্তি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান যাহার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশে প্রয়োগ হয়; অথবা

(ঈ) কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সরকার হয়;

(ঘ) “তামাদি আইন” অর্থ Limitation Act, 1908 (IX of 1908);

(ঙ) “দেওয়ানী কার্যবিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908);

(চ) “নির্দিষ্ট রাষ্ট্র” অর্থ ধারা ৪৭ এর অধীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্র;

(ছ) “পক্ষ” অর্থ সালিস চুক্তির কোন পক্ষ;

(জ) “প্রধান বিচারপতি” অর্থ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি;

(ঝ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি;

(ঞ) “ব্যক্তি” অর্থে সংবিধিবদ্ধ বা অন্যবিধ সংস্থা, কোম্পানী, সমিতি এবং অংশীদারী কারবারও (Partnership Firm) অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ট) “বিদেশী সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ এমন কোন সালিসী রোয়েদাদ যাহা কোন সালিস চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত হয়,

তবে কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রদত্ত কোন সালিসী রোয়েদাদ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(ঠ) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ Evidence Act, 1872 (Act I of 1872);

(ড) “সালিস” অর্থ কোন সালিস যাহা স্থায়ী কোন সালিসী সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত হউক বা না হউক;

(ঢ) “সালিস চুক্তি” অর্থ সুষ্পষ্টভাবে বিধৃত চুক্তিগত বা চুক্তিবহির্ভূতভাবে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আইনানুগ সম্পর্ক হইতে উদ্ভূত কিংবা উদ্ভব হইতে পারে এইরূপ সকল বা যে কোন বিষয়ের বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য উক্ত আইনানুগ সম্পর্কের পক্ষগণ কর্তৃক সালিসে প্রেরণ করা সম্পর্কিত চুক্তি;

(ণ) “সালিসী ট্রাইব্যুনাল” অর্থ একমাত্র সালিসকারী বা সালিসকারীদের প্যানেল;

(ত) “সালিসী রোয়েদাদ” অর্থ বিরোধের বিষয়বস্তুর উপর সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত;

(থ) “হাইকোর্ট বিভাগ” অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

 

চুক্তির জামিন

 

আইনানুগ প্রতিনিধি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

Law Class Online, Free Online Law Courses, Law Classes in High School, Law Classes in College, International Law Class